মাথার উপর খোলা আকাশ। দু-এক পশলা বৃষ্টি পড়লে দৌড়ে পালাতে হয় প্রতিবেশী কার ও বাড়িতে। এক ফালি সরু কংক্রিটের বসার আসন। এভাবেই চলে মহিষাদল ব্লকের গোপালপুর গ্রামের আইসিডিএস কেন্দ্র। অভিযোগ-বছরখানেক আগে আইসিডিএস কেন্দ্রের নতুন ভবন গড়ে তোলার জন্য জমি দেওয়া হয়েছিল। তা সত্বেও নতুন ভবন তৈরির কাজ এখনও শুরু হয়নি।
 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে-মহিষাদল ব্লকের গোপালপুর গ্রামে স্থানীয় একটি শীতলা মন্দিরের বারান্দায় আইসিডিএস এর ক্লাস চলে। গ্রামের জনা পঞ্চাশেক খুদে পড়ুয়া সেখানে নিয়মিত পড়াশুনো করে। কিন্তু পড়ুয়াদের মাথার উপরে যেমন কোনো স্থায়ী ছাউনি নেই। অভিভাবকদের দাবি-বৃষ্টি কাল এবং গ্রীষ্মকালে বাচ্চাদের পক্ষে অত্যন্ত কষ্টদায়ক হয়ে ওঠে। আকাশে মেঘ দেখলেই তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়। তার জন্য বাড়ির তরফ সে একজন কে বাচ্চার সঙ্গে নিয়মিত যেতে হয়। শুধু পড়াশোনা নয়, বাচ্চাদের মিড ডে মিলের রান্না যেখানে হয় ওই জায়গা নিয়ে আপত্তি রয়েছে অভিভাবকদের। কেননা ত্রিপল এর ছাউনির তলায় এক প্রকার সুরক্ষা ছাড়া বাচ্চাদের খাবার রান্না করা হয়।
 
স্থানীয়দের দাবি-গতবছর ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই গ্রামে স্থায়ী আইসিডিএস কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য জমি চেয়ে পাঠান হয়। সেইমতো গ্রাম কমিটির পক্ষ থেকে আড়াই ডেসিমল জমি তারা ব্লক প্রশাসনের হাতে তুলে দেয়। গ্রাম কমিটির সম্পাদক শান্তি গোপাল চক্রবর্তীর কথায়-বছরখানেক আগে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত মেনে আইসিডিএস কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য জমি দেওয়া হয়। কিন্তু এখনও ভবন তৈরির জন্য কোন প্রশাসনিক উদ্যোগ চোখে পড়েনি। তাই বাচ্চাদের কথা বিবেচনা করে আমরা অত্যন্ত হতাশ। প্রাথমিকভাবে ব্লক প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই জমি নিয়ে আইনি জটিলতা র তত্তও খাড়া করা হচ্ছিল। পরে অবশ্য বলা হয়-আর আই ডি এফ প্রকল্পের মাধ্যমে গোপালপুর গ্রামে আইসিডিএস কেন্দ্রের ভবন গড়ে তোলা হবে। একইসঙ্গে ব্লকের আর ও ৪৩ টি আইসিডিএস ভবন তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
 
এ ব্যাপারে ব্লকের আইসিডিএস প্রকল্প আধিকারিক জানিয়েছেন-রাজ্য সরকারের কাছ থেকে দ্রুত অনুমোদন মিলবে বলে আশা করছি। তারপরই ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যাবে। তবে মহিষাদলের বিডিও জয়ন্ত কুমার দে বলেন-বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ করব।