তৃণমূল সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তিনি হবেন উপপ্রধান। শুক্রবার সাঁকরাইলের রোহিণীতে প্রধান, উপপ্রধান নির্বাচন শুরু হতেই বদলে গেল ছবিটা। তৃণমূলের উপপ্রধান পদে প্রার্থী সারথী সিংহের নাম প্রধান হিসাবে প্রস্তাব করল বিজেপি। শুরু হল ভোটাভুটি। ১৩ আসন বিশিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতে ৯-৪ ভোটে জিতে প্রধান নির্বাচিত হলেন সারথীদেবীই। প্রসঙ্গত, এই গ্রাম পঞ্চায়েতে ৭টি আসনে জয়ী হয় তৃণমূল। বাকি ৬টি আসন পেয়েছিল বিজেপি।

বিজেপির সমর্থন নিয়ে তৃণমূলের প্রধান নির্বাচনেই নাটকে ইতি নয়। সারথীদেবী উপপ্রধান পদের জন্য বিজেপির যোগেন্দ্রনাথ নায়েকের নাম প্রস্তাব করেন। তৃণমূল শিবির থেকেও উত্তম মাহাতোর নাম উপ প্রধান পদের জন্য প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু ভোটাভুটিতে ৭-৬ ভোটে বিজেপির যোগেন্দ্রনাথ নায়েক উপ প্রধান পদে নির্বাচিত হন। বিজেপির ৬ জন সদস্য এবং সারথীদেবী যোগেন্দ্রনাথবাবুকে ভোট দেন। 

গত বুধবার ঝাড়গ্রামে বৈঠকে এসেছিলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মহাসচিবের অনুমোদনক্রমে ঠিক হয় রোহিণীর প্রধান হবেন সুদীপ্তা কিস্কু এবং উপ প্রধান  হবেন সারথী সিংহ। এ দিনের ঘটনার পর শোরগোল পড়ে যায় তৃণমূল শিবিরে। রোহিণীতে দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে ব্লক সভাপতি সোমনাথ মহাপাত্রকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তৃণমূল কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, সোমনাথবাবুই অন্তর্ঘাত করে গ্রাম পঞ্চায়েতটি বিজেপির হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত করছেন। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে শাসকদলের কর্মীদেরও দফায় দফায় গোলমাল হয়। সুদীপ্তাদেবীর অভিযোগ, “দল থেকে আমাকেই প্রধান করার কথা বলা হয়েছিল। ব্লক সভাপতি সোমনাথ মহাপাত্র বিজেপির সঙ্গে গোপন-বোঝাপড়া করে হাত মিলিয়ে সারথীকে প্রধান করেছেন।” বছর দেড়েক আগে বালি-কাণ্ডে নাম জড়ানোয় ব্লক সভাপতির পদ থেকে সোমনাথবাবুকে সরিয়ে দিয়ে তপন পট্টনায়েককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। পঞ্চায়েত ভোটের সময় সোমনাথবাবু বিজেপি শিবিরে রয়েছেন বলে অভিযোগ করেছিল তৃণমূল। এবার পঞ্চায়েত ভোটে সাঁকরাইল পঞ্চায়েত সমিতির ক্ষমতা দখলের লক্ষ্যে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। ভোটপর্ব মেটার পরে অবশ্য দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমনাথবাবুকেই ফের ব্লক সভাপতির পদে ফিরিয়ে আনেন।

সাঁকরাইল ব্লক তৃণমূলের সভাপতি বলেন, “আমি সামান্য ব্লক সভাপতি। তা-ও প্রধান তো দলের হয়েছে। বিজেপির সদস্যরা কয়েকদিনের মধ্যে দলে যোগ দেবেন। বোর্ড আমাদেরই হবে।” প্রধান পদে নির্বাচিত হয়ে সারথীদেবীও দাবি করেছেন, ‘‘ভোটের আগে থেকেই দল থেকে প্রধান করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কয়েকদিন আগে শুনলাম সুদীপ্তাকে প্রধান করা হবে। আমাকে উপ প্রধান করা হবে। এটা অনেকেই মেনে নিতে পারেননি। সেই কারণেই আমিই প্রধান হয়েছি। বিজেপির সদস্যরা সমর্থন করেছিলেন, তাই ওদের উপ প্রধান প্রার্থীকে সমর্থন করেছি।” আর বিজেপির ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি সুখময় শতপথী বলছেন, “পুলিশ-প্রশাসন ও শাসকদল বিজেপিকে ঠেকাতে নানা চেষ্টা ও কৌশল করছেন। কিন্তু কিছুই কাজে দিচ্ছে না। কারণ কৌশলের পাল্টা কৌশলও আছে।”