পরিবার থেকে বন্ধু মহল, বারবার নাবালিকাদের বিয়ে হয়ে যেতে দেখেছে সে। দেখেছে কাঁচা বয়সে বিয়ের যন্ত্রণা। আর সেই তাগিদেই নাবালিকা বিয়ে রোখার বার্তা দিয়ে নাটক লিখে ফেলেছে নারায়ণগড়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী রাধামণি তরাই। বৃহস্পতিবার বিকেলে সেই নাটকের অভিনয়ও হল।

এ দিন মকরামপুরের গুড়ি বাটিটাকি গ্রামে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র চত্বরে ওই নাটকে পড়ুয়ারাই অভিনয় করেছে। এই গুড়ি গ্রামেই গত নভেম্বরে চার নাবালিকার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। স্কুল জানতে না পারায় তাদের বিয়ে রোখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে নারায়ণগড়ের গোবিন্দপুর মকরামপুর স্বর্ণময়ী শিক্ষা নিকেতনের ছাত্রী রাধামণির লেখা নাটক অভিনয় করা হল ওই গুড়ি গ্রামে।

গত অগস্টে নাটকটা লিখেছিল রাধামণি। স্কুলে প্রাক্ শারদীয়া উৎসবে বন্ধুদের নিয়ে সেই নাটক পরিবেশন করেছিল রাধামণি। পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তমকুমার মোহান্তি এবং ইংরেজির শিক্ষক সঞ্জয় হাজরার উদ্যোগে নাটকের দল গড়া হয়েছে। এই দলই বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে নাটকের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা ছড়াবে। 

নারায়ণগড় ব্লকে বহু জনজাতি পরিবারের বাস। কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, সবুজসাথী প্রকল্পের প্রসারের পরেও এই পরিবারে মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ বন্ধ হয়নি। রাধামণি বলছিল, ‘‘আঠারো হওয়ার আগে অনেকের বিয়ে হতে দেখেছি। আমার পিসির মেয়েকে তো শ্বশুরবাড়ির লোকজন নির্যাতন করত। তিন বান্ধবীরও বিয়ে হয়ে গেল গত নভেম্বরে। সে কারণেই নাটক লিখেছি। আমার নাটকের চরিত্র রুম্পার মতো যাতে কাউকে মরতে না হয়, সেই বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছি।’’

নাটকের চরিত্র রুম্পাকে আঠারো বছরের আগেই বিয়ে দেওয়া হয়। শ্বশুরবাড়ির নির্যাতন চলত। পরে অন্তঃসত্ত্বা অবস্থা মৃত্যু হ তারয়। পরে রুম্পার বান্ধবী নাবালিকা বিয়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায়। 

নাটকে এই বান্ধবীর চরিত্রে নিজেই অভিনয় করেছে রাধামণি। মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী এই ছাত্রীর স্কুলের শিক্ষক সঞ্জয় হাজরার কথায়, ‘‘রাধামণির ভাবনা নাটকে রূপ পেয়েছে। বিভিন্ন গ্রামে এই নাটক পরিবেশন করা হবে।’’

মাধ্যমিকের প্রস্তুতির মধ্যেই স্কুলে নাটকের মহড়া সারে রাধারাণি। একরত্তি মেয়ের এমন উদ্যোগের প্রশংসায় সকলেই। গ্রামবাসী শক্তিপদ ভুঁইয়া, বীরেন ভুঁইয়ারা বলেন, ‘‘এই উদ্যোগ সত্যি প্রশংসনীয়।’’ আর ওই ছাত্রীর স্কুলের প্রধান শিক্ষক উত্তমকুমার মোহান্তি বলেন, ‘‘আমরা চাই এ রকম আরও রাধামণি উঠে আসুক।’’