• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

একাধিক ট্রেন এলেই বাড়ে ভিড় ফুটব্রিজে হুড়োহুড়ি

Foot Bridge
নজর-নেই: এ-ওয়ান স্টেশন খড়্গপুরে সঙ্কীর্ণ একমাত্র ফুটব্রিজে এ ভাবেই চলে যাতায়াত। ছবি: দেবরাজ ঘোষ

দুই স্টেশনেই দ্বিতীয় ফুটব্রিজ বানানোর দাবি দীর্ঘদিনের। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ব্যস্ততম স্টেশন খড়্গপুর হোক বা সদর শহরের স্টেশন মেদিনীপুর, কোথাও তৈরি হয়নি দ্বিতীয় ফুটব্রিজ। বেশি ট্রেন একসঙ্গে এসে গেলেই কাঁপে দুই স্টেশনের একমাত্র ফুটব্রিজ। নজর নেই কারও।

মঙ্গলবার সাঁতরাগাছি রেলস্টেশনে একসঙ্গে একাধিক ট্রেন এসে পড়ায় ট্রেন ধরার জন্য ফুটব্রিজে যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায়। মূলত এক থেকে তিন নম্বর প্ল্যাটফর্মের সংযোগকারী ফুটব্রিজে মূহূর্তের মধ্যে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। ৩ নম্বর প্ল্যাটফর্মের সিঁড়িতে পড়ে যান জনা কুড়ির মতো যাত্রী। তাঁদের উপরেই আছড়ে পড়ে বাকিদের ভিড়। দু’জনের মৃত্যুও হয়।

দক্ষিন-পূর্ব রেলের ‘এ-ওয়ান’ স্টেশন খড়্গপুরে রয়েছে ১২টি প্ল্যাটফর্ম। একই ডিভিশনের অধীনে থাকা ৬টি প্ল্যাটফর্ম বিশিষ্ট সাঁতরাগাছি রয়েছে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে। অথচ সাঁতরাগাছি ফুটব্রিজের থেকেও বেহাল অবস্থা খড়্গপুর স্টেশনের ফুটব্রিজের। সঙ্কীর্ণ এ ফুটব্রিজের সঙ্গে একাধিক লিফ্‌ট ও এসকালেটরও যুক্ত রয়েছে। ফলে সারাদিনই যাত্রীদের
চাপ থাকে।

রেলযাত্রীদের দাবি, সকাল-সন্ধ্যায় দিনের ব্যস্ত সময়ে একসঙ্গে দু’টি ট্রেন এলেই ভিড়ের চাপে পা ফেলা দায় হয়ে ওঠে। সমস্যায় পড়েন মহিলারা। সেই সঙ্গে কাঁপে ফুটব্রিজও। অথচ সব জেনেও রেল কর্তৃপক্ষ নির্বিকার। ১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় ফুটব্রিজ তৈরির কথা ঘোষণার পরে কেটে গিয়েছে আড়াই বছর। অবশ্য দ্বিতীয় ফুটব্রিজ তৈরি হয়নি।

অনেক পুরনো মেদিনীপুর স্টেশনের দক্ষিণ দিকে ফুটব্রিজ রয়েছে। তবে এই স্টেশনে আর একটি ফুটব্রিজের দাবি দীর্ঘদিনের। রোজ প্রায় ৩৫টি ট্রেন চলাচল করে মেদিনীপুর দিয়ে। দিনে প্রায় ৭ হাজার যাত্রী আসা-যাওয়া করেন এখানে। যাত্রীদের আশঙ্কা, একাধিক ট্রেন এসে গেলে হুড়োহুড়িতে যে কোনও সময় বিপদ ঘটতে পারে। রেলের ইউজার্স কনসালটেটিভ কমিটির সদস্য সঞ্জয় হাজরা মানছেন, ‘‘মেদিনীপুরে আরেকটি ফুটব্রিজ হলে ভাল হয়। এই পরিকল্পনাও রয়েছে।’’

রেলের এক সূত্রে খবর, সবদিক দেখেই স্টেশনের পশ্চিমদিকে নতুন একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির পরিকল্পনা করা হয়েছে। পুরনো প্ল্যাটফর্মের সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন একটি ফুটব্রিজ তৈরির পরিকল্পনাও করা হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে দেখা গিয়েছে, খড়্গপুর স্টেশনে দ্বিতীয় ফুটব্রিজ গড়তে জবরদখল সরাতে হবে। সেই কাজে জটিলতা রয়েছে। তার ওপরে যে ঠিকাদার সংস্থাকে রেল দায়িত্ব দিয়েছিল সেই সংস্থাকে কালো তালিকাভুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এখন নতুন করে টেন্ডার ডাকা হয়েছে। খড়্গপুরে সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার কুলদীপ তিওয়ারি বলেন, “আমরা খড়্গপুর দ্রুত দ্বিতীয় ফুটব্রিজ গড়ব। এক জন ঠিকাদারকে বাদ দিয়ে অন্য ঠিকাদার নিয়োগের জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হলেই কাজ  শুরু হবে।”        

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন