• বরুণ দে
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

হোর্ডিংয়ে শুভেন্দুর ছবি ঘিরে জল্পনা

পতাকা বাঁধা কমিটি,  নেপথ্যে কি বঞ্চনা

Tmc,hoarding,Shalboni,Suvendu Adhikary
সেই হোর্ডিং। নিজস্ব চিত্র
জঙ্গলমহলের রাস্তায় একের পর এক হোর্ডিং। মাঝে শুভেন্দু অধিকারীর ছবি। উপরে লেখা, ‘শুভেন্দু অধিকারী জিন্দাবাদ’। নীচে আরও একটি লাইন— ‘লালগড়, পতাকা বাঁধা কমিটি, ৯ অগস্ট ২০১০’। রবিবার সকালে এমন হোর্ডিং দেখা গিয়েছে শালবনির মণ্ডলকুপির কাছে। আর তাতে শোরগোল পড়েছে শাসক দলের অন্দরে। জল্পনা বাড়িয়েছে শুভেন্দুর ছবি দিয়ে লালগড় আন্দোলনের স্মৃতি উস্কে দেওয়ার চেষ্টায়। 
 
পতাকা বাঁধা কমিটি বলে তৃণমূলে কিছু নেই। আর ৯ অগস্ট ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের দিন। ২০১০ সালের ওই তারিখে লালগড়ে সভা করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সে দিন ভাদুতলা থেকে লালগড়গামী রাস্তার দু’দিক দলীয় পতাকায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল। ফলে, হোর্ডিংয়ের বয়ানে স্পষ্ট, সে দিন যাঁরা পতাকা বেঁধেছিলেন, তাঁদেরই কেউ বা কারা ওই হোর্ডিং দিয়েছেন।
 
কিন্তু শুভেন্দুর ছবি কেন?
 
রাজনৈতিক মহলের মতে, এ ক্ষেত্রে দ্বিমুখী উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, লালগড় আন্দোলন, যা রাজ্যে তৃণমূলের ক্ষমতায় আসার পথ সুগম করেছিল, তার সঙ্গে শুভেন্দুর যোগ স্মরণ করানো হয়েছে। দ্বিতীয়ত, পতাকা বাঁধা কমিটির নামে বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, দলের যে সব কর্মী এই সব গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলনে পতাকা বাঁধার কাজ করেন, দলে তাঁদের উত্থান হয় না। এর মাধ্যমে তৃণমূলের সাম্প্রতিক রদবদলে শুভেন্দুর ‘কোণঠাসা’ হয়ে পড়ার যে ব্যাখ্যা সামনে এসেছে, সেই ‘বঞ্চনা’ তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে। কারণ, জেলা তৃণমূল, যুব তৃণমূলের নতুন কমিটিতেও সে ভাবে গুরুত্ব পাননি শুভেন্দু অনুগামীরা।
 
মণ্ডলকুপিতে ৬০ নম্বর জাতীয় সড়কের যে অংশে এই হোর্ডিং পড়েছে, সেই এলাকা বাম-আমলে তৃণমূলের অন্যতম ঘাঁটি ছিল। এখানকার দলীয় কার্যালয়ে বসেই রণকৌশল ঠিক করতেন তৃণমূলের নেতারা। শুভেন্দুও অনেকবার এখানে এসেছেন। তৃণমূলের শালবনি ব্লক সভাপতি নেপাল সিংহের দাবি, ‘‘দলের বৈঠক ছিল। আমি মেদিনীপুরে চলে এসেছি। হোর্ডিংয়ের ব্যাপারে কিছুই জানি না।’’ নেপালের ছেলে, শালবনি পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ সন্দীপ সিংহ যদিও বলছেন, ‘‘হোর্ডিংয়ে শুভেন্দু অধিকারীর ছবি থাকতেই পারে। তবে কমিটির নামটা কেমন ঠেকছে! নিশ্চয়ই দলের কিছু কর্মীই ওই হোর্ডিং দিয়েছেন। নেতৃত্বের উচিত, ওই কর্মীদের সঙ্গে কথা বলা।’’ 
 
এলাকায় খোঁজ করে জানা গেল, হোর্ডিং দিয়েছেন স্থানীয় রাহুল সিংহ রাজপুতরা। রাহুলরা তৃণমূলের পুরনো কর্মী। রাহুল বলেন, ‘‘আমরা চাই, পুরনো দিনের নেতা-কর্মীদের দল যোগ্য সম্মান দিক। শুভেন্দুদাকে দলে সাইড করে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এটা তো আমরা সকলেই বুঝতে পারছি।’’ আর পতাকা বাঁধা কমিটি সম্পর্কে তাঁর ব্যাখ্যা, ‘‘সেই সময় লালগড়ের সভার জন্য শুভেন্দুদা অনেক পতাকা পাঠিয়েছিলেন। আমরা পতাকাগুলি রাস্তার দু’ধারে বেঁধেছিলাম। তাই হোর্ডিংয়ে কমিটির ওই নাম রেখেছি।’’
 
সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসে জঙ্গলমহলের পৃথক দায়িত্বে শুভেন্দুকে আর ফেরাননি তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুভেন্দুও দলীয় কর্মসূচি থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখেছেন। করোনা হওয়ার আগে পর্যন্ত অবশ্য বিভিন্ন সংগঠনের মঞ্চে তাঁকে দেখা গিয়েছে। তাঁর অনুগামীরাও ‘দাদা’র ছবি গলায় ঝুলিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি করে যাচ্ছেন। শুভেন্দুর ‘বঞ্চনা’র প্রতিবাদে সমাজমাধ্যমেও সরব ‘দাদার সৈনিক’রা। শালবনির রাহুলও সমাজমাধ্যমে লিখেছেন, ‘কর্ম করিয়ে কর্মী করে রাখা, সময় হলে বুঝতে পারবেন’। 
 
ব্লক সভাপতির সুরেই তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি যদিও বলেন, ‘‘ওই হোর্ডিংয়ের ব্যাপারে কিছুই জানি না।’’ তবে রবিবার দলের জেলা কমিটির বৈঠকে তাঁর বার্তা, ‘‘দলের মধ্যে বিভেদের রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন