দেড় দশকেরও বেশি আগে মহকুমা হয়েছে এগরা। কিন্তু এখনও এগরা মহকুমাবাসীকে  ফৌজদারি এবং দেওয়ানি মামলার বিচারের জন্য ছুটতে হয় কাঁথি আদালতে। তাঁদের অভিযোগ, মহকুমা শহর হয়েও এগরায় ওই সংক্রান্ত আদালত না থাকায় সমস্যায় পড়ছেন তাঁরা। যদিও প্রশাসন সূত্রের খবর, জমি জটে আটকে রয়েছে এগরা মহকুমা আদালত তৈরির কাজ।   

অবিভিক্ত মেদিনীপুরের প্রশাসনিক কাজকর্মের গতি বাড়াতে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার ২০০২ সালে মেদিনীপুরকে পূর্ব এবং পশ্চিম— দুই ভাগে ভাগ করেছিল। ওই বছরই অবিভক্ত কাঁথি মহকুমার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জন্ম হয় এগরা মহকুমার। ভগবানপুর-১, পটাশপুর এবং এগরা থানার মোট পাঁচটি ব্লকের ৪২টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং এগরা পুরসভা নিয়ে গড়ে ওঠে উঠেছিল ওই মহকুমা। তিনটি থানার ৬৮২টি গ্রামের পাঁচটি সম্প্রদায়ের ভাষাভাষী মানুষদের মিলিত এই বাসভূমি  মহকুমা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করায় প্রশাসনিক কাজকর্ম অনেক সহজ এবং দ্রুত হবে বলে আশা করেছিলেন বাসিন্দারা। কিন্তু ১৬ বছর পার হলেও সেখানে মহকুমা স্তরের আদালত তৈরি হয়নি বলে অভিযোগ। এগরায় আদালত বলতে রয়েছে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের একটি আদালত।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, কাঁথি  দূর হলেও ফৌজদারি এবং দেওয়ানি সংক্রান্ত মামলার কাজ করাতে তাঁদের সেই কাঁথি শহরেই যেতে হচ্ছে। আর অভিযোগ, দুই মহকুমার হাজার হাজার মামলা একটি আদালতের উপরে নির্ভর করায় মামলা নিষ্পত্তি হতে বিচারপ্রার্থীদের দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে হয়। পটাশপুর থানা এলাকার বাসিন্দা সুবীর জানা নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘‘আমার জমি সংক্রান্ত মামলা কাঁথি আদালতে দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন। আদালতে মামলা উঠলে কাক ভোরে বাড়ি থেকে বেরতে হয়। সাইকেলে বাস স্ট্যান্ড গিয়ে দু’বার বাস পরিবর্তন করে আদালতে পৌঁছই। এগরায় আদালত হলে মহকুমাবাসীদের অনেক সুবিধা হবে।’’ সম্প্রতি, এক অভিযুক্তকে কাঁথি আদালতে নিয়ে যাওয়ার জন্য  বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছিলেন পুলিশ কর্মীরা। সে সময় ক্ষিপ্ত জনতা সেই অভিযুক্তকে মারধর করেছিল বলেও অভিযোগ। স্থানীয়দের বক্তব্য, এগরায় মহকুমা আদালত হলে এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনাও এড়ানো যাবে। 

প্রশাসন সূত্রের অবশ্য খবর, এগরা মহকুমাশাসকের অফিসের কাছেই আদালত তৈরির জন্য পাঁচ একর জায়গা চিহ্নিতকরণের কাজ শেষ হয়েছে। জায়গাটি কৃষি দফতরের। তবে ওই জায়গা জেলা বিচার বিভাগকে হস্তান্তরিত করা কাজ এখনও বাকি রয়েছে। ফলে জমি হস্তান্তর না হওয়ায় এখনও আদালত তৈরির কাজ শুরু হয়নি। 

এ বিষয়ে এগরার এক আইনজীবী পার্থসারথি রায় বলেন, ‘‘আদালতের জন্য জমি চিহ্নিত হলেও কেন আদালত হয়নি সেই বিষয়ে আমরা বুঝে উঠতে পারিনি। এগরা মহকুমার সমস্ত মামলা ওই কাঁথি কোর্টে করতে হয়। সেখানে যেতে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি আমাদেরও অনেক সময় অসুবিধা হয়। আমরা চাই এগরা মহকুমায় অবিলম্বে আদালত গড়ে তোলা হোক।’’ 

যদিও এগরা বিধায়ক সমরেশ দাস বলেন, ‘‘ছোট জায়গার কারণে আদালত তৈরির কাজ থমকে রয়েছে। আইনমন্ত্রীকে পুরো বিষয়টি জানানো হয়েছে। আশা করি বিষটি দ্রুত সমাধান হবে।’’ আর এগরার মহকুমাশাসক অপ্রতিম ঘোষ বলেন, ‘‘আদালতের জন্য জমি জরিপ করা হয়েছিল বলে শুনেছি। তবে পুরো বিষয়টি জেলাশাসকের দফতর দেখাশোনা করছে।’’