শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপন পদ্ধতি নেই। ডেঙ্গির বাড়বাড়ন্তের মধ্যেও যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকছে আবর্জনা। রোজ সাফাইকর্মীদের দেখা মিলছে না। যদিও পুরসভার দাবি, সাফাইকর্মীরা এলাকা পরিষ্কার করার পরে বাসিন্দারা রাস্তায় আবর্জনা ফেলছেন। তাতেই বাড়ছে সমস্যা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাই আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিচ্ছে খড়্গপুর পুরসভা।

খড়্গপুর পুরসভার বোর্ড মিটিংয়ে ইতিমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, যখন-তখন আবর্জনা ফেলা যাবে না। সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত রাস্তার নির্দিষ্ট জায়গায় আবর্জনা ফেলতে হবে শহরবাসীকে। আর সকালে একবার বাঁশি বাজিয়ে এলাকায় ঘুরে আবর্জনা সংগ্রহ করবেন সাফাইকর্মীরা। শহরের বড় ভ্যাটগুলি থেকেও একই নিয়মে আবর্জনা সংগ্রহ করবেন পুরসভার কর্মীরা। আর নির্ধারিত সময়ের পরে রাস্তাঘাটে আবর্জনা ফেললে কড়া পদক্ষেপ করবেন পুর-কর্তৃপক্ষ। পুরপ্রধান প্রদীপ সরকার বলেন, “শহরে সকালে আবর্জনা পরিষ্কারের পরেও মানুষের অসচেতনতার জন্য এলাকায় আবর্জনা জমে। তাই আমরা সকাল ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে আবর্জনা ফেলার নিয়ম চালু করছি। সময়সূচি দিয়ে বোর্ড বসানো হবে বিভিন্ন এলাকায়।”

খড়্গপুর শহরের ৩৫টি ওয়ার্ডের আবর্জনা তুলে ফেলার জন্য এখনও নির্দিষ্ট ডাম্পিং গ্রাউন্ড নেই। তালবাগিচা সংলগ্ন হিড়াডি এলাকায় পুরসভা একটি আবর্জনা ফেলার জমি পেয়েছে বলে দাবি করলেও এলাকাবাসী সেখানে আবর্জনা ফেলতে বাধা দিচ্ছেন। শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপন পদ্ধতিও নেই। তার উপরে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নিয়মিত আবর্জনা সাফাই না করার অভিযোগ রয়েছে। বাসিন্দারা ভ্যাট না পেয়ে বাড়ির সামনের ফাঁকা জায়গাতেই আবর্জনা ফেলছেন। বেলা ১১টার পরে আবর্জনা স্তূপ জমছে গলিপথ থেকে মূল রাস্তায়। এর জেরে সারাদিন আবর্জনা জমে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।

পুরসভা সূত্রে খবর, শহরে এখন দু’ভাগে আবর্জনা সাফাই হয়। প্রাথমিকভাবে ওয়ার্ডের সাফাইকর্মীরা প্রতিদিন সকালে এলাকা পরিষ্কার করে টানা গাড়িতে আবর্জনা নিয়ে ওয়ার্ডের বাইরে থাকা বড় ভ্যাটে ফেলে আসেন। আবার স্থানীয় হোটেল মালিক, মুদি দোকানিরাও বড় ভ্যাটে আবর্জনা ফেলেন। পরে পুরকর্মীরা বড় গাড়ি নিয়ে এসে ওই আবর্জনা নিয়ে যান। তবে পুরসভার কর্মীরা ও ওয়ার্ডের সাফাইকর্মীরা আবর্জনা পরিষ্কারের পরেও রাস্তা ও ভ্যাটে আবর্জনা জমতে থাকে। তাই সাফাইকর্মীরা পরিষ্কারের পরে যাতে রাস্তায় ও ভ্যাটে আবর্জনা না জমে তাই সকাল ৭টা থেকে বেলা ১১টার মধ্যে আবর্জনা ফেলার বিধি চালু করছে পুরসভা। সেই অনুযায়ী লাগানো হবে বোর্ড। বড় ভ্যাটের সামনে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনাও করছে পুরসভা।                

পুরসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন কাউন্সিলর ও পুরনাগরিকেরা। তবে প্রতিটি ওয়ার্ডে সাফাইকর্মী ও আবর্জনা ফেলার টানা গাড়ির অভাব থাকায় কীভাবে সকালের ওই চার ঘণ্টা সময়ের মধ্যে পুরো ওয়ার্ডের আবর্জনা সংগ্রহ হবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অরূপ কুণ্ডু বলেন, “এই ব্যবস্থা চালু হলে এখন যেমন সারাদিন ধরে মানুষ রাস্তায় আবর্জনা ফেলছে তাতে লাগাম দেওয়া সম্ভব হবে। তবে আমাদের চারটি আবর্জনা ফেলার টানা গাড়ির অভাব রয়েছে। পুরসভার কাছে তা চেয়ে আবেদন করেছি।”

পুর-উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিপিএম কাউন্সিলর স্মৃতিকণা দেবনাথের বক্তব্য, “এই ব্যবস্থা চালু হলে কিছুটা হলেও আবর্জনা নিয়ন্ত্রণ হবে। মানুষও সচেতন হবে। তবে নিয়মিত আবর্জনা তোলার জন্য পুরসভাকে গাড়ি পাঠাতে হবে। আমাদের মতো বড় ওয়ার্ডে আরও সাফাইকর্মী ও টানা গাড়িও প্রয়োজন।” এ প্রসঙ্গে পুরপ্রধানের বক্তব্য, “প্রতিটি ওয়ার্ডের আবর্জনা বহনের জন্য একটি করে ব্যাটারিচালিত ছোট ডাম্পার কিনছি।”