• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

সৈকত শহরে ভিড়, শিকেয় করোনা বিধি

Digha,Tourism,Corona
বে-হুঁশ: মুখে মাস্ক ছাড়াই হোটেলে ঢুকছেন এক পর্যটক। নিজস্ব চিত্র
দৃশ্য ১: সস্ত্রীক ঝাড়গ্রাম থেকে বেড়াতে গিয়েছিলেন এক পর্যটক। জিনিসপত্রের ব্যাগ নিয়ে হোটেলে ঢুকতেই থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে দেহের তাপমাত্রা মাপার পাশাপাশি কয়েক ফোঁটা করে জীবাণুনাশক তরল দেওয়া হল সকলের হাতে।
 
দৃশ্য ২: রবিবার দুপুরে সমুদ্রস্নান সেরে ওল্ড দিঘার একটি হোটেলে একসঙ্গে ঢুকলেন তিন বন্ধু। উত্তর ২৪ পরগনার ওই পর্যটক দলের কারও মুখেই মাস্ক ছিল না। তা সত্ত্বেও ঢোকার মুখে হাত জীবাণুমুক্ত করা বা দেহের তাপ মাপা কিছুই করল হোটেল কর্তৃপক্ষ। বস্তুত, করোনা কালে দিঘায় পর্যটকদের প্রতি বেশ কিছু হোটেল কর্তৃপক্ষের এমন অসতর্ক মনোভাবের পাশাপাশি করোনা নিয়ে পর্যটকদের সচেতনায় ঘাটতি হামেশায় চোখে পড়ছে। স্বাভাবিক ভাবে করোনা-সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।     
 
দীর্ঘ লকডাউনের পর পর্যটন ব্যবসার স্বার্থে এবং পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছিল সৈকত শহর দিঘা থেকে মন্দারমণি, তাজপুরের সৈকত। সব জায়গাতেই হোটেলগুলিকে  কঠোর ভাবে করোনা সতর্কতা বিধি মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছিল সরকার। ধাপে ধাপে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ভিড়ের ছবি দেখা গিয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই করোনা সতর্কতা বিধি হোটেল এবং লজগুলিতে সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। যার প্রেক্ষিতে হোটেলগুলি স্বাস্থ্যবিধি ঠিকমতো মানছে কি না তা নিয়ে প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
 
১৫ জুন থেকে সৈকতের পর্যটন কেন্দ্রগুলি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু করোনা সংক্রমণের আতঙ্কে গোড়ায় দিঘা এবং মন্দারমণিতে হোটেল খুলতে বাধা দিয়েছিল স্থানীয়রা। জুলাইয়ের শুরু থেকে আলোচনার ভিত্তিতে সমস্ত হোটেল এবং দোকানপাট খুলে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে ঢোকার মুখে পর্যটক এবং তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগপত্র জীবাণুমুক্ত করা, দেহের তাপমাত্রা মাপার কথা বলা হয়েছিল। এর জন্য হোটেলগুলিতে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।  করোনা সংক্রমণ আটকাতে ওই সব হোটেল ও দোকানগুলি কতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে তা খতিয়ে দেখার জন্য এক প্রতিনিধি দল তৈরি করে দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। ওই প্রতিনিধি দলে হোটেল মালিক সংগঠনের প্রতিনিধির পাশাপাশি স্থানীয় পঞ্চায়েত, দিঘা -শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রতিনিধিও রয়েছেন। মূলত তাঁদের বিভিন্ন হোটেল এবং লজ ঘুরে দেখে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত খুঁটিনাটি তথ্য যাচাই করে দেখার কথা। কিন্তু করোনা স্বাস্থ্যবিধি আদৌ মানা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে ঠিকমতো নজরদারি করা হচ্ছে না বলে মানছে স্থানীয় প্রশাসনও। সে ক্ষেত্রে সংক্রমণ ছড়ানো আশঙ্কা রয়েছে।
 
স্বাধীনতা দিবস থেকে প্রতি সপ্তাহের শেষে  শনি ও রবিবার ছুটি কাটাতে দিঘা ও মন্দারমণিতে পর্যটকদের ভালই ভিড় হচ্ছে। তাই সরকারি স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি সাবধানতা অবলম্বন করা উচিত পর্যটন কেন্দ্রগুলিতে। তবে লকডাউন শিথিল হওয়ার পরে এখনও পর্যন্ত হোটেল কিংবা লজগুলিতে স্বাস্থ্যবিধি কেমন মানা হচ্ছে সে ব্যাপারে হোটেল মালিক সংগঠনগুলিকে নিয়ে প্রশাসনিক মিটিং করা হয়নি বলে দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে। দিঘা হোটেল মালিক সংগঠনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, ‘‘পর্যটন কেন্দ্র চালু হওয়ার সময় সব হোটেল মালিকদের করোনা সম্পর্কিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।  সেই বিধি কতটা কার্যকর করা হচ্ছে তা মাঝেমধ্যে খোঁজ নেয় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদল। তবে শনি ও রবিবার ছুটির দিনে খোঁজখবর নেওয়া তেমন সম্ভব হয় না।’’
 
হোটেল মালিক সংগঠনের এক কর্মকর্তা সুশান্ত পাত্র বলেন, ‘‘জীবনে করোনার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকতে চান সকলেই। তাই সব হোটেলেই জীবাণুমুক্ত করার পরে পর্যটকদের ঢুকতে দেওয়া হয়।’’
 
পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক পার্থ ঘোষ বলেন, ‘‘হোটেল মালিকরা প্রাথমিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। বাকি বিষয়গুলো নিয়ে আগেই হোটেল মালিকদের নিয়ে সভা হয়েছিল। আপাতত দিঘা- শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ এবং স্বাস্থ্য দফতর পরস্পরের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সুরক্ষার বিষয়টি কার্যকর করছে।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন