উইকএন্ড কিংবা ছুটির দিন মানেই অনেক পর্যটকের ঠিকানা-দিঘার সমুদ্র সৈকত। রাজ্যের অন্যতম এই পর্যটন কেন্দ্রে মানুষের উপচে পড়া ভিড় এখন সারা বছরের চিত্র। শীতের মরসুমে তা বেড়ে যায় আরও কয়েক গুণ। কিন্তু এ বার শীতের মরসুম শুরুর আগে মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে দিঘা যাওয়ার রাস্তা। নন্দকুমার থেকে দিঘা পর্যন্ত ১১৬ বি ওই জাতীয় সড়কে কাঁথি শহর ছাড়ার পর থেকেই কাহিল অবস্থা পর্যটকদের। খানাখন্দে ভরা জাতীয় সড়কের কারণে দিঘা ভ্রমণ যন্ত্রণার যাত্রা হয়ে দাঁড়িয়েছে পর্যটকদের কাছে।

কাঁথিদিঘা বাইপাস থেকে দিঘাগামী টানা ১৩ কিলোমিটার রাস্তা এবং একেবারে ঝাঁ-চকচকে। পর্যটকদের গাড়ি নিয়ে যেতে কোনও সমস্যা  নেই। অসুবিধায় পড়তে হয় না বাস-লরিচালকদেরও। কিন্তু পিছাবনি সেতু পার হওয়ার পরেই রাস্তার হাল দেখে বোঝা দুষ্কর যে এটা জাতীয় সড়ক। এখান থেকে দিঘা পর্যন্ত সড়কের বাকি ২০ কিলোমিটারই মাথাব্যথা যানচালকদের কাছে। মন্দারমণি যাওয়ার আগে চাউলখোলা বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার মুখে জাতীয় সড়কে বিশাল বি‌শাল গর্ত। সেখান থেকে দু’কিলোমিটার এগোলে চোখে পড়বে দেউলি বাংলা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার মাঝ বরাবর ভেঙেচুরে গিয়েছে। একই অবস্থা তাজপুরে ঢোকার আগে। সবচেয়ে বিপজ্জমনক পরিস্থিতি বালিসাই বাসস্ট্যান্ডের পর পরবর্তী ১৪ কিলোমিটার অংশ। রামনগর স্কুলের কাছে সড়কের এক প্রান্ত দিয়েই কোনওরকমে গাড়ি যাতায়াত করছে। রামনগরে খালের উপর সেতু পেরোনোর পর থানার সামনে জাতীয় সড়কে বড় বড় গর্ত। বৃষ্টি হলে যা যানচালকদের কাছে আরও বিপদ বয়ে আনে।
একই পরিস্থিতি অলঙ্কারপুর বাসষ্ট্যান্ড থেকে দিঘার প্রবেশদ্বার পর্যন্ত। প্রায় এক কিলোমিটার এই অংশে গাড়ি স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারে না  বলে চালকদের দাবি।

ঘেরসাই এলাকার বাসিন্দা মেঘনাথ করণ বলেন। ‘‘নামেই জাতীয় সড়ক। রাস্তার যে হাল হয়েছে তাতে যে কোনও সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তার উপর ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে প্রচুর ধুলো ওড়ায় আশপাশের বাড়ির জানলা দরজা বন্ধ রাখতে হয়। গাড়ির চাকায় রাস্তার বড় পাথর ছিটকে জখম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’’

উত্তর ২৪ পরগনার ঈশ্বরীগাছা থেকে গাড়িতে সপরিবার দিঘায় বেড়াতে এসেছিলেন পিন্টু হাজরা। তাঁর কথায়, ‘‘জুলাই মাসের শেযে একবার এসেছিলাম। তখন জাতীয় সড়কে যে খারাপ দশা দেখেছিলাম, এখনও তেমনই রয়েছে। রাস্তা সারানো না হলে অনেকেই এ পথ মাড়াবেন না।’’

রাস্তার এমন হাল অথচ আর মাসখানেক পর থেকেই দিঘায় শীতের মরসুমের ভিড় শুরু হবে। তাই উদ্বিগ্ন রামনগর-১ ব্লক প্রশাসন। বিডিও আশিস রায় বলেন, ‘‘জাতীয় সড়কের হাল খুবই শোচনীয়। পর্যটকদের যাতায়াতে অসুবিধা হচ্ছে। তবে দ্রুত রাস্তার কাজ শেষ করার জন্য আমরা জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।’’ রামনগরের বিধায়ক অখিল গিরির দাবি, ‘‘জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের কাজ ৭০ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। বৃষ্টির কারণে রাস্তা বহু জায়গায় ভেঙে গিয়েছে। তবে পর্যটনের মরসুম শুরুর আগেই ভাঙাচোরা অংশ সাময়িকভাবে মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে।’’
কিন্তু যেখানে এই রাস্তাকে জাতীয় সড়কের তকমা দেওয়া হয়েছে সেখানে কেন বার বার জোড়াতালি লাগিয়ে সংস্কার করা হবে?

এ বিষয়ে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের একজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার (তমলুক ডিভিশন) শিবশঙ্কর মালাকার বলেন, ‘‘দিঘা যাওয়ার পথে জাতীয় সড়কের কাজ সামান্য বাকি রয়েছে। নতুন বছর শুরুর আগে দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে।’’