পায়ের আঙুলেই ভোটাধিকার, প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন পার্বতী
জেলা নির্বাচন দফতর এবং তমলুক ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ দিনের শিবিরে এসেছিলেন ১২০ জন প্রতিবন্ধী ভোটার।
Parvati

‘মক পোলে’ ভোট দিচ্ছেন পার্বতী। বৃহস্পতিবার তমলুকে। নিজস্ব চিত্র

জন্ম থেকেই দু’হাত নেই। পা-ই হয়ে গিয়েছে তাঁরা জীবন-যুদ্ধের অস্ত্র। সেই পায়ের আঙুল দিয়েই এবার ইভিএম মেশিনের বোতাম টিপবেন তমলুকের পূর্বনখা গ্রামের বাসিন্দা পার্বতী জানা।     

বৃহস্পতিবার তমলুকের নিমতৌড়িতে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার দফতরে প্রতিবন্ধকতাযুক্ত ভোটারদের নিয়ে একটি প্রশিক্ষণ শিবির হয়। সেখানে ছিলেন পার্বতী। প্রত্যন্ত গ্রামের ওই মহিলা পা দিয়েই নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। বর্তমানে পাটের তৈরি বিভিন্ন সামগ্রী বানান এবং গানের দলে যন্ত্র বাজান। এতদিন অন্যের সাহায্য নিয়ে তাঁকে দিতে হত ভোট। এবার নিজেই পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশের বোতাম টিপবেন তিনি। কালি নেবেন পায়ের আঙুলে। 

জেলা নির্বাচন দফতর এবং তমলুক ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ দিনের শিবিরে এসেছিলেন ১২০ জন প্রতিবন্ধী ভোটার। শিবিরে দৃষ্টিহীনদের ব্রেইল পেপারের সাহায্যে ভোটদানের পদ্ধতি শেখানো হয়। মানসিক, মূক-বধির, অস্থি সংক্রান্ত প্রতিবন্ধী ভোটারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এর পরেই তাঁদের নিয়ে হয় ‘মক পোল’। ইভিএম  মেশিনে কীভাবে ভোট দিতে হবে, তার মহড়ারও ব্যবস্থা ছিল এদিন। সেখানেই ইভিএমে পার্বতী পায়ের আঙুল দিয়ে ভোট দেন। তাতেই তাঁর চোখেমুখে ছিল খুশির ঝিলিক। পার্বতী বলেন, ‘‘আগে ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে গিয়ে অন্যের সাহায্যে ভোট দিতে হতো। এবার নিজে ভোট দেব। এটা আমার কাছে একটা বড় পাওনা।’’

যে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সভাকক্ষে শিবির হচ্ছিল, তার সম্পাদক যোগেশ সামন্ত বলেন, ‘‘পার্বতীকে দেখে অন্য প্রতিবন্ধী ভোটারেরাও অনুপ্রাণিত হবেন।’’ এ দিনের শিবিরে ছিলেন তমলুকের বিডিও গোবিন্দ দাস, জয়েন্ট বিডিও তুষার তরফদার, জেলা সমাজ কল্যাণ আধকারিক পূর্ণেন্দু পৌরাণিক প্রমুখ। বিডিও গোবিন্দ দাস বলেন, ‘‘প্রতিবন্ধী ভোটাররা যাতে নিজেরাই ভোট দিতে পারেন, সে জন্য নির্বাচন কমিশন সমস্ত ব্যবস্থার আয়োজন করেছে। তারই অঙ্গ এই শিবির।