রাজ্যে পরিবর্তনের পরে ক্যাম্পাসে ক্যাম্পাসে টিএমসিপির দাপট বাড়লেও গোটা বাম আমল জুড়ে রাজ্যের বেশিরভাগ কলেজ ছিল এসএফআইয়ের দখলে। তবে তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীনই পশ্চিম মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামের কয়েকটি কলেজে তাদের ছাত্র সংগঠনের কর্মীরা এখন কোণঠাসা। 

অবস্থা এমন জায়গায় গিয়েছে যে, মূল সংগঠনের থেকে সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগে দিন কয়েক আগে সাঁকরাইল কলেজের টিএমসিপি ইউনিটের একাংশ পদত্যাগ করে দেয়। একই সঙ্গেই টিএমসিপির সাঁকরাইল ও ঝাড়গ্রাম গ্রামীণ ব্লক সভাপতিও পদত্যাগ করেন। টিএমসিপির রাজ্য নেতৃত্ব বিষয়টি প্রথমে জানতেনই না। পরে অবশ্য তাঁরা পদত্যাগীদের সঙ্গে কথা বলে সংগঠনে ফিরিয়ে এনেছেন। এটা যে একটা প্রবণতা সেটা টিএমসিপির নেতারাই আড়ালে মেনে নিচ্ছেন। 

একই সঙ্গে টিএমসিপির দাবি, লোকসভা ভোটের পরে এবিভিপির বিভিন্ন কর্মসূচিতে যাঁদের দেখা যাচ্ছে, তাঁদের অনেকেই আগে এসএফআই করতেন। চন্দ্রকোনা রোড কলেজ-সহ কয়েকটি কলেজে এসএফআই এবিভিপিকে মদত দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন। যদিও এসএফআই সেই দাবি মানতে নারাজ। এসএফআইয়ের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক প্রসেনজিৎ মুদির দাবি, ‘‘বিক্ষুব্ধ টিএমসিপি কর্মীরাই এবিভিপিতে যাচ্ছে। এসএফআই কোথাও ভাঙছে না। বরং নতুন করে গড়ছে। এসএফআইকে ভাঙানোর মতো ক্ষমতা এবিভিপির নেই।’’ এসএফআইয়ের ঝাড়গ্রাম জেলা সম্পাদক সৌতম মাহাতোরও দাবি, ‘‘এবিভিপিতে আমাদের কেউ যায়নি। তবে লোকসভায় বিজেপি জেতার পরে পড়ুয়াদের একাংশ এবিভিপি করছেন। এসব হয়েছে টিএমসিপি-র তোলাবাজি, হামলা-হুমকির জেরে।’’ তিনি জানান, কলেজে কলেজে সংগঠনের নতুন ইউনিট তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। কয়েকটি কলেজে  স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছে।

এবিভিপির অবশ্য দাবি, টিএমসিপি ও এসএফআই দুই ছাত্র সংগঠনই দুর্নীতিগ্রস্ত। তাই তাদের সমর্থকেরা এবিভিপিতে নাম লেখাচ্ছেন। ডেবরা কলেজে ২৫০ জন, বেলদা কলেজে ২০০ জন, খড়্গপুর কলেজে ১০০ জন, পিংলা কলেজে ২০০ জন ও দাঁতন ভট্টর কলেজে ১৭৫ জন পড়ুয়া তাদের নতুন সদস্য হয়েছেন। গেরুয়া ছাত্র সংগঠনের ঝাড়গ্রাম জেলা সংযোজক স্বরূপ ধলের কটাক্ষ, ‘‘নির্বাচিত ছাত্র সংসদ না থাকা সত্ত্বেও গায়ের জোরে কলেজগুলি দখল করে রেখেছে টিএমসিপি। কিন্তু পড়ুয়ারা তাদের সমর্থন করছে না।’’ এবিভিপির খড়্গপুর কলেজের ইউনিট সভাপতি ইন্দ্রজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “সংখ্যা বড় কথা নয়, আমরা ছাত্রদের মনে জায়গা করে নিয়েছি। সেটাই আসল।” এবিভিপির ডেবরা নগর ইউনিটের সভাপতি সুমন সামন্তের দাবি, “আগে যাঁরা টিএমসিপি করতেন তাঁদের অনেকেই এখন বসে গিয়েছেন। কেউ কেউ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।’’ 

চন্দ্রকোনা রোডের টিএমসিপি নেতা মানস নায়েক, গোয়ালতোড় কলেজের টিএমসিপি নেতা বুবাই দুলের পাল্টা দাবি, কলেজে ক্যাম্পাসগুলিতে এবিভিপি সমর্থক পড়ুয়া নেই বললেই চলে। তাই কলেজের সঙ্গে কোনও সম্পর্ক নেই এমন ছেলেদের নিয়ে এসে সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদের ভয় দেখাচ্ছে এবিভিপি। টিএমসিপির পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তীর দাবি, ‘‘আমরা এবিভিপিকে নিয়ে এতটুকুও চিন্তিত নই। ছাত্রছাত্রীরা টিএমসিপির সঙ্গেই আছেন। সাম্প্রদায়িক রাজনীতি তাঁরা মেনে নেবেন না।’’ 

তথ্য সহায়তা: বরুণ দে, কিংশুক গুপ্ত, অভিজিৎ চক্রবর্তী, রূপশঙ্কর ভট্টাচার্য, দেবমাল্য বাগচী