• আনন্দ মণ্ডল
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ঐতিহ্য-প্রকৃতির মিশেলে নয়া প্যাকেজ ট্যুর

দু’রাত্তির তিন দিন দিঘা-মন্দারমণি। এই ছবিটা খুব চেনা। এ বার পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন ঐতিহাসিক নির্দশন আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও ভাগ বসাবে এই দু’দিনে।

তমলুক, ময়নাগড়, মহিষাদল রাজবাড়ি, গেঁওখালির ত্রিবেণী সঙ্গম, পঁচেটগড়, বাহিরী, হট্টনাগর মন্দির জেলার ইতিহাসের সাক্ষী। ফলে ভ্রমণ পিপাসু পর্যটকদের আকর্ষণের উপাদানের অভাব নেই। কিন্তু এইসব দর্শনীয় স্থানকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তোলার প্রচেষ্টায় ঘাটতি থেকে গিয়েছে বলে অভিযোগ।

 দিঘা, মন্দারমণি ও তাজপুরের সমুদ্র সৈকত যতটা প্রচারের আলো পায় তার ছিটেফোঁটাও জোটে না জেলার অন্য দর্শনীয় স্থানের ক্ষেত্রে। অভিযোগের তালিকায় দাঁড়ি টানতে তাই এ বার উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের। জেলার বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র ও দর্শনীয়স্থানগুলিকে নিয়ে দু’দিনের প্যাকেজ ট্যুরের পরিকল্পনা নিয়েছে জেলা প্রশাসন। বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলির পরিকাঠামোর পর্যালোচনা ও ভ্রমণার্থীদের জন্য সুষ্ঠু যাতায়াত ব্যবস্থা নিয়ে সম্প্রতি বৈঠক হয় জেলা প্রশাসন অফিসে। হাজির ছিলেন দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান তথা কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী, জেলাশাসক রশ্মি কমল, অতিরিক্ত জেলাশাসক (ট্রেজারি) প্রশান্ত অধিকারী প্রমুখ।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠকে জেলার পরিচিত কয়েকটি পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি নতুন করে কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী স্থানের সংরক্ষণের কথাও ভাবা হচ্ছে। পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রস্তাব এসেছে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতিগুলির কাছ থেকে।

যেমন নন্দকুমার ব্লকের নরঘাটে হলদি নদীর সেতুর কাছে লবণ সত্যাগ্রহ স্মারক তৈরি ও কুমরআড়া গ্রামে বিপ্লবী বাঘা যতীনের নামে একটি মুক্তমঞ্চ তৈরি করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের আলিনান ও হোগলা গ্রামে মাতঙ্গিনী হাজরার পূর্ণাঙ্গ মূর্তিস্থাপন করাও তারই তালিকাভুক্ত। আলোচনা হয়েছে পটাশপুর-২ ব্লকের কাটনাদিঘি জলাশয়কে ঘিরে করে ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র গড়ে তোলার বিষয়েও। তমলুক শহরের প্রাচীন তাম্রলিপ্ত রাজবাড়ি এখন ভগ্নপ্রায়। ময়নাগড়ের পরিখা ঘেরা রাজবাড়ি চত্বর সংরক্ষণের অভাবে তাঁর সৌন্দর্য হারাচ্ছে বলে অভিযোগ। শুধুমাত্র মহিষাদলের পুরনো রাজবাড়ির সংরক্ষণের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার অর্থ বরাদ্দ করেছে। ময়নাগড় রাজপরিবারের প্রবীণ সদস্য তথা অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক প্রণব বাহুবলীন্দ্রের আক্ষেপ, ‘‘ময়নাগড় এলাকা সংরক্ষণের জন্য যথাযথ উদ্যোগ না নেওয়ায় রাজবাড়ি, মন্দির-সহ গড়ের এলাকা সৌন্দর্য হারাচ্ছে। অনেকেই এখআনে আসতে চান। কিন্তু পরিকাঠামো ঠিক না থাকায় কাউকে আমন্ত্রণ জানানো যায় না। পরিকাঠামোর উন্নতিতে নজর দিলে ভালই হবে।’’

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ও পর্যটন কেন্দ্রগুলিকে দুটি ভাগে ভাগ করে নিয়ে দু’দিনের প্যাকেজ ট্যুর চালুর জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তমলুক, হলদিয়া মহকুমার থাকা তাম্রলিপ্ত রাজবাড়ি, ময়নাগড়, মহিষাদল রাজবাড়ি, হলদিয়া বন্দর ও গেঁওখালি প্রভৃতি দর্শনীয় স্থানগুলিকে নিয়ে হবে প্রথম দিনের যাত্রা। আর দ্বিতীয় দিনে থাকবে দিঘা, খেজুরি, বাহিরী, কপালকুন্ডলা মন্দির, পঁচেটগড় রাজবাড়ি, হট্টনাগর মন্দির। এ বিষয়ে প্রশাসনিক অনুমোদনের জন্য রাজ্য পর্যটন দফতরের কাছে জেলা প্রশাসনের তরফে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরের অতিরিক্ত জেলাশাসক (ট্রেজারি) প্রশান্ত অধিকারী বলেন, ‘‘জেলার ঐতিহ্যময় প্রাচীন রাজবাড়ি, মন্দির-সহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানগুলিতে পর্যটকদের ভ্রমণের সুবিধার্থে প্যাকেজ ট্যুর চালুর জন্য পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পেতে ও সাহায্যের জন্য রাজ্য পর্যটন দফতরের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন