তৃণমূলের জনসংযোগ কর্মসূচি ‘দিদিকে বলো’ শুরু হয়েছে গত মাসেই। সেই কর্মসূচির সম্পর্কে খোঁজ নিতে দিন কয়েক আগেও ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের (পিকে) দফতর থেকে ফোন পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন জেলার তৃণমূল নেতারা। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকার উন্নয়ন তথা সরকারি প্রকল্পের ময়নাতদন্তে নেমেছে ‘টিম পিকে’। অন্তত তেমনই খবর দলের অন্দরে। আড্ডার ছলে এলাকাবাসীর কাছ থেকে দলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সম্পর্কে তাঁরা খোঁজ খবর নিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।
 
দলীয় সূত্রের খবর, ‘পিকে’র দলের সদস্যারা ঘুরছেন পূর্ব মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায়। সম্প্রতি পিকে’র টিমের সদস্যরা সাধারণ পোশাকে তমলুক শহর এবং শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের একাধিক জায়গায় গিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। জানতে চাইছেন, তাঁরা রাজ্য সরকারের কাজে খুশি কি না। এলাকার কাউন্সিলর, পঞ্চায়েত সদস্যেরা উন্নয়নের কাজে উদ্যোগী কি না, বিপদে পড়ে জনপ্রতিনিধিদের ফোন করলে বা কাছে গেলে সাহায্য পাওয়া যাচ্ছে কি না— এ সব জানতে চাওয়া হচ্ছে।
 
পিকে’র টিমের সদস্যদের সংগ্রহ করা বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হচ্ছে স্থানীয় নেতাদের রিপোর্ট কার্ড। যার ভিত্তিতে দলের পদাধিকারীদের রদবদলের সম্ভবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রের খবর। তৃণমূলের পূর্ব মেদিনীপুর জেলা সভাপতি শিশির অধিকারী বলেন, ‘‘দলকে আরও শক্তিশালী করতে ভোটকুশলীর টিমের লোকেরা এলাকায় খোঁজখবর নিচ্ছেন। বিষয়টি আমাদের নজরে রয়েছে।’’
 
উল্লেখ্য, এবারের লোকসভা নির্বাচনে তমলুক এবং কাঁথিতে তৃণমূল জয়ী হলেও বিরোধীদের সঙ্গে ব্যবধান অনেকটাই কমেছে। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে জেলার ১৬টি বিধানসভার মধ্যে ১৩টিতে জয়ী হয় তৃণমূল। বাকি তিন আসন,  তমলুক, হলদিয়া এবং পূর্ব পাঁশকুড়ায় বিরেধীরা জয়ী হয়। দলীয় সূত্রে খবর, ওই তিন বিধানসভায় দলের হার কেন হয়েছিল, দলের স্থানীয় নেতাদের ভূমিকা কেমন ছিল, তারও খোঁজ নিচ্ছেন পিকে’র দলের সদস্যেরা।
 
এছাড়া, দলীয় সূত্রে খবর, জেলার ওই তিন বিধানসভার স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে মঙ্গলবার কলকাতায় তৃণমূল ভবনে বৈঠক ডাকা হয়েছিল। ওই তিন এলাকায় ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি পালনের জন্য দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। হলদিয়ায় দায়িত্ব সামলাবেন মধুরিমা মণ্ডল। তমলুকে ওই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে চঞ্চল খাঁড়াকে। চঞ্চল বুধবার বলেন, ‘‘আমাকে ছ’টি গ্রামে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছ। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ওই কর্মসূচি পালন করতে হবে।’’