জয় মিলেছিল আগেই। শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুরে অধিকাংশ গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন করেছে শাসকদল তৃণমূল। তবে কিছু এলাকায় কাঁটার মতো বিঁধেছে নির্দল এবং বিরোধী। 

তমলুকের শ্রীরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে নির্দল সদস্যদের সমর্থন নিয়ে বোর্ড গড়ে বিজেপি। ১৪টি আসনের ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল ৫টি, বিজেপি ৪টি এবং নির্দল প্রার্থী ৫টি আসনে জয়ী হয়েছিল। এ দিন বোর্ড গঠনের সভার আগে তৃণমূল ও বিজেপি দুই শিবিরের মধ্যেই নির্দল সদস্যদের নিয়ে তৎপরতা দেখা যায়। তবে পাঁচ নির্দল সদস্য বিজেপি সদস্যদের সঙ্গে জোট বেঁধে বিজেপি’র মঞ্জুরানি বেরাকে সমর্থন করে প্রধান পদে নির্বাচিত করে। আর বিজেপি’র সদস্যরা নির্দল সদস্য শঙ্কর বর্মনকে উপ প্রধান পদে সমর্থন করেন। উল্লেখ্য, শ্রীরামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতে গত ২৫ বছর ধরে বোর্ড ছিল কংগ্রেস ও তৃণমূলের হাতে। এবার তৃণমূলকে হারিয়ে এই প্রথম বিজেপি বোর্ড 

গঠন করল। 

বিজেপি’র জেলা সাধারণ  সম্পাদক  নীলাঞ্জন অধিকারী বলেন, ‘‘তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতে দুর্নীতির নালিশ ছিল। তার বিরুদ্ধে এবার নির্বাচনে মানুষ বিজেপিকে সমর্থন করেছেন।’’ তৃণমূলের তমলুক ব্লক সভাপতি প্রদ্যোৎ বর্মন অবশ্য বলেন, ‘‘ভোটে বিজেপি ও বামফ্রন্ট জোট করার ফলে ওখানে আশানুরূপ ফল হয়নি। গ্রাম পঞ্চায়েতে দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন।’’ 

আবার অন্য রকম বোর্ড গড়েছে কোলাঘাটের সাগরবাড় গ্রামে। ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় ছিল কংগ্রেস। এবারের ভোটে ১৪টি আসনের মধ্যে জোট গড়ে কংগ্রেস ৬টি ও বামফ্রন্ট ২টি আসনে জেতে। ৬টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু কয়েকদিন আগে বিদায়ী পঞ্চায়েত প্রধান তথা এবারের পঞ্চায়েত ভোটে জয়ী সুরজিৎ মাইতি-সহ ৬জন কংগ্রেস সদস্য তৃণমূলে যোগ দেন। এ দিন গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান পদের নির্বাচনে কংগ্রেস ছেড়ে সদ্য তৃণমূলে যোগ দেওয়া সদস্য চম্পারানি ভৌমিক জয়ী হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। উপ প্রধান হন তৃণমূল সদস্য শেখ হাসিবুল। 

এদিকে, মহিষাদলে বোর্ড গঠন ঘিরে শাসকের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব তুঙ্গে উঠেছে। নাটশাল-২ গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান পদে একাধিক দাবিদার হওয়ায় বিপত্তি বাধে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। কয়েকদিন আগে দুই দলীয় সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন বিক্ষুব্ধরা। দলীয় সূত্রের খবর, ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পদে সবিতা ধাড়া, সারবিনা বিবি ও অনিমা পট্টনায়কের নাম উঠে এসেছিল বুথ সভাপতিদের বৈঠকে। একাধিক নাম নিয়ে প্রধান পদে চূড়ান্ত নাম ঘোষণায় ‘বিব্রত’ হয়ে পড়েন নেতৃত্ব। তাই এ দিন ব্লক অফিসে তৃণমূলের নির্বাচিত১৩ জন জয়ী সদস্যকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে অনিমা পট্টনায়কের নাম চুড়ান্ত করে ব্লক নেতৃত্ব। 

প্রধান বাছাই নিয়ে ঐক্যমত হচ্ছিল না বলে স্বীকার করে নিয়েছেন অঞ্চল সভাপতি কমলাকান্ত মণ্ডল। তবে তাঁর দাবি, ‘‘এ দিন সব সদস্য সর্ব সম্মতিক্রমে প্রধান পদে অনিমাকে মেনে নিয়েছেন। তাই আর কিছু বলার নেই।’’ অন্যদিকে, নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের তিনটি গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপ প্রধান নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এদিন। বিরুলিয়া, বয়াল-২ এবং আমদাবাদ-১ গ্রাম পঞ্চায়তে সর্ব সম্মতিতে প্রধান ও উপ প্রধান নির্বাচন হয়েছে বলে দাবি ব্লক সভাপতি মেঘনাথ পালের।