রাজ্যের সাব পোস্ট অফিসগুলিতে ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গিয়েছে কম্পিউটার। ডিজিটাল ইন্ডিয়া গড়ার লক্ষ্যে মাস ছয়েক আগে  রাজ্যের সমস্ত শাখা পোস্ট অফিসে অনলাইন আদান প্রদানের জন্য চালু হয়েছে আরআইসিটি। যার পুরো নাম ‘দ্য রুরাল ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি’। এই বিশেষ পদ্ধতিতে যন্ত্রের সাহায্যে শাখা পোস্ট অফিসের সমস্ত লেনদেন হবে অনলাইনে। পোস্টমাস্টারের পাশাপাশি গ্রাহকেরা নিজেই শাখা পোস্ট অফিসে এসে টাকা জমা, তোলা, ডাকটিকিট সংগ্রহ, চিঠিপত্র আদান প্রদান প্রভৃতি সমস্ত কাজ এই যন্ত্রের মাধ্যমে করতে পারবেন।

শাখা পোস্ট অফিসগুলিতে এই যন্ত্র আসার পর খাতায় কলমে কাজ পুরোপুরি বন্ধ। গোটা দেশ জুড়ে যখন ‘ফোর জি’ নেটওয়ার্কের রমরমা তখন এই আরআইসিটি যন্ত্র ‘থ্রি জি’ প্রযুক্তির। এ ছাড়া গ্রামাঞ্চলে এখনও বহু জায়গা রয়েছে যেখানে মোবাইল পরিষেবা পাওয়া যায় না। এই অবস্থায় যন্ত্রের গোলযোগে জেলা জুড়ে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে আইআরসিটি পরিষেবা। শাখা পোস্ট অফিসগুলির মূলত অভিযোগ, যন্ত্রে অধিকাংশ সময় ইন্টারনেট সংযোগ থাকছে না। থাকলেও এক একটি আদান প্রদানে দীর্ঘ সময় লেগে যাচ্ছে। পোস্ট অফিসগুলিতে একে পর্যাপ্ত কর্মীর অভাব। তার উপর নয়া প্রযুক্তি নিয়ে অতিষ্ঠ ডাককর্মীরাও।

যেমন তমলুক ডিভিশনের ভোগপুর সাব পোস্ট অফিসের অধীন নয়টি শাখা ডাকঘরে মাস ছয়েক আগে চালু হয়েছে আইআরসিটি যন্ত্র। এখানকার ব্যস্ততম শাখা ডাকঘর দেড়িয়াচক। এলাকার ৬টি গ্রামের মানুষ পোস্টাল লেনদেনের জন্য নির্ভর করেন এই পোস্ট অফিসের ওপর। কিন্তু অধিকাংশ সময় যান্ত্রিক সমস্যার জন্য কাজ করা যাচ্ছে না বলে গ্রাহকদের অভিযোগ। দেড়িয়াচক শাখা পোস্ট অফিসের গ্রাহক কার্তিক সাহু বলেন, ‘‘যন্ত্র আসার পর একটি কাজ করতে আধঘণ্টার বেশি সময় লেগে যাচ্ছে। কখনও আবার হচ্ছেই না। বাধ্য হয়ে পোস্টমাস্টার গ্রাহকদের ভোগপুরে সাব পোস্ট অফিসে যেতে বলছেন। এখান থেকে যার দূরত্ব ৫ কিলোমিটার। এতে ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে গ্রাহকদের।’’ তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এই সব যন্ত্র বদলে নতুন যন্ত্র আনা হোক, যাতে দ্রুত কাজ করা যায়। 

‘‘দেড়িয়াচক শাখা ডাকঘরের পোস্টমাস্টার অরুণ আদক বলেন, ‘‘যন্ত্র আসার পর কাজ করাই যাচ্ছে না। একই জায়গায় একই নেটওয়ার্কে মোবাইলের ইন্টারনেট কাজ করলেও আরআইসিটি যন্ত্র কাজ করছে না। মনে হচ্ছে যন্ত্রে প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে। এমনিতেই এখানে কর্মীর অভাব। তার ওপর নতুন এই সমস্যায় কাজের পাহাড় জমে যাচ্ছে।’’

ভোগপুর সাব পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার সুশান্ত হেমব্রম বলেন, ‘‘সমস্যার কথা জেলায় জানিয়েছি। শাখা অফিসগুলিতে কাজ কার্যত না হওয়ায় আমাদের ওপর চাপ বাড়ছে।’’ এ বিষয়ে জেলার ডাক বিভাগের ডিভিশনাল সুপারিন্টেন্ডেন্টের অফিসে ফোন করা হলে কেউ  ফোন ধরেননি।