• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

হৃদ্‌রোগে মৃত্যু কর্ণ-কাণ্ডে জখম পুলিশকর্মীর

Karna
বাইকে করে পালানোর চেষ্টা কুখ্যাত দুষ্কৃতী কর্ণর। —ফাইল চিত্র

Advertisement

আদালত চত্বরে পুলিশি হেফাজত থেকে বোমা-গুলি ছুড়ে পালিয়েছিল কুখ্যাত দুষ্কৃতী কর্ণ বেরা এবং তার সঙ্গী শেখ মুন্না। ওই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন এক এএসআই। পরে অবশ্য সুস্থ হয়ে তিনি ফের কাজে দিয়েছিলেন। বুধবার সন্ধ্যা বেলায় মৃত্যু হল তাঁর। অভিযোগ, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গিয়েছেন। মৃতের পরিবারের দাবি, কর্ণ-কাণ্ডের পর থেকেই ওই ব্যক্তি মানসিক ভাবে খুব দুশ্চিন্তায় ভুগতেন।  

পুলিশ সূত্রের খবর, মৃতের নাম সুশান্ত রানা (৪৯)। তাঁর বাড়ি হাওড়া জেলার আমতা থানা এলাকায়। তবে কর্মসূত্রে স্ত্রী এবং কন্যাকে নিয়ে কাঁথির সরকারি আবাসনে থাকতেন সুশান্ত। তিনি কাঁথি আদালতে আসামীদের হাজিরা খানা বিভাগে কাজ করতেন বলে আদালতের আইনজীবী সূত্রের খবর। গত অক্টোবরে আদালতে হাজিরার সময় দুষ্কৃতী কর্ণ বেরা, শেখ মুন্না এবং তাদের সঙ্গীরা বোমা এবং গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে গিয়েছিল। অভিযোগ, তাদের হাতে আক্রান্ত হয়েছিলেন সুশান্ত। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তাঁকে।

সুশান্তের সহকর্মীরা জানিয়েছেন,  সুস্থ হয়ে কয়েকদিন আগেই কাজে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় কাঁথির সরকারি আবাসন থেকে বেরিয়েছিলেন সুশান্ত। স্থানীয়েরা জানাচ্ছেন, শহরের সেন্ট্রাল বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি এটিএম ঢুকেছিলেন সুশান্ত। সে সময় তিনি আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে অভিযোগ। তাঁকে টোটোয় করে কাঁথি মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। হাসপাতাল সূত্রের খবর, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে সুশান্তের মৃত্যু হয়েছে।

সুশান্তের স্ত্রী শম্পা রানা বৃহস্পতিবার বলেন, ‘‘কর্ণের ওই গুলি-কাণ্ডের পর থেকেই উনি খুব চিন্তা করতেন। বুধবার দফতর থেকে ফিরে রাতে মেয়ের টিউশনের ফিয়ের টাকা তুলতে এটিএমে গিয়েছিলেন। তার পরেই ওঁর হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাই।’’ উল্লেখ্য, পুলিশ কনস্টেবল খুনে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজাপ্রাপ্ত আসামী কর্ণকে বুধবারও অন্য মামলায়। কাঁথি আদালতে তোলা হয়েছিল।

দেবকুমার করণ নামে কাঁথির এক আইনজীবী বলেন, ‘‘দাগী আসামীদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তুত ছিলেন বলে মনে হত। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন বলে শুনেছি।’’ সুশান্তর মৃত্যুতে বৃহস্পতিবার  কর্মবিরতি পালন করে কাঁথি আদালতের আইনজীবীরা।

এই ঘটনায় কর্ণ-কাণ্ডের রেশ টানতে অবশ্য রাজি নয় পুলিশ। এ ব্যাপারে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গ্রামীণ) ইন্দ্রজিৎ বসু বলেন, ‘‘চাপের কিছু নয়। ওই পুলিশকর্মী হঠাৎ করে অসুস্থ বোধ করেন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর মারা গিয়েছেন। এর সঙ্গে আলাদা প্রসঙ্গ আনা উচিত নয়।’’

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন