প্রশিক্ষণ নিয়েও শোকজ! অবাক ভোটকর্মী 
শৈবাল পাত্র নামে ওই ব্যক্তি কেশপুরের লক্ষ্মীনারায়ণ হাইস্কুলের শিক্ষাকর্মী। তিনি জানান, তাঁর কাছে ভোটের প্রশিক্ষণের যে চিঠি গিয়েছিল, তাতে গত ৭ এপ্রিল প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।
eci

নির্বাচনের দায়িত্ব এড়াতে ভোট কর্মীদের নানা ‘অজুহাত’ দেওয়ার ঘটনা সম্প্রতি সামনে এসেছে। তাঁদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবিতে অনেকেই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, প্রশিক্ষণে গরহাজিরও থেকেছেন। সে জন্য প্রশাসনের তরফে ওই সব ভোট কর্মীদের ‘শো-কজ’ করা হয়েছে। কিন্তু তা বলে প্রশিক্ষণ নিয়েও ‘শো-কজে’র চিঠি! কেশপুরের এক শিক্ষাকর্মীর অভিযোগ, প্রশিক্ষণে হাজির থাকার পরেও তাঁকে ‘শো-কজে’র চিঠি পাঠানো হয়েছে।       

শৈবাল পাত্র নামে ওই ব্যক্তি কেশপুরের লক্ষ্মীনারায়ণ হাইস্কুলের শিক্ষাকর্মী। তিনি জানান, তাঁর কাছে ভোটের প্রশিক্ষণের যে চিঠি গিয়েছিল, তাতে গত ৭ এপ্রিল প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। পরে তাঁর মোবাইলে এক মেসেজ যায়। যেখানে তাঁকে ৬ এপ্রিল প্রশিক্ষণে আসার কথা জানানো হয়। সেই মতো তিনি ৬ এপ্রিল মেদিনীপুরের এক কেন্দ্রে গিয়ে প্রশিক্ষণ নেন। শৈবাল বলেন, ‘‘৭ এপ্রিলও প্রশিক্ষণ নিতে গিয়েছিলাম। তখন আমাকে জানানো হয়, একবার প্রশিক্ষণ নিলেই হবে। তাই ওই দিন আর প্রশিক্ষণ নিইনি। ফিরে আসি। শুক্রবার সকালে শো-কজের চিঠি এসেছে।’’ ওই চিঠিতে শৈবাল কেন প্রশিক্ষণে যাননি, তা জানাতে বলা হয়েছে, তেমনই তাঁকে ১৩ এপ্রিলের প্রশিক্ষণেও আসার কথা জানানো হয়েছে।

এ দিন চিঠি পেয়েই শৈবাল ছোটেন মেদিনীপুরে পোলিং পার্সোনেল সেলে। সেখানে তিনি লিখিত আবেদনও জানিয়েছেন। আবেদনে তাঁর বক্তব্য, তিনি প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। এরপরও তাঁকে শো-কজ করা হবে কেন? পাশাপাশি প্রশিক্ষণ নেওয়ার নথিও জমা দিয়েছেন তিনি। শৈবাল বলেন, ‘‘ওই সেলের কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন।’’

কিন্তু প্রশিক্ষণ নেওয়া ভোটকর্মীকে শো-কজ করা হয়েছে কেন? এ ব্যাপারে পশ্চিম মেদিনীপুরের পোলিং পার্সোনেল সেলের ওসি বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্যের জবাব, ‘‘বিষয়টি দেখছি।’’ কেশপুরের বিডিও দীপক ঘোষেরও বক্তব্য, ‘‘বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।’’  জেলা প্রশাসনের অন্য এক আধিকারিক অবশ্য মানছেন, ‘‘কোথাও একটা ভুল হয়েছে। তাই এটা ঘটেছে।’’ তিনি জানাচ্ছেন, প্রশিক্ষণে কে এলেন, কে এলেন না— তা নথিভুক্ত করতে মার্কিং করা হয়। হয়তো মার্কিংয়ের সমস্যা হয়েছে।

প্রশিক্ষণে গরহাজির থাকায় জেলায় ৯১০ জন ভোটকর্মীকে শো-কজ করা হয়েছে। পরে ওই কর্মীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রথম পর্বে গরহাজির ভোটকর্মীদের জন্য ফের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আজ, শনিবার তাঁদের প্রশিক্ষণে আসার কথা জানানো হয়েছে।