গোয়ালতোড়ের একটি গ্রাম। সপারিষদ জনসংযোগে বেরিয়েছেন বিধায়ক। এরই মাঝে তুমুল বৃষ্টি। গ্রামের মানুষ যে যেদিকে পারলেন মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজলেন। বিধায়কের মাথায় ছাতা ধরলেন তাঁর নিরাপত্তারক্ষী। সঙ্গীসাথী নেতা কর্মীরা কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। বৃষ্টি যখন থামল তখন অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কোনওরকমে কয়েকজন গ্রামবাসীর সঙ্গে দেখা করেই গ্রাম ছাড়লেন বিধায়ক।
 
গড়বেতার ফতেসিংহপুরে ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যেই বিধায়ককে জনসংযোগ সারতে হয়। বিধায়কের মাথায় ছাতা ধরা থাকলেও, সঙ্গী নেতা কর্মীরা বৃষ্টিতে ভিজেই শোনেন মানুষের কথা। ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচিতে গ্রামে গ্রামে চষে বেড়াচ্ছেন তৃণমূলের বিধায়ক থেকে বড়, ছোট সব নেতাই। মানুষের মধ্যে থেকে সাড়াও পাচ্ছেন। কিন্তু জনসংযোগে বাদ সাধছে যে শেষ শ্রাবণের বৃষ্টি! গ্রাম সফরের ‘ভিলেজ কিটসে’ ছাতা না থাকায় অসুবিধায় পড়ছেন বিধায়ক থেকে নেতা - কর্মী সকলেই।
 
‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির জন্য যে ব্যাগ দেওয়া হয়েছে তাতে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া টি শার্ট, ফোন নম্বর দেওয়া কার্ড, মোবাইল বা হাতঘড়িতে লাগানোর জন্য স্টিকার থাকলেও নেই ছাতা। যার ফলে বৃষ্টির মধ্যে জনসংযোগে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে বিধায়ক, নেতা, কর্মীদের। গড়বেতার একটি গ্রামে বিধায়ক আশিস চক্রবর্তীকে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে শুনতে হয়েছে গেঞ্জির বদলে ছাতা দেওয়ার কথা।
 
গোয়ালতোড়ের গ্রামে বিধায়ক শ্রীকান্ত মাহাতোকেও শুনতে হয়েছে একই কথা। গোয়ালতোড়ের পিংবনির গৌরাঙ্গ মাহাতো, গড়বেতার আমকোপার গোবর্ধন সাইনি বলেন, ‘‘বর্ষার সময়ে টি শার্টের বদলে ছাতা দিলে আমাদের মতো চাষিবাসি পরিবারদের খুব কাজে লাগত।’’ জনসংযোগে যাওয়া তৃণমূলের নেতা - কর্মীরাও বলছেন, বর্ষার সময়ে এই কাজে তৃণমূলের প্রতীক বা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি দেওয়া ছাতা দিলে গ্রামবাসীদের মধ্যে আরও আকর্ষণীয় হত  ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচি। তৃণমূলের এক জেলা নেতা বলেন, ‘‘টি শার্টের বদলে ছাতা দিলে বর্ষার সময়ে মানুষের কাজেও লাগত। দল সম্পর্কে মানুষের আগ্রহও বাড়ত।’’
 
বর্ষার সময়ে জনসংযোগে বেরিয়ে ছাতার প্রয়োজনীয়তা বুঝছেন বিধায়কেরাও। গড়বেতার বিধায়ক আশিস বলেন, ‘‘আমাদের যে ব্যাগ দেওয়া হয়েছে সেখানে ছাতা নেই, থাকলে ভালো হত, বৃষ্টির সময়ে সবারই সুবিধা হত।’’ শালবনির বিধায়ক শ্রীকান্তের কথায়, ‘‘ছাতা দিলে তো ভালোই হত। তবে ছাতা নেই বলে জনসংযোগে ব্যাঘাত ঘটছে তা কিন্তু নয়। বৃষ্টির মধ্যেও গ্রামবাসীরা এসে নিজেদের অভাব অভিযোগের কথা খুলে বলছেন।’’ দ্বিতীয় পর্যায়ে জনসংযোগে নামার আগে ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের টিমকে কি জানাবেন ছাতার প্রয়োজনীয়তা? জবাব দেননি দুই বিধায়কই। তৃণমূলের জেলার এক পদস্থ নেতা বলেন, ‘‘দলের শীর্ষ নেতৃত্বের বিষয় এটি। আমাদের কিছু বলার নেই।’’