তৃণমূল নেতা কুরবান শা খুনের ঘটনায় প্রথম থেকে সিআইডি তদন্তের দাবি করে আসছে নিহতের পরিবার। বৃহস্পতিবার কুরবানের স্মরণসভায় দলের জেলা সভাপতি শিশির অধিকারীর সামনে ফের সিআইডি তদন্তের দাবি জানালেন কুরবানের দাদা ও স্ত্রী। যদিও শিশিরবাবুর দাবি, ‘‘কুরবানের খুনি চিহ্নিত। সে পুলিশের জালের মধ্যেই আছে।’’

দুর্গাপুজোর নবমীর রাতে পাঁশকুড়ার মাইশোরায় দলীয় কার্যালয়ে দুষ্কৃতীদের গুলিতে খুন হন পাঁশকুড়া ব্লক তৃণমূলের কার্যকরী সভাপতি কুরবান। তাঁকে খুন করিয়েছে বিজেপি নেতা আনিসুর রহমান, এমনটাই দাবি করেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এখনও পর্যন্ত মাত্র একজন অভিযুক্ত ধরা পড়লেও মূল অভিযুক্ত আনিসুর ও তার সঙ্গী শেখ মোবারক এখনও ফেরার। এদিন মাইশোরা বাজারে কুরবানের স্মরণসভায় শিশিরের সামনে পুলিশি তদন্ত নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করলেও কুরবানের দাদা আফজল বলেন, ‘‘পুলিশ বসে নেই। তবে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি তদন্ত করুক এটাই আমাদের দাবি।’’

গত ১২ অক্টোবর পাঁশকুড়ায় কুরবান হত্যার ধিক্কার মিছিলে যোগ দিতে এসে শুভেন্দু জানিয়েছিলেন,পুলিশ চাইলে অভিযুক্ত ভারতবর্ষের যেখানেই থাকুক না কেন তাকে ধরতে পারবে। এদিন শুভেন্দুর সুরেই শিশির বলেন, ‘‘আমাদের আর কিছুদিন সময় দিন। দোষী পুলিশের জালের মধ্যেই আছে। তদন্ত ঠিক পথেই এগোচ্ছে। খুব শীঘ্রই সমস্ত সত্য সামনে আসবে।’’ আনিসুরের নাম না করে শিশির বলেন, ‘‘কুরবানকে এর আগে একাধিকবার খুনের চেষ্টা করেছিল দোষী। উৎসবের রাতে মানুষজনের ভিড় ও পুলিশ প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে সে এই নির্মম কাজ করেছে। সে কোনও ভাবেই ছাড় পাবে না।’’

কুরবানের পরিবারের সিআইডি তদন্তের দাবি নিয়ে শিশির বলেন, ‘‘ওঁদের দাবি যেখানে পৌঁছনোর পৌঁছে গিয়েছে। পরিবার চাইলে সিআইডি তদন্ত হতে পারে। তবে দোষী পুলিশের জালের মধ্যেই আছে।’’

এদিন আট দিনের ব্যবধানে জেলায় দু’জন তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন সাংসদ। খুনের ঘটনা বিজেপিই ঘটিয়েছে বলে তাঁর দাবি। শিশির বলেন, ‘‘বাম ও রাম মিলে তৃণমূলকে শেষ করতে মাঠে নেমেছে। আপনারা রাজনৈতিকভাবে এদের মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত হন।’’ এদিন বিকেল ৫ টা নাগাদ মাইশোরা বাজারে কুরবানের স্মরণসভায় পৌঁছন শিশিরবাবু। মঞ্চে ছিলেন দলের পাঁশকুড়া ব্লক ও শহর নেতৃত্ব, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতিও।

কুরবানের মৃত্যুর পর শুভেন্দু কুরবানের স্ত্রীকে পাঁশকুড়ায় একটি সমবায় ব্যাঙ্কে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এদিন নিহতের স্ত্রী সাবানা শিশিরকে জানান, তিনি ব্যাঙ্কের চাকরি করতে পারবেন না। তাঁকে যেন প্রাথমিকে চাকরি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। শিশিরবাবু তাঁর সেই আবেদন বিবেচনা করার আশ্বাস দিয়েছেন।