জঙ্গলমহলের বিধায়করা ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি সফল করার জন্য এলাকায় ঘুরছেন। সামাজিক মাধ্যমে বিধায়কদের অনুগামীরা সেই সব ছবি পোস্ট করছেন। কিন্তু আপাতত ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে নেই ঝাড়গ্রামের তৃণমূল বিধায়ক তথা বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার সুকুমার হাঁসদা। অসুস্থতার জন্য তিনি রয়েছেন কলকাতায়।

চলতি মাসেই ঝাড়গ্রামে গত কয়েকদিনে একাধিকবার দলীয় ও প্রশাসনিক কর্মসূচিতে এসেছিলেন তৃণমূলের জেলা পর্যবেক্ষক তথা মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই সব কর্মসূচি গুলিতে দেখা মেলেনি সুকুমারের। ঝাড়গ্রাম বিধানসভা এলাকায় দিদিকে বলো কর্মসূচি কার্যত কিছুই হয়নি বলে অভিযোগ নিচুতলার তৃণমূল কর্মীদের।  সোমবার টেলিফোনে যোগাযোগ করা হলে সুকুমারে জবাব, ‘‘আমি অসুস্থ।  এসএসকেএম হাসপাতালের চিকিৎসককে দেখাচ্ছি।’’ ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি তাহলে কবে শুরু করবেন? ঈষৎ বিরক্ত সুকুমারের জবাব, ‘‘আগে শরীর, তারপর কর্মসূচি!’’ তা হলে কী ভাবে হচ্ছে ঝাড়গ্রাম বিধানসভা এলাকায় ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি? জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিরবাহা সরেন বলছেন, ‘‘সুকুমারবাবু জানিয়েছেন উনি অসুস্থ। আমি ঝাড়গ্রাম বিধানসভা সহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিদিকে বলো কর্মসূচির প্রচারে যাচ্ছি।’’

জেলায় ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির প্রথম পর্ব শুরু হয় অগস্টের গোড়ায়। ১ অগস্ট ঝাড়গ্রামে দলীয় কর্মীদের নিয়ে কর্মসূচি সফল করার জন্য বৈঠক করেছিলেন সুকুমার। ২ অগস্ট সুকুমার গিয়েছিলেন লালগড়ের ধরমপুর অঞ্চলের রাধানগর ও মহুলবনি গ্রামে। তার পরে আর ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি করেননি তিনি।  সুকুমারের দাবি, তিনি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছেন। তাই ঠিকমত কাজ করতে পারছেন না তিনি। 

শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুকুমার গত কয়েকদিনে খোদ শুভেন্দুর সভা-মিছিলে অনুপস্থিত থাকায় জল্পনা শুরু হয়েছে শাসকদলের অন্দরে। দলের এক প্রবীণ জেলা নেতা বলেন, ‘‘সুকুমারবাবু জ্বর অবস্থাতেও রাজনৈতিক মিছিল-মিটিং করেছেন। এখন কী এমন অসুস্থ হলেন, যে হাসপাতালে ভর্তি না থেকেও আসতে পারছেন না, সেটাই চিন্তার বিষয়।’’ দলের আর এক জেলা নেতা বলেন, ‘‘কয়েকদিন আগে ফেসবুকে বিজেপি-র সাংসদ কুনার হেমব্রমের সঙ্গে সুকুমারের ছবি দেখা গিয়েছিল।’’ সুকুমার ঘনিষ্ঠদের অবশ্য দাবি ছিল, আদিবাসী সমাজের ধর্মীয় একটি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন সুকুমার। সেখানে সাংসদ ছিলেন। দু’জনের মধ্যে তখন সৌজন্য বিনিময় হয়েছিল।’’