শিক্ষা দফতরের নির্দেশিকা মেনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিল পরিদর্শনে গিয়ে স্কুলের শিক্ষিকা তথা তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুললেন সংশ্লিষ্ট চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের প্রতিনিধি।

শনিবার ঘটনাটি ঘটেছে খড়্গপুরের রবীন্দ্রপল্লি জিএসএফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এ দিন ওই স্কুলেই মিড-ডে মিল পরিদর্শনে গিয়েছিলেন খড়্গপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শকের প্রতিনিধি শিক্ষাবন্ধু অপরাজিতা বিশ্বাস। শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন স্কুলের টিচার ইনচার্জ শাশ্বতী মণ্ডল স্কুলে আসেননি। হয়নি মিড-ডে মিলও। স্কুলে ছিলেন সহ শিক্ষিকা রিঙ্কি ঘোষ। তিনি খড়্গপুর শহরের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলরও।  শিক্ষাবন্ধুর পরিদর্শনের সময়ে রিঙ্কি অসহযোগিতা করেন বলে অভিযোগ। মিড-ডে মিল না হওয়া সংক্রান্ত রির্পোটে শিক্ষাবন্ধু সই করার কথা বললে তিনি সই করেননি। উল্টে বিদ্যালয় পরিদর্শকের প্রতিনিধি আগে থেকে না জানিয়ে কেন স্কুলে পরিদর্শনে গিয়েছেন তা নিয়ে তিনি হইচই করেন। 

শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিন দু’য়েক আগেই শিক্ষা দফতরের পক্ষ থেকে রাজ্যে চক্র স্তরে প্রতিটি বিদ্যালয়ে মিড-ডে মিল পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অনুযায়ী গত শুক্রবার প্রতিটি জেলায় ওই নির্দেশিকা পৌঁছে গিয়েছিল। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, প্রতিটি বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে। কোথাও মিড-ডে মিল বন্ধ বা অনিয়মিত হলে রিপোর্ট দিতেও বলা হয়েছে। এ দিন থেকে সেই পরিদর্শন চালু হয়।

বিষয়টি অবর বিদ্যালয় পরিদর্শককে এ দিনের পুরো বিষয়টি জানালেও পরিদর্শনে যাওয়া শিক্ষাবন্ধু অপরাজিতা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। বিদ্যালয়ের টিচার ইনচার্জকে ফোন করে হলে একজন ফোন ধরে বলেন, “উনি বাইরে গিয়েছেন।” তৃণমূল কাউন্সিলর তথা স্কুলের শিক্ষিকা রিঙ্কিকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, “আমি চিকিৎসকের কাছে এসেছি। এখন কথা বলতে পারছি না।”

খড়্গপুর চক্রের অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক সৌম্যজিৎ মাইতি বলেন, “ওই স্কুলে পরিদর্শনে গিয়ে আমাদের শিক্ষাবন্ধু দেখেছেন মিড-ডে মিল হয়নি। স্কুলের টিচার ইন-চার্জ না থাকায় সহ-শিক্ষিকা রিঙ্কি ঘোষের দায়িত্ব আমাদের রিপোর্টে সই করা। কিন্তু তিনি সই করেননি। তাঁকে না জানিয়ে কেন পরিদর্শন হচ্ছে সেই প্রশ্ন তুলেছেন।’’ বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।