দিঘায় ঢোকার আগে, বাইপাসে স্বামী বিবেকানন্দ মূর্তির সামনে দেখা গেল এক ব্যক্তি লাল পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে। তিনি সেই লাল পতাকা নাড়িয়ে দিঘায় আসা সমস্ত যানবাহন থামিয়ে দিচ্ছেন। গাড়ি থামলেই তল্লাশিতে নেম পড়ছেন দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের অস্থায়ী কর্মীরা। বাস বা গাড়ি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে সেখানে কোনও পলিথিন বা প্লাস্টিক বহন করে আনা হচ্ছে কি না। এমনকী কোনও যাত্রী সঙ্গে করে কোনও পলিথিন বা প্লাস্টিকের প্যাকেট নিয়ে যাচ্ছেন কি না তাও পরীক্ষা করা হচ্ছে। 

বড়দিন ও  ইংরেজি নববর্ষের উৎসবে পর্যটনকেন্দ্র দিঘাকে প্লাস্টিক, পলিথিন ও থার্মোকলের দূষণ থেকে মুক্ত রাখার জন্য এভাবেই  উদ্যোগী হয়েছে দিঘা-শঙ্করপুর  উন্নয়ন পর্ষদ।  

কিছুদিন আগে দিঘায় প্রশাসনিক সভা করতে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছিলেন দিঘাকে ‘ক্লিন’ রাখার জন্য। এ দিন থেকেই তাই দিঘায় ঢোকার মুখে একেবারে গোড়াতেই রীতিমত চেকপোস্ট বসিয়ে প্লাস্টিক, পলিথিন, থার্মোকল আটকাতে নজরদারি শুরু হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্র সৈকত লাগোয়া যে সব পিকনিক স্পট রয়েছে সেগুলি ছাড়া অন্যত্র এবং ঝাউয়ের জঙ্গলে পিকনিক নিষিদ্ধ করেছে পর্ষদ। পর্যটকরা যাতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করতে না পারেন, তার জন্য দিঘার প্রধান রাস্তা থেকে সৈকতে যাওয়ার রাস্তাগুলিতে ব্লকগেট বসাচ্ছে উন্নয়ন পর্ষদ। গেটগুলির কাছে থাকবেন পর্ষদের অস্থায়ী কর্মীরা। কেউ প্লাস্টিক, পলিথিন বা থার্মোকল নিয়ে সৈকতে গেলে তাঁরা তা আটকাবেন। শুধু তাই নয়, অনেক পর্যটক মদ্যপ অবস্থায় সমুদ্রে স্নান করতে নামেন। তাঁদের উপরেও নজরদারি চালাবেন পর্ষদের অস্থায়ী কর্মীরা। 

দিঘার কোথাও দূষণ হলে কিংবা পলিথিন, প্লাস্টিক বা থার্মোকল ছড়িয়ে থাকলে সে সব পরিষ্কারের জন্য ইতিমধ্যেই একটি বেসরকারি সংস্থাকে দায়িত্ব দিয়েছে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ। ওই সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরাও পুরো সৈকত জুড়ে নজরদারি চালাবেন। দূষণ আটকানো ছাড়াও এ বার পর্যটকরা যাতে ওভারলোডেড যানবাহন নিয়ে দিঘায় ঢুকতে না পারেন সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে। দিঘায় ঢোকার মুখে তার জন্য চেকিং শুরু হয়েছে। বাইরে থেকে আসা পর্যটকেরাই নন, দিঘার স্থানীয় দোকানদাররাও যাতে দোকানে পলিথিন, প্লাস্টিক বা থার্মোকল না রাখেন তার জন্য প্রচার করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এবার বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষের মরসুমে দিঘার পরিবেশ দূষণ নিয়ে রীতিমত কড়া এবং সতর্ক পর্ষদ। পর্ষদের চেয়ারম্যান শিশির অধিকারী বলেন, “দিঘাকে এখন আগের চেয়ে আরও সুন্দরী হয়ে উঠেছে। তাই এই পর্যটনকেন্দ্রকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব পর্যটকদেরও।’’