রদবদলে ক্লোজ এগরা ও ময়না থানার ওসি
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, নির্বাচনের ঠিক আগে নন্দকুমার থানার ওসি  অমিয় ঘোষকে এগরার ওসি পদে বদলি করা হয়েছিল। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে এগরা বিধানসভা।
West Bengal Police

প্রতীকী ছবি।

লোকসভা ভোটের ফল প্রকাশের পরেই রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকদের রদবদল শুরু হয়েছে। জেলা পুলিশেও বিভিন্ন থানার আধিকারিকদের বদলির প্রক্রিয়া অব্যাহত। রবিবার প্রথম দফার বদলির পরেই মঙ্গলবার জেলার এগরা, ময়না-সহ বিভিন্ন থানার পাঁচ জন পুলিশ আধিকারিকদের বদলির নির্দেশ জারি হয়েছে। এর মধ্যে এগরা থানার ওসি অমিয় ঘোষ ও ময়না থানার ওসি স্বপন গোস্বামীকে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। ময়না থানার ওসি করা হয়েছে মহিউল ইসলামকে। গত বছর তাঁকে ময়না থানার ওসি থেকে সরিয়ে প্রথমে জেলা পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছিল। পরে জুনপুট উপকূল থানার ওসি পদে নিয়োগ করা হয়। এ বার ফের তাঁকে ময়নার ওসি করা হয়েছে। এগরা থানার ওসি-র পদে নিযোগ করা হয়েছে ময়না থানার সাব-ইন্সপেক্টর রবি গ্রাহিকারকে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, নির্বাচনের ঠিক আগে নন্দকুমার থানার ওসি  অমিয় ঘোষকে এগরার ওসি পদে বদলি করা হয়েছিল। মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে রয়েছে এগরা বিধানসভা। তিন বছর আগে বিধানসভা ভোটে এখান থেকে  ২৬ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী সমরেশ দাস। এ বার লোকসভা ভোটে বিজেপি প্রার্থী দিলীপ ঘোষ এগরা বিধানসভা এলাকায় প্রায় সাড়ে আট হাজার ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী মানস ভুঁইয়ার চেয়ে। জেলা পুলিশের একাংশের মতে, লোকসভা ভোটে  এগরায় শাসকদলের হারের কারণে ‘শাস্তিমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে ওসিকে ক্লোজ  করা হয়েছে। বিজেপির এগরা শহর সভাপতি জয়জিৎ দাসের অভিযোগ, ‘‘অমিয়বাবু নিরপেক্ষভাবে কাজ করেছিলেন তাই তাঁকে এভাবে বদলি করে শাস্তি দেওয়া হল।’’ এগরা-২ পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূল সভাপতি দীনেশ প্রধান অবশ্য বলেন, ‘‘ওসিকে বদলি করা হয়েছে বলে জানতে পেরেছি। তবে এর সঙ্গে লোকসভা ভোটের ফলের কোনও সম্পর্ক আছে বলে মনে হয় না।’’                                                         

ময়না থানার ওসি বদলে উঠে আসছে বাকচা কান্ড। গত বছর পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূল নিরঙ্কুশভাবে জয়ী হলেও প্রধান পদ নিয়ে গোষ্ঠীকোন্দলের জেরে দলের কিছু সদস্য বিজেপির সঙ্গে জোট বাঁধে বলে অভিযোগ। তৃণমূলর ও বিজেপির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এলাকার নিয়ন্ত্রণ চলে যায় বিজেপির হাতে। পরিস্থিতি সামলাতে ময়না থানার তৎকালীন ওসি মাহিউল ইসলামকে সরানো হয়। কাঁথি থানার সাব-ইনস্পেক্টর স্বপন গোস্বামীকে ওসি করা হয়। কিন্তু তার পর বাকচায় পুলিশ ক্যাম্পে বিজেপি সমর্থকরা হামলা চালায়। লোকসভা ভোটে বাকচা এলাকায় বিজেপি প্রায় আট হাজার ভোটে ‘লিড’  নেয়। ওসি স্বপন গোস্বামীকে বদলি করে পুলিশ লাইনে ‘ক্লোজ’ করার পিছনে বাকচায় তৃণমূলের হারই দায়ী বলে মনে করছেন দলের একাংশ। ভোটের পরেই জেলা পুলিশে এমন রদবদল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন হলেও জেলা পুলিশের এক পদস্থ কর্তার দাবি, ‘‘এটা দফতরের রুটিন বদলি। এর সঙ্গে ভোটের ফলের সম্পর্ক নেই।’’