স্লগ ওভারে ভোট নিয়ে নালিশের ঝড়
জেলার ‘এমসিসি, কমপ্লেনস্ অ্যান্ড হেল্প লাইন সেল’- এর এক আধিকারিকের মন্তব্য, ‘‘ভোটের স্লগ ওভারে নালিশ বেশ ঝোড়ো ব্যাটিংই করেছে!’’
political

প্রতীকী ছবি।

স্লগ ওভারে ঝড় তুলেছে ভোট সংক্রান্ত নালিশ! প্রশাসনের এক সূত্রের খবর, ভোট ঘোষণার পরের দু’মাসে জেলায় যে সংখ্যক অভিযোগ এসেছে, প্রায় সম সংখ্যক অভিযোগ এসেছে ভোট এবং তার আগের তিন দিনে! সব দেখে জেলার ‘এমসিসি, কমপ্লেনস্ অ্যান্ড হেল্প লাইন সেল’- এর এক আধিকারিকের মন্তব্য, ‘‘ভোটের স্লগ ওভারে নালিশ বেশ ঝোড়ো ব্যাটিংই করেছে!’’

গত ১০ মার্চ ভোট ঘোষণা হয়েছিল। সেদিন থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল নির্বাচনী আচরণবিধি। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল, কোথাও নির্বাচনী বিধিভঙ্গ হচ্ছে কি না, এ বার সরাসরি নাগরিকেরাই তা ‘নজরদারি’ করতে পারবেন। এর জন্য তাঁদের হাতিয়ার হবে ‘সিটিজেন ভিজিল্যান্স অ্যাপ’ বা সংক্ষেপে ‘সি-ভিজিল’ অ্যাপ। অভিযোগ জানানোর অন্য কয়েকটি মাধ্যমও চালু হয়। এর অন্যতম টোল ফ্রি নম্বর। অভিযোগগুলো নথিভুক্ত করার জন্য জেলায় ‘এমসিসি কমপ্লেনস্ অ্যান্ড হেল্প লাইন সেল’ গঠন করা হয়। এই সেলের এক সূত্রে খবর, ১০ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত সি- ভিজিল সহ অন্য মাধ্যমে অভিযোগ এসেছিল ১,১৩০টি। অন্যদিকে, ৯ মে থেকে ভোটের দিন অর্থাৎ ১২ মে পর্যন্ত, এই চারদিনে অভিযোগ এসেছে ১,০৯৮টি। অর্থাৎ, দু’মাসের নালিশের সংখ্যাকে কার্যত তাড়া করেছে চারদিনের নালিশের সংখ্যা! 

সি- ভিজিলে অভিযোগ জানানোর ১০০ মিনিটের মধ্যে তদন্ত করে জবাব দেওয়ার পরিকাঠামো তৈরি হয়েছিল জেলায়। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘সি- ভিজিল অ্যাপে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা ছিল। অভিযোগ পেয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। টোল ফ্রি নম্বরেও অনেক অভিযোগ এসেছে। সেই ক্ষেত্রেও অভিযোগ খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’’ টোল ফ্রি নম্বরে অভিযোগ এলে তা এক পোর্টালে নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, শুধুমাত্র ৯ মে- তেই জেলায় ১১২টি অভিযোগ এসেছে। এরমধ্যে ২৭টি সি- ভিজিলে। ৮৪টি এনজিআরএসে। ১টি সিএমএসে। 

ভোট-নালিশের ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে জেলার ছবিটা ঠিক কী? প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ১০ মার্চ থেকে ৮ মে পর্যন্ত ন্যাশনাল গ্রিভান্স পোর্টালে (অভিযোগ জানানোর পোর্টাল) অর্থাৎ এনজিআরএসে অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে ৬৬০টি। করসপন্ডেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (অভিযোগ পেয়ে সিইও অফিস যে পদ্ধতিতে কাজ করে ) অর্থাৎ সিএমএসে অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে ২১টি। ইএমএমসি-তে (মিডিয়ায় কিছু দেখে কমিশন যে ভাবে কাজ করে ) অভিযোগ এসেছে ১২টি। অন্যদিকে, সি- ভিজিলে অভিযোগ এসেছে ৪৩৭টি। অর্থাৎ, এই পর্বে সবমিলিয়ে ১,১৩০টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল। অন্যদিকে, ৯ মে থেকে ১২ মে পর্যন্ত এনজিআরএসে অভিযোগ এসেছে ৬০৪টি। সিএমএসে ২৮টি। ইএমএমসি- তে ৩৭২টি। সি- ভিজিলে ৯৪টি। অর্থাৎ এই পর্বে সবমিলিয়ে ১,০৯৮টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, ভোটপর্বে জেলায় সবমিলিয়ে অভিযোগ এসেছে ২,২২৮টি। এরমধ্যে সবথেকে বেশি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে পোর্টালেই। এনজিআরএসে নথিভুক্ত অভিযোগ ১,২৬৪। এরপরই রয়েছে সি- ভিজিল। সি- ভিজিলে নথিভুক্ত অভিযোগের সংখ্যা ৫৩১।

২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত