নাবালিকা ছাত্রীর গণধর্ষণ এবং তার মৃত্যুর ঘটনায় উত্তপ্ত কোলাঘাটের পুলশিটা। পাশাপাশি, এলাকার অভিভাবক এবং মৃতার স্কুলের শিক্ষকদের মধ্যে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তার ছাপ।

গত ২৪ অগস্ট পুলশিটা এলাকায় এক দশম শ্রেণির ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ ওঠে ওই ছাত্রীর প্রেমিক এবং তার পাঁচ সঙ্গীর বিরুদ্ধে। নিগৃহীতার পরিবারের দাবি, অপমানে ওই রাতেই বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ছাত্রীটি। বৃহস্পতিবার রাতে তার মৃত্যু হয়। এই ধরনের ঘটনা এলাকায় এর আগে কখনও ঘটেছে বলে মনে করতেও পারছেন না বাসিন্দারা। 

মৃতা এবং মূল অভিযুক্ত একই স্কুল পড়ত। স্কুলে খারাপ আচরণের জন্য অভিযুক্তকে অবশ্য গত বছর স্কুল থেকে ‘টিসি’ দেওয়া হয়। তার পর থেকে সে আর পড়াশোনা করত না বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। স্কুল পড়ুয়ার এভাবে মৃত্যু এবং গণধর্ষণের ঘটনা অন্য পড়ুয়াদের মধ্যে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষকদের একাংশ। পাশাপাশি, অভিভাবকেরা এলাকা এবং নিজেদের সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘‘যে ভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তাতে বাকি ছাত্রীরা আতঙ্কিত। ওদের মধ্যে মানসিকভাবে ভয় এসেছে।’’ আর এক অভিভাবক শ্যামল সামন্ত বলেন, ‘‘এই ঘটনা স্কুলের বাকি ছাত্র ছাত্রীদের  ওপর একটা খারাপ প্রভাব ফেলবে। ঘটনার নিন্দার ভাষা নেই।’’ পড়ুয়াদের উপরে যাতে ঘটনার কোনও প্রভাব না পড়ে, সে জন্য স্কুলের তরফে একটি কর্মশালা করার পরিকল্পনা করছেন শিক্ষকেরা। মৃতার স্কুলের প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘‘মেয়েটি খুবই শান্ত স্বভাবের ছিল। ওর সঙ্গে যা ঘটেছে, তাতে ইতিমধ্যেই স্কুলের বাকি ছাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ছাত্রছাত্রীদের মন থেকে ভয় দূর করতে বিশেষ প্রশিক্ষণশালা আয়োজন করার কথা ভাবছি আমরা।’’

এ দিন নির্যাতিতা স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর খবর গ্রামে পৌঁছনোর পর তার স্কুলে ছুটি ঘোষণা করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। মৃত ছাত্রীর আত্মার শান্তিতে স্কুলে প্রার্থনা সভা হয়। স্কুলসূত্রে খবর, মৃত ছাত্রী পড়াশোনায় মেধাবী ছিল। স্বভাবেও ছিল শান্ত। সেই ছাত্রীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটবে মানতে পারছেন না কেউই।