• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিদ্যুৎ বিধি ভেঙে নির্মাণ, দেখবে কে!

death
বুধবার তমলুকে হাই টেনশন লাইনে দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু।

এলাকার উপর দিয়েই গিয়েছে হাইটেনশন জোড়া বিদ্যুতের লাইন। একটি ১১ হাজার ভোল্টের ও অন্যটি ১ লক্ষ ৩২ হাজার ভোল্টের। দুই বিদ্যুৎ লাইনের নীচে তমলুক পুরসভার উদ্যোগে তিনদশক আগে তৈরি হয় বেশ কিছু বাড়ি। প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গাঁধীর স্মৃতিতে এলাকার নাম দেওয়া হয়েছিল ইন্দিরা কলোনি। শহরের পদুমবসান এলাকার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে ওই কলোনিতে বাসিন্দার সংখ্যাবৃদ্ধির সঙ্গে অনেকেই পুরনো টালির বাড়ির বদলে পাকাবাড়ি তৈরি করেছে। পুরসভার অনুমতির তোয়াক্কা না করেই ওই সব পাকাবাড়ি তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ।

বুধবার ওই কলোনিতে তেমনি একটি বাড়িতে নির্মাণ কাজ চলার সময় পাশ দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্ট ক্ষমতার বিদ্যুতের তারে লেগে মৃত্যু হয় রাজমিস্ত্রি শেখ হারুনের (৩৮)। এলাকাবাসীও মানছেন, পুরসভার জমিতে কলোনির বেশকিছু বাসিন্দা টালির চালের বাড়ি ভেঙে বেআইনিভাবে বাড়ি দোতলা করছেন। হাইটেনশন বিদ্যুতের লাইনের নীচে ও পাশ দিয়েই এই সব বাড়ি তৈরির ফলে যে কোনও সময় বিপদের সম্ভবনা রয়েছে। পুর কর্তৃপক্ষ কলোনির বাড়ি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তা আর হয়নি। তা ছাড়া হাইটেনশন লাইন সরানোর জন্যও একাধিকবার দাবি জানানো হয়। কিন্তু সে ব্যাপারেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

শুধু ইন্দিরা কলোনি নয়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই বহুতল নির্মাণ হচ্ছে বলে জেলা বিদ্যুৎ দফতরের অভিযোগ। এ নিয়ে পুরসভা কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্ত্বেও পুরসভার তরফে ওইসব নির্মাণ বন্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বিপদের আশঙ্কা বাড়ছে।

বিদ্যুৎ দফতর সূত্রে খবর, ইন্দিরা কলোনি এলাকায় পুরসভার জায়গার উপর দিয়ে বিদ্যুতের হাইটেনশন লাইন টানা হয়েছিল ১৯৭০ সাল নাগাদ। ইন্দিরা কলোনি তৈরি হয়েছে ১৯৮৭ সাল নাগাদ। সে সময় বিদ্যুৎ লাইনের নীচে অনেক বাড়ি বানানো হয়েছে। এখন ওইসব বাড়ির বাসিন্দাদের একাংশ বেআইনিভাবে বাড়ি দোতলা করার জেরে এমন সমস্যা হচ্ছে। ইন্দিরা কলোনি ছাড়াও শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে চককামিনা এলাকায় রেলস্টেশনগামী রাস্তার ধারেই ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎলাইনের পাশে বেআইনি ভাবে একটি পাকাবাড়ি  নির্মাণে বাড়ির মালিককে সতর্ক হয়েছে। শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে রত্নালি এলাকায় হলদিয়া-মেচেদা সড়কের পাশে ৩৩ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎলাইনের নীচেই একতলা পাকাবাড়ি তৈরি করা হয়েছে। মাস দু’য়েক আগে ওই এলাকাতেই বিদ্যুতের লাইন ঘেঁষে একটি তিনতলা বাড়ি তৈরির কাজ আটকানো হয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিকদের মতে, হাইটেনশন লাইনের নীচে ও পাশে ৬ ফুট দূরত্বের মধ্যে বাড়ি তৈরি নিয়মবিরুদ্ধ। কিন্তু সেই নিয়ম না মেনেই অবাধে নির্মাণ চলছে। বাড়ি নির্মাণের সময় পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা পরিদর্শনে যান। সে ক্ষেত্রে পুর কর্তৃপক্ষের ওইসব নির্মাণ বন্ধ করতে পদক্ষেপ করা উচিত।

বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থার পূর্ব মেদিনীপুর রিজিওনাল ম্যানেজার শ্যামল হাজরা বলেন, ‘‘বিদ্যুৎ লাইনের পাশে ও নীচে বাড়ি নির্মাণ রুখতে আমরা ব্লক ও পঞ্চায়েতস্তরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থার জন্য বৈঠক করি। এবিষয়ে পুরসভার সঙ্গেও আলোচনা করা হবে।’’ তমলুকের পুরপ্রধান রবীন্দ্রনাথ সেন বলেন, ‘‘বিদ্যুৎলাইনের পাশে ও নীচে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগ পেলেই পদক্ষেপ করা হয়।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন