ইভিএম বিকল, দাবি উঠল পুনর্নির্বাচনের
রবিবার ভগবানপুর, ময়না এলাকায় গুলি চলা এবং অশান্তির খবর যখন সামনে এসেছে, তখন ব্যতিক্রমী চিত্র ধরা পড়ল পাঁশকুড়া পূর্ব এবং পশ্চিম বিধানসভা এলাকায়।
evm

প্রতীকী ছবি।

কোথাও মারধরের অভিযোগ, কোথাও ইভিএম খারাপ, তো কোথাও পুনর্নির্বাচনের দাবি। সব মিলিয়ে কিছু বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্য দিয়ে শেষ হল পূর্ব মেদিনীপুরের ভোটগ্রহণ। রাত ১০টা পর্যন্ত জেলার দুই লোকসভা কেন্দ্র তমলুক ও কাঁথিতে ভোট পড়ল যথাক্রমে ৮৫.২০ ও ৮৫.৩৫ শতাংশ। 

রবিবার ভগবানপুর, ময়না এলাকায় গুলি চলা এবং অশান্তির খবর যখন সামনে এসেছে, তখন ব্যতিক্রমী চিত্র ধরা পড়ল পাঁশকুড়া পূর্ব এবং পশ্চিম বিধানসভা এলাকায়। তীব্র গরমেও বুথগুলি ছিল ভোটারদের লম্বা লাইন। তবে পাঁশকুড়ার মাইশোরা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার চারটি বুথে ইভিএম খারাপের ফলে কোথাও এক ঘণ্টা কোথাও দেড় ঘণ্টা দেরিতে ভোট নেওয়া শুরু হয়। পুরসভার ৩, ১৬ এবং ২ নম্বর ওয়ার্ডের তিনটি বুথে বিকল ছিল ইভিএম। প্রশাসন সূত্রের খবর, জেলার ৩০০টি’র বেশি বুথে ইভিএম বিভ্রাটের জেরে ভোটগ্রহণ শুরু ব্যাহত হয়।

পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পার্থ ঘোষ বলেন, ‘‘জেলায় মোট ৩৭৯টি বুথে ইভিএম বিভ্রাট হয়েছিল । তবে সবগুলি ক্ষেত্রে দ্রুত পদক্ষেপের পরে ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে হয়েছে।’’

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

এ দিন পাঁশকুড়ার মাইশোরার সাহালাজপুরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের অভিযোগ উঠেছে। এর জেরে উভয়পক্ষই যশোড়া-রাধাবল্লভপুর গ্রামীণ সড়কে অবস্থানে বসে। ‘ক্যুইক রেসপন্স টিম’ গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ঘাটাল কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী মহম্মদ সাইফুল। তাঁর দাবি, ‘‘পুরসভার অধিকাংশ বুথে কলকাতা পুলিশ দিয়ে ভোট করানো হচ্ছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী নেই। সেই সুযোগে তৃণমূল ছাপ্পা দিচ্ছে।’’

তৃণমূলের পাঁশকুড়া ব্লক কার্যকরী সভাপতি কুরবান শা’র অবশ্য বক্তব্য, ‘‘ছাপ্পার অভিযোগ ভিত্তিহীন। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।’’ 

অন্য দিকে, মহিষাদলের বেতকুম্ডু গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার একাধিক বুথে ছাপ্পা ভোট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, ‘‘১৪৮ এবং ১৪৯ নম্বর বুথে শাসক দলের প্রার্থীর প্রতীকের গায়ে এক সুগন্ধী লাগানো ছিল। শাসকদলকে কারা ভোট দিচ্ছেন, তা নিশ্চিত করতে এই চেষ্টা।’’

এ দিকে, কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে বেশ কয়েকটি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে, বিজেপি এবং কংগ্রেস।  কাঁথির কংগ্রেস প্রার্থী দীপককুমার দাস বলেন, “দেশপ্রাণ ব্লকের ২৫২, ২৫৩, ২৫৪ নম্বর বুথে কংগ্রেসের এজেন্টকে বের করে দিয়েছে তৃণমুল। তাই ওই তিনটি বুথে পুনর্নির্বাচন চেয়ে কাঁথির মহকুমাশাসকের কাছে আর্জি জানিয়েছি আমরা।’’

কাঁথির বিজেপি প্রার্থী  দেবাশীষ সামন্ত এ নিয়ে বলেন, “রিপোলিংয়ের বিষয়ে রবিবার সন্ধ্যায় দলীয় বৈঠক হয়েছে। আমরা চণ্ডীপুর ও ভগবানপুরের কয়েকটি বুথে রিপোলিংয়ের দাবি জানাব।’’ 

এদিন দুপুর ১টা নাগাদ কাঁথি প্রভাতকুমার কলেজে ভোট দেন কাঁথি কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী তথা তৃণমূলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী।  তিনি বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “সন্ত্রাস এবং এজেন্টদের মারধরের মিথ্যা অভিযোগ। সব বুথে ওঁরা এজেন্ট দিতেই পারেননি। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হয়েছে।’’ 

তথ্য: আনন্দ মণ্ডল, কেশব মান্না, শান্তনু বেরা ও দিগন্ত মান্না