ডেঙ্গি রুখতে সর্বত্র সচেতনতা শিবির, পোস্টার-ব্যানার-বক্তৃতা, সাফাই অভিযান চলছে।  তারপরেও দিন সাতেক ধরে জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় আতঙ্কে জেলাবাসী। 

জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, এই মুহূর্তে জেলায় ডেঙ্গিতে আক্রান্ত ৮৭ জন। হলদিয়ার বাড় উত্তরহিংলি অঞ্চলের কাষ্ঠপোল মধ্যমপল্লিতে জ্বরে আক্রান্ত ২২ জনের রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু মিলেছে। সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৮ জন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন দশেক আগে এই অঞ্চলে শুরু হয় জ্বর, সঙ্গে গা-হাতব্যথা। বেশ কয়েক জনকে বাড়সুন্দরা প্রাথমিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাঁদের পাঠানো হয় তমলুকে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সদর হাসপাতালে। 
গত ২০ আগস্ট স্থানীয় বাসিন্দা পেশায় কৃষক দুর্গারাম ভুঁইয়া প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হন। তাঁর রক্তে ডেঙ্গির জীবাণু ধরা পড়তেই স্থানীয় চিকিৎসকেরা তাঁকে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান। কাষ্ঠপোল মধ্যমপল্লির বাসিন্দা নবকুমার মণ্ডল, সুনীল কুমার মাইতি জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দিন তিনেক ধরে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি। এই অবস্থায় ডেঙ্গির আতঙ্কে ভুগছেন এলাকার  মানুষ। পরিবারের কেউ জ্বরে আক্রান্ত  বলে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেন তাঁরা।
ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক দিব্যজ্যোতি বসুর দাবি, ‘‘জ্বর হলেই ডেঙ্গি ভেবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। যাঁরা জ্বর নিয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি হচ্ছেন আমরা তৎক্ষণাৎ রক্ত পরীক্ষা করানোর নির্দে‌শ দিয়েছি। তা ছাড়া গ্রামীণ চিকিৎসকদেরও বলা হয়েছে, জ্বর নিয়ে তাঁদের কাছে কেউ গেলে তাঁরা যেন সঙ্গে সঙ্গে রোগীকে রক্ত পরীক্ষার পরামর্শ দেন।’’

জেলা উপ মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক-২ দিলীপ বিশ্বাসের কথায়, ‘‘জেলায় ৮৭ জনের ডেঙ্গিতে আক্রান্তের খবর পাোয়া গিয়েছে। মধ্যমপল্লিতে জ্বরে আক্রান্ত ২২ জনের রক্তে ডেঙ্গির নামুনা পাওয়া গিয়েছে।  তবে স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে ডেঙ্গি রুখতে সমস্ত রকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে। চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বা হাসপাতালে এলে মানুষ যাতে দ্রুত চিকিৎসা পান সে ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।’’