এ বার স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মেডিক্যাল কলেজ চালু করার প্রক্রিয়া শুরু করল রেল। খড়্গপুরের ডিভিশনাল রেল হাসপাতালে ওই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি মেডিক্যাল কলেজ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খড়্গপুর রেল ডিভিশনের চিফ মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট অচ্যুতানন্দ মণ্ডল বলেন, “এমডি ও ডিএনবি কোর্সে আমাদের রেল হাসপাতালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চালু করতে চাইছি আমরা।’’ রেল এই বিষয়ে রাজ্যের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেছে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের অধিকর্তাকে চিঠি দিয়ে সেই আবেদন জানিয়েছেন খড়্গপুর ডিভিশনের চিফ মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট। সেই আবেদনে রাজ্য সাড়া দেয় কি না, সে দিকে তাকিয়ে রয়েছে রেল। রাজ্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলেই মেডিক্যাল কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার বা এমসিআই-এর কাছে ছাড়পত্রের জন্য আবেদন করবেন রেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

রেল সূত্রের খবর, খড়্গপুর রেল ডিভিশনে প্রধান এই হাসপাতালটি শহরের সাউথসাইডে অবস্থিত। ব্রিটিশ জমানা থেকে বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে ওঠা এই হাসপাতালের পরিকাঠামো আর পাঁচটি হাসপাতালের তুলনায় অনেক এগিয়ে। হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৩৪০। আপাতত দেশের তিন শতাধিক শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পঠনপাঠন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল বোর্ড। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খড়্গপুর রেল ডিভিশনের এই প্রধান হাসপাতালে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির মেডিক্যাল কলেজ চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। চিকিৎসা পরিষেবা উন্নত হলেও এখনও কলেজের মতো পরিকাঠামো নেই এই হাসপাতালের। তাই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চালু করতে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে না তোলা পর্যন্ত মেদিনীপুর মেডিক্যালের পরিকাঠামো ব্যবহার করতে চাইছে রেল। ঠিক হয়েছে, আপাতত স্নাতকোত্তরের পঠনপাঠন হবে মেদিনীপুর মেডিক্যালে। আর খড়্গপুর রেল হাসপাতালে হবে প্র্যাক্টিক্যাল ক্লাস।

এসবের জন্য প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের সঙ্গে মউ স্বাক্ষর। সেই দিকে তাকিয়েই রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের অধিকর্তাকে আবেদন জানিয়েছে রেলের স্বাস্থ্য দফতর। ওই আবেদনে নিজেদের হাসপাতালের পরিকাঠামো জানানোর পাশাপাশি এই হাসপাতালে যে রেল কর্মী ছাড়াও সাধারণ মানুষের চিকিৎসা করা হয় সে কথাও জানানো হয়েছে। তাই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি চালুর প্রাথমিকস্তরে এমডি ও ডিএনবি কোর্স চালু করতে অধ্যাপক ও প্রাথমিক চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ে পঠনপাঠনের জন্য মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের সহযোগিতা চাইছেন রেল কর্তৃপক্ষ। রাজ্য আবেদনে সাড়া দিলেই পরবর্তী ধাপে এগোবে রেল। খড়্গপুর রেল ডিভিশনের চিফ মেডিক্যাল সুপারিন্টেনডেন্ট বলেন, “সহযোগিতার বিষয়ে প্রাথমিকভাবে মেদিনীপুর মেডিক্যালের সঙ্গে কথা হয়েছে। সেই জন্য আমি রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তাকে একটি চিঠি দিয়েছি। ওখান থেকে সাড়া পেলে এমসিআই-এর অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু করব।”