এক মাসের মধ্যে তিনটি দুর্ঘটনা। ঘটনাস্থল সেই গোপালপুরের ভট্টপাড়া। বুধবার দুপুরে হলদিয়া-নন্দকুমার রাজ্য সড়কের ওই এলাকায় একটি বাস দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ১৫ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিন দুপুর ১টা নাগাদ হলদিয়াগামী একটি বাস গোপালপুর বাসস্ট্যান্ডের অদূরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বাড়িতে ঢুকে পড়ে। বিক্রমজিৎ মাইতি নামে এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘বাসটি প্রথমে বাড়ির পিছনে রাখা একটি মোটর বাইক এবং গাড়িতে ধাক্কা মারে। তারপর দেওয়াল ভেঙে বাড়িতে ঢুকে যায়।’’ দুর্ঘটনায় আহত হন কমপক্ষে ১৫ জন যাত্রী। স্থানীয়েরাই বাসের ভিতর থেকে তাঁদের বের করানোর কাজে হাত লাগান। পরে আহতদের বাসুলিয়া গ্রামীন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় পাঁচ জনকে তমলুক জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মহিষাদল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে বিক্ষোভ দেখায় জনতা। তাদের অভিযোগ, রাস্তার দু’পাশ দখল করে দোকান, বাড়ি বানানো হয়েছে। তা ছাড়া, ইমারতির জিনিস ফেলে রাখায় রাস্তা সরু হয়ে গিয়েছে। ফলে  বারবার দুর্ঘটনা ঘটছে। পুলিশকে জানিয়েও লাভ হয়নি।

উল্লেখ্য, সপ্তাহ দুয়েক আগে ওই একই জায়গায় হলদিয়া–তারকেশ্বর এবং হলদিয়া-কোলাঘাট রুটের দুটি বাস দোকানে ঢুকে পড়েছিল। এক জন মারা যান। ১০ জন জখম হন। মাত্র এক মাসের মধ্যে একই জায়গায় তিনটি দুর্ঘটনা ঘটায় ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। স্থানীয় বাসিন্দা শচীনন্দন অধিকারী বলেন, ‘‘ওই এলাকা দুর্ঘটনাপ্রবণ হিসাবে পরিচিত। তা সত্ত্বেও রাস্তার পাশে যে ভাবে দখলদারি চলছে, তা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।’’ পুলিশের দাবি, দুর্ঘটনা এড়াতে ওই জায়গায় সদ্য ডিভাইডার বসানো হয়েছিল।

রাস্তা দখল নিয়ে মহিষাদলের বিডিও জয়ন্তকুমার দে বলেন,  ‘‘এমন অভিযোগ আগে পাইনি। যদি কেউ অভিযোগ জানান তবে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।’’