রাজনীতির অত মারপ্যাঁচ সে বোঝে না। কিন্তু পরিস্থিতি এমনই যে, তার মনিব এই মুহূর্তে জেলবাসী। পরিবারের বাকিরাও প্রাণ ভয়ে বাড়ি ছাড়া। তাই টানা পাঁচদিন অভুক্ত থাকলে হল, মেদিনীপুর শহরের পূর্ব মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি দেবাশিস দাসের প্রিয় সারমেয় রক্সিকে। পুলিশের উদ্যোগে শনিবার জার্মান শেফার্ডটিকে উদ্ধার করা হলে, তার ঠাঁই হয় শহরের একটি ক্রেশে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১২ মে রাতে। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী তৃণমূল কাউন্সিলর টোটন সাসপিল্লীর বাড়িতে হামলার অভিযোগে, গত সোমবার দেবাশিস দাস-সহ দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। দেবাশিস এখনও জেলে। তিনি গ্রেফতার হওয়ার পর দিন বাড়ি ছেড়েছিলেন দেবাশিসের পরিবারও। তাড়াহুড়োয় সঙ্গে নিয়ে যাওয়া হয়নি বছর আড়াইয়ের পোষ্যটিকে। বিজেপি নেতার স্ত্রী অন্তরা দাসের কথায়, ‘‘তৃণমূলের লোকেরা ক্রমাগত হুমকি দিচ্ছিল। আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছিলাম।’’ অন্তরারা বাড়ি ছাড়ার পর থেকে অভুক্ত অবস্থাতেই ছিল রক্সি। তালাবন্ধ বাড়িতে পোষ্যটির রয়ে যাওয়ার কথা বিজেপি নেতৃত্বকে জানান অন্তরা নিজেই। তাঁর আর্জি ছিল, যে ভাবেই হোক রক্সিকে বার করে আনতে হবে। এরপর বিজেপির তরফে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। জানানো হয়, দীর্ঘদিন অভুক্ত অবস্থায় থাকলে পোষ্যটি মারা যেতে পারে। এরপর শনিবার পুলিশের একটি দল পোষ্যটিকে উদ্ধার করে অন্তরাদের হাতে তুলে দেয়। পরে অন্তরারা পোষ্যটিকে শহরের এক ক্রেশে রেখে আসেন কুকুরপ্রেমী হিসেবে এলাকায় নাম রয়েছে দেবাশিসের। এক সময়ে তাঁর বাড়িতে একটি ল্যাব্রাডর ছিল। অন্তরার কথায়, ‘‘আগে কুকুর খুব একটা পছন্দ করতাম না। পরে ধীরে ধীরে আমিও কুকুর ভালবাসতে শুরু করি। আগে আমাদের একটা ল্যাব্রাডর ছিল। এখন যেটা রয়েছে, সেটা জার্মান শেফার্ড।’’ স্বামী গ্রেফতার হওয়ার পর অন্তরা ভেবেছিলেন, দেবাশিস হয়তো তাড়াতাড়ি জামিন পেয়ে যাবেন! কিন্তু সে হিসেব মেলেনি। অন্তরা বলছিলেন, ‘‘হঠাৎই বাড়ি ছাড়তে হয়েছিল। ভেবেছিলাম, ওর (স্বামীর) জামিন হয়ে গেলেই বাড়ি ফিরতে পারব। কিন্তু তা আর হল কই! কুকুরটা অভুক্ত অবস্থায় বাড়িতে ছিল। বিজেপি নেতৃত্বকে অনুরোধ করি, পুলিশের সাহায্যে যেন কুকুরটিকে উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হয়।’’ কেমন আছে এখন সারমেয়টি? অন্তরার কথায়, ‘‘দেখে মনে হল, খিদেয় ছটপট করেছে! এমনিতে রক্সি খুব শান্ত স্বভাবের। কিন্তু এই ক’দিনে বাড়ির পাইপ, সোফা কেটে দিয়েছে। হয়তো বেরোনোর চেষ্টা করছিল। ও এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে।’’ এই প্রসঙ্গে মেদিনীপুর (সদর) প্রাণীসম্পদ আধিকারিক অপূর্ব চক্রবর্তী বলেন, ‘‘পাঁচদিন না খেয়ে থাকলে, কুকুর অসুস্থ হবেই। যা গরম পড়েছে, তাতে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারত।’’

শনিবার বিকেলের পর রক্সির ঠাঁই হয়েছে এক ক্রেশে। এখানে কুকুর রাখার খরচ দিনপিছু ৩০০ টাকা। অন্তরা বলছিলেন, ‘‘সে খরচ হোক। ওকে আমরা খুব ভালবাসি।’’ এই প্রসঙ্গে তৃণমূলের কাউন্সিলর টোটন সাসপিল্লী বলেন, ‘‘শনিবার পুলিশের তরফে বিষয়টি আমাকে জানানো হয়। কুকুরের সঙ্গে আমাদের কোনও সংঘাত নেই। কুকুরটা ভাল ভাবে থাকুক, এটা আমরাও চাই!’’ তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতির সাফ কথা, ‘‘পোষ্যদের নিয়ে রাজনীতি করি না।’’ অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সম্পাদক অরূপ দাস বলেন, ‘‘কুকুরটিকে নিয়ে দেবাশিস’দার পরিবার সমস্যায় পড়েছিল। আমরা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে, উদ্ধারের আর্জি জানাই।’’ মেদিনীপুরের এক পুলিশ কর্তার কথায়, ‘‘যেটুকু সাহায্য করা দরকার, তা করা হয়েছে।’’