রেলশহরে ভেস্তে গেল জার্সি বদল। সেই সূত্রে প্রকাশ্যে এল আরএসএস-বিজেপি দ্বন্দ্ব।

রেলকর্মীদের সংগঠন ‘রেলওয়ে মেনস কংগ্রেস’। মূলত কংগ্রেস প্রভাবিত ওই সংগঠনের সদস্যদের একাংশের ‘দক্ষিণ পূর্ব রেল মজদুর সঙ্ঘে’ যোগদানের কথা ছিল। সোমবার রেলশহরের প্রানকেন্দ্র বোগদার ডিআরএম অফিসের সামনে হয়েছিল সভার আয়োজন। ‘রেল মজদুর সঙ্ঘ’ আরএসএসের শ্রমিক সংগঠন ভারতীর সঙ্ঘের নিয়ন্ত্রণাধীন। উদ্যোক্তারা প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে। আয়োজনে ত্রুটি ছিল না। চেয়ার থেকে মঞ্চ—সব জায়গায় ছিল গেরুয়া ছাপ। দিলীপের পাশাপাশি হাজির ছিলেন বিজেপি জেলা নেতা প্রেমচাঁদ ঝা, রেলের পরামর্শদাতা কমিটির সদস্য সঞ্জয় হাজরা প্রমুখ। কিন্তু দেখা যায় ‘রেলওয়ে মেনস কংগ্রেস’-এর সদস্যেরা যে সংগঠনে যোগ দেবেন সেই ‘রেল মজদুর সঙ্ঘে’র নেতারাই মঞ্চে গরহাজির। কথা ছিল, ‘রেলওয়ে মেনস কংগ্রেস’-এর প্রায় কয়েক হাজার সদস্য জার্সি বদল করবেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত ভেস্তে যায় যোগদান কর্মসূচি।

এমন ঘটনায় সভার আয়োজক রেলকর্মীদের সঙ্গে বিরোধ দেখা দিয়েছে রেল মজদুর সঙ্ঘের। রেলকর্মীদের দাবি, তাঁদের মজদুর সঙ্ঘে যোগদান করানোর কথা ছিল দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মজদুর সঙ্ঘের সভাপতি প্রহ্লাদ সিংহের। মেনস কংগ্রেসের দক্ষিণ-পূর্ব রেলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে আসা সভার আয়োজক অজয় কর বলেন, “আমরা জানতাম, আরএসএস নিয়ন্ত্রিত হওয়ায় বিজেপি সঙ্গেই রয়েছে রেলের মজদুর সঙ্ঘ। তাই সাংসদ দিলীপদা ও বিজেপি নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। সে কথা প্রহ্লাদ সিংকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু এখন  মনে হচ্ছে দিলীপদা-সহ বিজেপির নেতারা আসায় ওঁরা আসেনি।” অবশ্য এ দিন মঞ্চে দিলীপ বলেন, “আমাদের মতাদর্শে যে ট্রেড ইউনিয়ন রয়েছে তা ভারতীয় মজদুর সঙ্ঘ। তার অধীনে চলা দক্ষিণ-পূর্ব রেলের মজদুর সঙ্ঘের সঙ্গে মিলে কাজ করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছেন অজয় করেরা। তাই আমাদের আজ ডেকেছিলেন। সবাই এসেছি। তাঁর সঙ্গে আমরা আছি।” 

কেন গেলেন না? 

প্রহ্লাদ বলেন, “আমরা বলেছিলাম আমাদের অফিসের ভিতরে এই সভা করতে। কারণ, আমরা চাই না অফিস টাইমে ডিআরএম অফিসের সামনে এভাবে সভা হোক। কিন্তু  তা হয়নি। সেই সঙ্গে বিজেপির নেতাদের ডেকেছে। আমাদের সংগঠন অরাজনৈতিক। তাই আমরা সভায় যাইনি।” 

এমন ঘটনায় কার্যত বিড়ম্বনায় পড়েছে ওই রেলকর্মীরা। আগামী দিনে তাঁরা কোন সংগঠনের হয়ে কাজ করবে তা নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। অজয় কর বলেন, “আমরা প্রায় ৬হাজার কর্মী রেল মজদুর সঙ্ঘে যোগ দিতাম। প্রহ্লাদ সিংহ নিজেই আমাদের তাঁদের সংগঠনে যোগ দিতে বলেছিলেন। কিন্তু এ বার আমরা দিলীপ ঘোষের সঙ্গেই আলোচনা করব।” অবশ্য এমন কথা শুনে অজয় করদের আর সংগঠনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রহ্লাদ।

শেষ মুহূর্তে বদলে গেল জার্সি বদল। দিলীপ বলেন, ‘‘ওটা বিএমএসের অনুষ্ঠান ছিল না। কিছু ইউনিয়নের লোক সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য ডেকেছিলেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে গিয়েছিলাম। বিএমএস জানিয়েছে, তাদের সংগঠনে যোগ দেওয়ার অনুষ্ঠান তাদের দফতরে হয়।’’