বিয়ের পরে ভাইঝির বিদায়ের সময় কথা দিয়েছিলেন বৌভাতে অবশ্যই যাবেন তাঁর শ্বশুর বাড়িতে।  সেই মতো শুক্রবার বিকেলে কনেযাত্রীদের সঙ্গে রওনাও হয়েছিলেন আরামবাগের উদ্দেশে। কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ আর হয়নি। পথেই কনেযাত্রীদের বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে কাকার। শনিবার কোলাঘাটের দেউলিয়ায় কনের বাবার বাড়িতে ছিল বিষাদের ছায়া।

স্থানীয় সূত্রের খবর, দেউলিয়ায় বাসিন্দা সুদেষ্ণা মণ্ডলের বিয়ে হয়েছিল আরামবাগে। তাঁর চার কাকা থাকেন খন্যাডিহি এলাকার সাওড়াবেড়িয়া গ্রামে। পেশায় তাঁরা ফুলচাষি। শুক্রবার একটি বাসে করে হুগলির আরামবাগের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় সাওড়াবেড়িয়া গ্রামের মণ্ডল পরিবার। সন্ধ্যে সাড়ে ৭টা নাগাদ তাদের বাসটি দাসপুরের জানাপাড়া এলাকায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। মোট ৫৫ জন কনেযাত্রী ছিলেন বাসটির মধ্যে। সবাইকেই নিরাপদে বাসের বাইরে বের করে আনা সম্ভব হলেও বাঁচানো যায়নি বাসের চালকের পিছনের আসনে বসা সুদেষ্ণার এক কাকা ধীরেন্দ্রনাথ মণ্ডলকে।   

পরিবারের অনেকেই এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অনেকে বরাত জোরে বাড়ি ফিরে এসেছেন। বৌভাতের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া হল না কারুরই। ভাইঝির বিয়ের রেশ কাটার আগেই পরিবারের এক সদস্যের শেষকৃত্যে করতে গিয়ে এ দিন কান্নায় ভেঙে পড়েছেন সবাই। এ দিন সন্ধ্যায় ধীরেন্দ্রনাথের দেহ আসে তাঁর সাওড়াবেড়িয়া গ্রামের বাড়িতে। রাতে সম্পন্ন হয় দাহ কাজ।

ধীরেন্দ্রনাথবাবুর ভাই আনন্দ মণ্ডল বলেন, ‘‘কত আনন্দ করে সবাই যাচ্ছিলাম। দাদার মৃতদেহ নিয়ে ফিরতে হবে ভাবিনি।’’ একই চিত্র হুগলির আরামবাগের নবপল্লিতে সুদেষ্ণার শ্বশুর বাড়িতেও। মন ভাল নেই নববধূরও। সুদেষ্ণা বলেন, ‘‘শুক্রবার খুব আশা করে বসেছিলাম। বাবা, কাকা সবাই আসবেন। এই ভাবে দুর্ঘটনায় কাকা মারা যাবেন ভাবতে পারিনি।’’