ঘড়ির কাঁটায় দুপুর দু’টো। ধর্মঘট চলছে। ডাকঘরের সামনের গেটে ঝুলছে বামপন্থী কর্মী সংগঠনের লাল পতাকা। গ্রাহকেরা এসে ফিরে যাচ্ছেন। 

ডাকঘরের পিছনের গেটে অবশ্য কর্মীদের আনাগোনা রয়েছে। রুমালে মুখ মুছতে-মুছতে এক কর্মী বেরিয়ে এলেন। হাতে মাংসের ঝোলের গন্ধ ম-ম করছে। পিছনের দরজা দিয়ে উঁকি মারতেই দেখা গেল ডাকঘরের ভিতরে কব্জি ডুবিয়ে চলছে খাওয়া-দাওয়া। একেবারে পিকনিকের আমেজ!

মঙ্গলবার বামেদের ডাকা ধর্মঘটের প্রথম দিনে এই দৃশ্য দেখা গেল খড়্গপুরের বোগদা ডাকঘরে। এ দিন সকাল থেকেই এই ডাকঘর বন্ধ ছিল। যদিও উল্টো দিকেই রেলের ডিআরএম অফিস ছিল খোলা। ডাকঘরে কাজ বন্ধ রেখে কর্মীরা খাওয়াদাওয়া করছেন জানতে পেরে এসে পৌঁছয় পুলিশ। আসেন তৃণমূলের শহর কার্যকরী সভাপতি জহরলাল পালও। প্রতিবাদ জানান সকলে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে তড়িঘড়ি বেলা আড়াইটেয় ডাকঘর ছেড়ে বাড়ি রওনা দেন পোস্টমাস্টার। খাওয়াদাওয়া শেষ করে গুটি-গুটি পায়ে অফিসের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসেন কর্মীরাও। তবে এই ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছে অল ইন্ডিয়া পোস্টাল এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নেতারা।

ভেতরে খাওয়াদাওয়ায় ব্যস্ত কর্মীরা।

ডাকঘরের কর্মীদের দাবি, ধর্মঘট সমর্থন করে সকাল থেকে কাজে যোগ দেননি তাঁরা। তবে অফিসেই ছিলেন। তাই দুপুরে চাঁদা তুলে খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল। ওই ডাকঘরের পোস্টমাস্টার আরতি সাঁতরা বলেন, “কর্মীরা যেহেতু অফিসে রয়েছেন তাই তাঁরা ধর্মঘটের দিনে খাবেন কোথায়! এই ভাবনা থেকেই চাঁদা তুলে একটু খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন হয়েছে।” অবশ্য এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা। তাঁদের দাবি, যেখানে ধর্মঘটের জন্য ডাকঘর বন্ধ বলা হচ্ছে সেখানে কীভাবে ডাকঘরের ভিতরে এমন পিকনিক চলতে পারে? এ দিন ডাকঘরে ওয়েস্টার্ন ইউনিয়ণের মাধ্যমে টাকা পাঠাতে এসে ফিরে যাওয়া শহরের একটি গির্জার ফাদার ত্রিসুক কর্মকার বলেন, “টাকা পাঠানোটা খুব জরুরি ছিল। ডাকঘর বন্ধ থাকায় সমস্যা হল। এ ভাবে কাজ বন্ধ করে অফিসের ভিতরে পিকনিক ঠিক নয়।” ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়ে সারা ভারত ডাকঘর কর্মী সংগঠনের মেদিনীপুর ডিভিশনের সম্পাদক জ্যোতিপ্রকাশ ত্রিপাঠী বলেন, “ধর্মঘটে বন্ধ অফিসের ভিতরে পিকনিক চলতে পারেনা। আমি খোঁজ নিচ্ছি।”

—নিজস্ব চিত্র।