• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

নিভৃতাবাস ছেড়ে বেরনোয় বচসা, পরিযায়ী শ্রমিকের হাতে ‘খুন’

arrested
প্রতীকী ছবি।

ভিন্ রাজ্য থেকে  পরিযায়ী শ্রমিকেরা জেলায় ফেরার পরেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। এতে উদ্বেগ বাড়ছে জেলাবাসীরও। এই পরিস্থিতিতে এক পরিযায়ীকে শ্রমিকের বিরুদ্ধে এক গ্রামবাসীর মাথায় বাঁশের বাড়ি মারার অভিযোগ উঠল। নন্দকুমারের ডিহিগুমাই গ্রামের ওই ঘটনায় গুরুতর আহত ওই ব্যক্তি তমলুক জেলা হাসপাতালে পরে মারা যান। পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

মৃত অশোক বেরা নামে বছর চল্লিশের ওই ব্যক্তি নন্দকুমারের খঞ্চি বাজারে একটি সাইকেল মেরামতির দোকানে কাজ করতেন। ডিহিগুমাই গ্রামের তাঁর পাড়ার এক যুবক  তন্ময় বেরা তিন দিন আগে মুম্বই থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি ১৪ দিনের নিভৃতাবাসের নিয়ম না মেনে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, তন্ময় রবিবার বিকেলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। এ নিয়ে প্রথমে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা আপত্তি জানিয়ে তাঁকে বাড়ির ভিতরে থাকার কথা বলেন। কিন্তু তন্ময় তাতে কোনও গুরুত্ব দেননি বলে  অভিযোগ। 

রবিবার রাতে খঞ্চি বাজারে দোকানে কাজ সেরে রাত ৯টা নাগাদ অশোক বাড়ি ফিরেছিলেন। তার পরে তিনি এবং স্থানীয় কয়েকজন মহিলা তন্ময়ের বাড়ি গিয়ে তাঁর বাইরে ঘুরে বেড়ানোর প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে প্রথমে দু’পক্ষের মধ্যে বচসা হয়। অভিযোগ, সে সময় তন্ময় ক্ষুদ্ধ হয়ে বাঁশ দিয়ে অশোকের মাথায় সজোরে আঘাত করেন। মারধর করা হয় গঙ্গা বেরা নামে এক মহিলাকেও। গুরুতর আহত অশোককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে নন্দকুমার ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। পরে নিয়ে যাওয়া হয় তমলুকেরই একটি নার্সিংহোমে। সেখানে থেকে অশোককে ফের জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ সেখানে তিনি  মারা যান। স্থানীয় সূত্রের খবর, অশোকের স্ত্রী এবং সন্তান রয়েছে।

উল্লেখ্য, জেলায় ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের করোনা স্বাস্থ্যবিধি ভেঙে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ জেলার আরও অনেক এলাকাতেই উঠেছে। এ নিয়ে কোথাও কোথাও পরিযায়ী শ্রমিকদের সঙ্গে বাসিন্দাদের নন্দকুমারের মতো সংঘাতও হচ্ছে। 

রবিবার রাতে নন্দকুমারের ওই ঘটনায় এলাকায় শোরগোল পড়ে। অশোক বাদে অন্য আহত মহিলাকে নন্দকুমার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে অশোকের পরিবারের তরফে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। নন্দকুমার থানার পুলিশ তার ভিত্তিতে সোমবার তন্ময়কে গ্রেফতার করেছে। 

তমলুকের এসডিপিও অতীশ বিশ্বাস বলেন, ‘‘এক ব্যক্তিকে মারধর করা হয়েছিল। পরে তিনি মারা যান। এ বিষয়ে অভিযোগ এসেছে। তার ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন