রামনবমী পালনের নির্দেশ দিল যুব তৃণমূল!

বুধবার মেদিনীপুরে যুব তৃণমূলের এক বৈঠক হয়। বৈঠকে সংগঠনের ব্লক সভাপতি এবং জেলা কমিটির সদস্যরা ছিলেন। সেখানেই এই নির্দেশ দেওয়া হয়।

গতবার রামনবমীতে বিজেপির অস্ত্র-মিছিল দেখেছিল রাজ্যবাসী। সামনে পঞ্চায়েত নির্বাচন। বছর ঘুরলে লোকসভা ভোট। বিজেপিকে যে আর জমি ছাড়া হবে না, এই নির্দেশে যেন তাই বুঝিয়ে দিল যুব তৃণমূল। বৈঠক শেষে যুব তৃণমূলের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সভাপতি রমাপ্রসাদ গিরি মানছেন, “আমরা সব এলাকায় রামনবমী পালন করতে বলেছি।” এটা কি বিজেপিকে ঠেকাতেই? রমাপ্রসাদের জবাব, “রামনবমী হিন্দুদের পবিত্র উত্সব। কিছু সাম্প্রদায়িক শক্তি উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করবে। আমরা বলেছি, রামনবমী উত্সবে সামিল হয়ে শান্তিপূর্ণভাবে উত্সব
 উদ্‌যাপন করতে।”

বৈঠকে ছিলেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতিও। অজিতবাবুও বলেন, “রামনবমী কারও একার কিংবা কোনও দলের উত্সব নয়। হিন্দুদের পবিত্র উত্সব।” রমাপ্রসাদের কথায়, “আমরা সনাতন হিন্দু ধর্মের লোক। বিবেকানন্দ আমাদের আদর্শ। কোথাও কোনও গন্ডগোল, সাম্প্রদায়িক উস্কানি, বাইরের লোকের বেশি আনাগোনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করার কথা
বলেছি সকলকে।”

বস্তুত, পশ্চিম মেদিনীপুরেও শক্তি বাড়াতে শুরু করেছে বিজেপি। গতবার রামনবমীতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির বড় মিছিল হয়। চন্দ্রকোনা রোডে মিছিল হয়। মেদিনীপুর ও খড়্গপুরে মিছিল হয়। বিজেপি যে বাড়ছে তা তৃণমূলও বুঝতে পেরেছে। দিন কয়েক আগে দাঁতনে মুকুল রায়ের সভা হয়েছে। পরে দাঁতনে বিজেপির পাল্টা সভা করতে হয়েছে তৃণমূলকে। দাসপুরেও মুকুল রায়ের সভা হয়েছে। এখানেও পাল্টা সভা করতে হয়েছে শাসক দলকে। তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতির অবশ্য বলেন, “একটা রাজনৈতিক দল সভা করবে না? এখানে পাল্টাপাল্টির কি আছে! বিজেপির সভার থেকে তৃণমূলের সভায় ভিড় অনেক অনেক বেশি ছিল।” তাঁর দাবি, “পঞ্চায়েত নির্বাচনে এ জেলায় বিজেপিকে দূরবীন দিয়েও খোঁজা যাবে না।”

এ বারও ঘটা করে রামনবমী পালনের প্রস্তুতি শুরু করেছে বিজেপি। দলের এক সূত্রে খবর, রামনবমীতে মেদিনীপুরে এক মিছিল হবে। মিছিলে থাকবেন দলের রাজ্য সভাপতি তথা খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। অন্য এলাকায়ও বড় মিছিলের প্রস্তুতি শুরু করেছে গেরুয়া-শিবির। রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা, বিজেপিকে রুখতেই যুব তৃণমূলের ওই নির্দেশ। এ দিনের বৈঠক থেকে যুব তৃণমূলের পরামর্শ, মনে রাখতে হবে, পঞ্চায়েত নির্বাচন মানুষের কাছে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়ার এক মাধ্যম। দল যাঁকে প্রার্থী মনোনীত করবে, তাঁকে জেতানো কর্মীদের কর্তব্য। যদি কোনও কর্মী অভিমানে বসে থাকেন, তাঁকে সঙ্গে নিতে হবে কিংবা বিষয়টি দলকে জানাতে হবে। পুরনো-নতুন ঝগড়া নয়। সব ব্লকেই কি রামনবমী পালন হবে? যুব তৃণমূলের জেলা সভাপতি রমাপ্রসাদ বলেন, “সব ব্লকেই রামনবমী পালন হবে। ব্লকগুলো নিজেদের মতো করে এই উত্সব উদ্‌যাপন করবে।”