বন্ধ ঘর থেকে মিলল এক ব্যক্তির পচাগলা দেহ। রবিবার সকালে এগরা পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের দলঅলুয়া গ্রামেওই ঘটনায় পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম বিপ্লব জানা (৪৫)। তাঁর বাড়ি কাঁথির মায়াপুঁট গ্রামে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পেশায় আয়ুর্বেদিক ওযুধের রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপ্লব পাঁচ মাস ধরে এগরার দলঅলুয়া গ্রামে কালিপদ মিশ্রের বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। কালিপদবাবু জানান, দোতলা বাড়িতে তিনি পরিবার নিয়ে নীচের তলায় থাকতেন। দোতলায় একাই থাকতেন বিপ্লব। প্রতিদিন সকালে কাজে বেরিয়ে যেতেন। ফিরতেন সন্ধ্যায়। দোতলায় ভাড়াটিয়া থাকার জন্য বিশেষ দরকার ছাড়া তাঁর পরিবারের সদস্যরা দোতলায় উঠতেন না। কেবল পাম্প চালাতে তিনি দোতলার বারান্দায় যেতেন।  রবিবার সকালে পাম্প চালাতে দোতলায় গেলে বিপ্লবের ঘর থেকে পচা দুর্গন্ধ পান। আশেপাশে কোথাও কিছু  দেখতে না পেয়ে সন্দেহ হওয়ায় তিনি খোলা জানলা দিয়ে বিপ্লবের ঘরে উঁকি দিয়ে দেখেন  মেঝেতে একজন উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে। পরে দেখেন দরজা ভেজানো। এর পর দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকে দেখেন বিপ্লবের পচাগলা দেহ। 

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ঘর থেকে দেহ উদ্ধার করে। পুলিশের অনুমান, ৪-৫ আগেই বিপ্লবের মৃত্যু হয়েছে। যেহেতু দোতলায় তিনি একাই থাকতেন তাই মৃত্যুর বিষয়টি বাড়ির মালিক টের পাননি। পুলিশ ঘর থেকে মদের বোতল, একটি ডায়েরি এবং বিপ্লবের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, ঘরের মধ্যে অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে বিপ্লবের মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘরটিকে সিল করে দিয়েছে। কালিপদ মিশ্র পুলিশকে জানান, গত কয়েক মাস ধরে ভাড়া থাকলেও বিপ্লবের আচরণে সন্দেহজনক কিছু নজরে পড়েনি।

এগরা থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের পরিবারের লোকজনদের খবর পাঠানো হয়েছে। তবে রবিবার রাত পর্যন্ত থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।