গভর্নমেন্ট মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাস হল তমলুকে। শুক্রবার হুগলির তারকেশ্বরে একটি অনুষ্ঠান থেকেই রিমোটের সাহায্যে শিলান্যাস করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জেলা হাসপাতাল চত্বরেই এই মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হবে।

এদিন জেলা হাসপাতাল চত্বরে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল জেলা স্বাস্থ্য দফতর। সেখানে পরিবহণ ও পরিবেশ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মেডিক্যাল কলেজের শিলান্যাসের ফলক উন্মোচন করেন। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরে উন্নয়নে যে গতি এসেছে তার সুফল পেয়েছে এই জেলা।

জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে নন্দীগ্রাম, পাঁশকুড়া ও এগরায় আধুনিক সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল তৈরি হয়েছে। জেলার মানুষের দাবি ছিল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিক্যাল কলেজ। এ বার মুখ্যমন্ত্রী সেই দাবিও পূরণ করলেন।’’

মন্ত্রী জানান, তমলুকে মেডিক্যাল কলেজ গড়তে প্রাথমিকভাবে রাজ্য সরকার আড়াইশো কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। কাজের বরাত পেয়েছে রাজ্য সরকারের নির্মাণ সংস্থা ম্যাকিনটোস বার্ন। ওই সংস্থাকে দ্রুত কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। আশা করা যায়, ২০২০ সালের মধ্যেই পূর্ণাঙ্গভাবে এই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল চালু হয়ে যাবে।’’ 

শুভেন্দুবাবু জানান, নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরির ফলে জেলা হাসপাতালে বর্তমানে যে ৫০০টি শয্যা রয়েছে, তা বেড়ে ১২০০ করা হবে। এখানে পড়তে আসা প্রতি বছর যে ১০০ জন চিকিৎসক এমবিবিএস পাশ করবেন তাঁরা পড়াশোনার সঙ্গে সঙ্গে এখানে রোগীদের চিকিৎসায় সাহায্য করবেন। ফলে এখান থেকে রোগীকে কলকাতা বা অন্যত্র রেফার করার প্রবণতা অনেকটা কমবে। জেলা হাসপাতালের নার্সিং ট্রেনিং স্কুলের আসন বেড়ে ৬০ করা হয়েছে। এ ছাড়া পাঁশকুড়া, নন্দীগ্রাম ও এগরা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ব্লাড ব্যাঙ্ক চালু হয়েছে।

তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী, বিধায়ক ফিরোজা বিবি, সুকুমার দে, সংগ্রাম দোলই, অমিয়কান্তি ভট্টাচার্য, জেলা সভাধিপতি দেবব্রত দাস, পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ সেন,  হলদিয়ার পুরপ্রধান শ্যামল আদক, পাঁশকুড়ার পুরপ্রধান নন্দকুমার মিশ্র, হলদিয়া উন্নয়ন পর্ষদের আধিকারিক বিভু গোয়েল, পুলিশ সুপার ভি সলোমন নেসাকুমার, জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল এবং জেলা হাসপাতাল সুপার গোপাল দাস অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।