মেলালেন তিনি মেলালেন। 

আজ ঝাড়গ্রামে আসছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর কর্মী সম্মেলনের ২৪ ঘণ্টা আগে রবিবার ঝাড়গ্রাম জেলায় তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীকে একসঙ্গে বাইক মিছিল করতে দেখা গেল। 

জেলা তৃণমূলের অন্দরে ঝাড়গ্রাম শহর যুব তৃণমূলের সভাপতি অজিত মাহাতো আর টিএমসিপি-র জেলা কার্যকরী সভাপতি আর্য ঘোষের সম্পর্কের ‘শীতলতা’ অনেকেরই অজানা নয়। তবে এ দিনের বাইক মিছিলে সেই অজিতের বাইকের পিছনে দলীয় পতাকা হাতে বসেছিলেন আর্য। যা দেখে মিছিলে উপস্থিত অনেকেই অবাক হয়ে যান। 

লোকসভা ভোটের আগে আর্যকে ঝাড়গ্রাম বিধানসভার যুব পর্যবেক্ষক করা হয়েছিল। কিন্তু দলীয় সূত্রের খবর, অজিতের অনুগামীরা তখন এই সিদ্ধান্তের প্রবল বিরোধিতা করেন। যার জেরে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব থেকে সরে আসেন আর্য। শুক্রবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে ঝাড়গ্রাম জেলার সব স্তরের দলীয় নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক হয়। সেখানে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে ঝাড়গ্রাম জেলার পর্যবেক্ষক শুভেন্দু জানিয়ে দেন রাজনীতির মাঠে সবাইকে একসঙ্গে চলতে হবে। সেই নির্দেশের ফলেই কী রবিবারের এই ছবি? অজিতের দাবি, ‘‘ও সব গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের গল্প তো সংবাদমাধ্যমের তৈরি করা। আমরা সবাই দলনেত্রী ও শুভেন্দুদার নির্দেশে একযোগে কাজ করছি।’’ আর্য বলেন, ‘‘এ দিন ছাত্র-যুব-র কর্মসূচি ছিল। আমরা সবাই একযোগে বাইক মিছিল করেছি।

নেত্রীর নির্দেশে আজ, সোমবার দুপুরে ঝাড়গ্রামের রবীন্দ্রপার্কে বুথ ভিত্তিক কর্মী সম্মেলন করতে আসছেন শুভেন্দু। ওই সম্মেলনে বুথ স্তর থেকে অঞ্চল, ব্লক ও জেলাস্তরের নেতা ও জনপ্রতিনিধিরা থাকবেন। লোকসভা ভোটে তৃণমূলের হারের পরে ঝাড়গ্রাম জেলা সহ জঙ্গলমহলের বিস্তীর্ণ এলাকা পুরুদ্ধারের দায়িত্ব শুভেন্দুর উপরই সঁপেছেন তৃণমূল নেত্রী। বাম জমানায়  জঙ্গলমহলে তৃণমূলের শক্ত জমি তৈরি করে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। পরে অবশ্য পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার রাজনীতি থেকে সরে যান তিনি। ঝাড়গ্রামের লালগড়ে নেতাই দিবসের বার্ষিক অনুষ্ঠান কিংবা কিছু সামাজিক কর্মসূচির বাইরে তাঁকে এ জেলায় বিশেষ দেখা যায়নি। পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পাওয়ার পরে কয়েকদিন আগে নয়াগ্রামে দলীয় কর্মী বৈঠক ও জনজাগরণ যাত্রা করেছিলেন।  

ঝাড়গ্রাম জেলা তৃণমূলের সভাপতি বিরবাহা সরেন বলেন, ‘‘সোমবার শুভেন্দুদা আসছেন। কর্মী সম্মেলনের পাশাপাশি, উনি জনজাগরণ যাত্রাও করবেন।’’