• আনন্দ মণ্ডল
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অগভীর নলকূপ বসানোয় নজরদারি

tube well

গরম পড়তেই অকেজো নলকূপ। বাড়ছে জলের সঙ্কট।

নিয়ম না মেনেই বোরো ধানের সেচ ও বিভিন্ন বসতি এলাকায় পানীয় জলের জন্য পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকায় যথেচ্ছ পরিমাণ সাব-মার্সিবল পাম্প বসানো হচ্ছে। ফলে দ্রুত নেমে যাচ্ছে ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর। পরিস্থিতি সামাল দিতে সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা জারি করে, অগভীর নলকূপ বসানোর ক্ষেত্রে জেলার পঞ্চায়েত সমিতিকে নজরদারির চালাতে বলা হয়েছে।

গ্রীষ্মে পানীয় জলের সঙ্কট মেটাতে ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৩৪টি নলকূপ বসানোর জন্য টেন্ডারও ডেকেছে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দফতর। যদিও জেলায় যে সংখ্যক নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে, সেখানে নতুন কয়েকটি নলকূপ বসিয়ে কি আদৌ সমস্যার সমাধান হবে, উঠছে সেই প্রশ্নও।

জেলায় যথেচ্ছ পরিমাণ সাব-মার্সিবল পাম্প বসানোর জেরে সমস্যার কথা স্বীকার করে জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ পার্থপ্রতিম দাস বলেন, ‘‘জেলার বিভিন্ন এলাকায় বোরো চাষ ও পানীয় জলের জন্য সাব-মার্সিবল বসানোর প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা খুবই উদ্বিগ্ন। এরফলে ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর নেমে যাওয়ায় বহু নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সাব-মার্সিবল বসানো নিয়ন্ত্রণের জন্য পদক্ষেপ করা হচ্ছে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘পানীয় জলের সমস্যা মেটাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১৩৪টি মার্ক-টু নলকূপ বসানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয় এটা ঠিক। জলের সমস্যা মেটাতে চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

জলসম্পদ অনুসন্ধান দফতর ও জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূ-গর্ভস্থ জলস্তরের পরিস্থিতি ও লবণাক্ততা বিচার করে জেলার ২৫টি ব্লককে ‘জেনারেল’,  ‘সেমি-ক্রিটিক্যাল’ ও ‘ব্ল্যাক’ এই তিনটি এলাকায় ভাগ করেছে জলসম্পদ অনুসন্ধান দফতর। এগরা -১, ২, পটাশপুর-১, ২, ভগবানপুর-১, ২, কোলাঘাট ও পাঁশকুড়া এই আটটি ব্লক সাধারণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। ময়না ব্লক ‘সেমি ক্রিটিক্যাল জোন’ হিসেবে চিহ্নিত। কাঁথি-১, ২ ও ৩, রামনগর-১, ২, খেজুরি-১, ২ , নন্দীগ্রাম-১, ২, হলদিয়া, সুতাহাটা, চণ্ডীপুর, মহিষাদল, নন্দকুমার, তমলুক ও শহিদ মাতঙ্গিনী এই ১৬ টি ব্লককে ‘ব্ল্যাক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

‘জেনারেল জোন’-এর অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলিতে বর্ষাকালে ভূগর্ভস্থ পানীয় জলের স্তর ১০-১৫ মিটার নীচে থাকে। গ্রীষ্মকালে এই গভীরতা বেড়ে ২৫ মিটারে পৌঁছয়। ‘ব্ল্যাক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে ভূ-গর্ভস্থ জলের লবণাক্ততা বেশি। জেলার উপকূলবর্তী ওই সব এলাকায় ভূ-পৃষ্ঠ থেকে জলস্তরের গভীরতা প্রায় ১২০-১৫০ মিটার।

জলসম্পদ অনুসন্ধান দফতরের জেলার ভূতত্ত্ববিদ আশিস তন্তুবায় বলেন, ‘‘সাধারণত বর্ষাকালে মাটির নীচে জলস্তরের যা গভীরতা থাকে, গ্রীষ্মকালে এই গভীরতা আরও বেড়ে যায়। ফলে গ্রীষ্মকালে জেলার প্রায় সর্বত্র পানীয় জলের নলকূপ অকেজো হওয়ার প্রবণতা থাকে।’’

আশিসবাবু জানান, গ্রীষ্মকালে মাটির নীচে জলস্তর নেমে যাওয়ার অন্যতম কারণ হল, বোরোধান চাষের জন্য বেশি পরিমাণে ভূগর্ভস্থ জলের ব্যবহার। জলসেচের জন্য অনেক সাব-মার্সিবল পাম্প বাসানো হয়। এ ছাড়াও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ক্রমে কমে যাওয়ার জেরেও ভূ-গর্ভস্থ জলে টান পড়ছে। ফলে মাটির নীচে জলস্তর দ্রুত হারে নামছে। তাঁর মতে, ‘‘এই সমস্যা মেটাতে সাব-মার্সিবল পাম্প বসানোর ক্ষেত্রে নজর দিতে হবে। আর পানীয় জলের গভীর নলকূপ বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। তাহলে গ্রীষ্মে নলকূপ অকেজো হওয়ার প্রবণতা আটকানো যাবে।’’

 জেলায় জনস্বাস্থ্য কারিগরি দফতরের অধীনে মোট ১০৮টি পানীয় জল প্রকল্প রয়েছে। এই সব প্রকল্প থেকে জেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় পানীয় জল সরবরাহ হয়। জেলা জনস্বাস্থ্য কারিগরী দফতরের নির্বাহী বাস্তুকার সত্যজিৎ পান বলেন, ‘‘গরমে পানীয় জলের সঙ্কট দূর করতে গ্রামীণ জল সরবরাহ প্রকল্পগুলিকে সচল রাখার জন্য সব রকম চেষ্টা করা হচ্ছে।’’

দফতরের একাংশ কর্মীর মতে, বছর কয়েক ধরে বোরো ধান চাষের সেচের জল ও পানীয় জলের জন্য সাব-মার্সিবল পাম্প বসানোর ক্ষেত্রে নিয়ম শিথিল করা হয়েছে। ফলে জেলার সর্বত্র সাব-মার্সিবল পাম্প বসানোর প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। তার দরুণ ভূ-গর্ভস্থ জলস্তরও দ্রুত হারে নীচে নেমে যাচ্ছে। আর ফলে গ্রীষ্মকালে পানীয় জলের নলকূপ অকেজো হয়ে পড়ছে।

জলসম্পদ অনুসন্ধান দফতর ও  জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলায় ‘সেমি-ক্রিটিক্যাল জোন’ ও ‘ব্ল্যাক জোন’ হিসেবে চিহ্নিত ব্লক এলাকাগুলিতে শুধু বোরো ধান চাষের জলসেচের জন্য অস্থায়ীভাবে সাব-মার্সিবল পাম্প বসানোর জন্য অনুমোদন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে নিয়ম মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত সমিতিগুলিকে সম্প্রতি জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন