হাসপাতালের এমআরআই রিপোর্টের ভিত্তিতে রোগীর অস্ত্রোপচার হল। পরে চিকিত্সক জানালেন, এমআরআই রিপোর্টটি ভুল ছিল। এ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের দরকার ছিল না! ঘটনায় শোরগোল পড়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। 

সোমবার হাসপাতালের সুপার তন্ময়কান্তি পাঁজার দফতরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন রোগী। সুপার তন্ময়কান্তি পাঁজা অবশ্য বলেন, “এমন কোনও অভিযোগ পাইনি।” হাসপাতালের অন্য এক কর্তা অবশ্য মানছেন, “অভিযোগ এসেছে। সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপই করা হবে।” 

ঘটনাটি ঠিক কী? হাসপাতালের এক সূত্রে খবর, গত ৪ অগস্ট বহির্বিভাগে ডাক্তার দেখাতে এসেছিলেন নাসু খান। বছর বাষট্টির নাসু খান খড়্গপুরের ইন্দার পাঁচবেড়িয়ার বাসিন্দা। তাঁর ডান হাতের উপরে প্রচণ্ড ব্যথা করছিল। রোগীর শারীরিক অবস্থা দেখার পরে ডাক্তার এমআরআই করানোর পরামর্শ দেন।

১২ অগস্ট মেদিনীপুর মেডিক্যালের এমআরআই সেন্টারে তিনি এমআরআই করান। ওই রোগীর কথায়, “হাতে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলাম। সব দেখে ডাক্তার এমআরআই করার কথা বলেছিলেন। সেই মতো এমআরআই করাই।” এমআরআই রিপোর্ট দেখে ডাক্তার জানিয়ে দেন, অস্ত্রোপচার দরকার। রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৫ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে ভর্তি হন ওই রোগী। প্রায় দু’সপ্তাহ পরে গত বৃহস্পতিবার তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। পরে রোগীর পরিজনেদের ডাক্তার জানিয়েছেন, এমআরআই রিপোর্ট ভুল ছিল। এ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের দরকার ছিল না। 

নাসু খানের ছেলে মুক্তার খানের দাবি, “অস্ত্রোপচারের সময় একটা সুতো কিনে আনার কথা বলা হয়েছিল। মেদিনীপুরে ওই সুতো ছিল না। আমি কলকাতা থেকে সুতো কিনে আনি। পরে ওই সুতো আমাকে ফেরত দেওয়া হয়।” তাঁর দাবি, “সুতো ফেরত দেওয়া হতেই আমার সন্দেহ হয়। ডাক্তার শুরুতে কিছু বলেননি। পরে জানতে চাই, কেন সুতো ফেরত দেওয়া হল। তখন ডাক্তার জানান, এমআরআই রিপোর্টটি ভুল ছিল। রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি জয়েন্ট আলগা হয়ে গিয়েছিল। আসলে তা হয়নি।” হাসপাতালের এক সূত্রে খবর, এ ক্ষেত্রে অভিযোগের ভিত্তিতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হতে পারে।