এক তরুণীকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগে মৃতার স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেফতার করল পুলিশ। এই অভিযোগকে ঘিরে বৃহস্পতিবার ঝাড়গ্রাম জেলার সাঁকরাইলের ছত্রি অঞ্চলের মুড়াকাটি গ্রামে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটে। স্থানীয় বাসিন্দারা মৃতার শ্বশুরবাড়িতে ভাঙচুর চালান। জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার নাম ঝুম্পা দে (২৮)। ঝুম্পার বাপের বাড়ি স্থানীয় নিশ্চিন্তা গ্রামে। বছর দশেক আগে মুড়াকাটি গ্রামের গৌতম দে-র সঙ্গে সম্বন্ধ করে ঝুম্পার বিয়ে হয়। গৌতম স্থানীয় একটি সমবায় সমিতির ম্যানেজার। এ ছাড়া স্থানীয় একটি হাইস্কুলে আংশিক সময়ের শিক্ষকও তিনি। বাড়িতে একটি কোচিং সেন্টারও চালান গৌতম।

ঝুম্পার বাবা স্বপন মাইতির অভিযোগ, বিয়ের সময় নগদ দু’লক্ষ টাকা, কয়েক ভরি সোনার গয়না ও অন্য যৌতুক দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, বিয়ের পর আরও পণের দাবিতে ঝুম্পার উপর শ্বশুরবাড়ির লোকেরা অত্যাচার করত। স্নায়ুর অসুখে আক্রান্ত হন ঝুম্পা। স্বপনের অভিযোগ, তাঁর মেয়েকে শ্বশুরবাড়িতে মারধরও করা হতে। ঝুম্পা-গৌতমের ৬ বছরের একটি মেয়ে রয়েছে। মেয়ে হওয়ার জন্যও শ্বশুরবাড়িতে ঝুম্পার উপর অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। 

বুধবার নিশ্চিন্তা গ্রামে বাপের বাড়িতে মেয়েকে নিয়ে কয়েক ঘন্টার জন্য গিয়েছিলেন ঝুম্পা। রাতে গৌতম এসে মোটর বাইকে ঝুম্পা ও মেয়েকে নিয়ে যান। স্বপনবাবু জানালেন, বৃহস্পতিবার সকালে জামাই (গৌতম) ফোন করে জানায়, ঝুম্পা খুব অসুস্থ। তাড়াতাড়ি মুড়াকাটিতে যেতে বলে জামাই। স্বপনবাবুরা গিয়ে গিয়ে দেখেন, শোওয়ার ঘরে সিলিঙে ওড়নার ফাঁসে ঝুম্পার দেহটি ঝুলছে। বিষয়টি জানাজানি হতেই এলাকাবাসী জড়ো হয়। উত্তেজিত জনতা গৌতমের বাড়িতে ভাঙচুর শুরু করে। ঘরের জিনিসপত্রে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তদের মারধর করা হয়। পুলিশ গিয়ে লাঠি উঁচিয়ে জনতাকে সরিয়ে দিতে গেলে ক্ষোভ ছড়ায়। এলাকাবাসীরা গৌতম ও তাঁর বাবার মোটর বাইকেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া দেন। আরও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

স্বপনবাবুর অভিযোগের ভিত্তিতে ঝুম্পার স্বামী গৌতম দে, শ্বশুর মৃত্যুঞ্জয় দে ও শাশুড়ি কাজল দে-কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের আজ, শুক্রবার ঝাড়গ্রাম আদালতে তোলা হবে।