একসঙ্গে ৯৫ জন এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের বদলির নির্দেশ ঘিরে শোরগোল পড়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরে। প্রশাসনের এক সূত্র মানছে, দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে এতজন এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টের বদলি হল জেলায়। গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে প্রশাসনিকভাবে যে ক’টি পদ গুরুত্বপূর্ণ তারমধ্যে এটি অন্যতম। এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টই পঞ্চায়েত স্তরে বিভিন্ন বিলের চেকে সই করেন। জেলা প্রশাসনের দাবি, এটি রুটিন বদলি।
 
সূত্রের খবর, সম্প্রতি জেলা তৃণমূলের কোর কমিটির বৈঠকে পঞ্চায়েত- দুর্নীতির প্রসঙ্গ ওঠে। কমিটির একাধিক সদস্যের বক্তব্য ছিল, শুধু দলের প্রধান- উপপ্রধানদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকেন একাংশ প্রশাসনিক আধিকারিকও। ঘটনাচক্রে, এরপরই এই বদলি। আগামী শুক্রবারের মধ্যে বদলির নির্দেশ কার্যকর হবে বলে প্রশাসনেরই এক সূত্রে খবর। ওই সূত্র জানাচ্ছে, বুধবার বিকেলে ব্লকগুলির সঙ্গে জেলার এক ভিডিয়ো কনফারেন্স (ভিসি) হয়েছে। সেখানে বদলির প্রসঙ্গ ওঠে।
 
তৃণমূলের জেলা সভাপতি অজিত মাইতি এ নিয়ে কিছু বলতে নারাজ। তাঁর কথায়, ‘‘এটি প্রশাসনিক ব্যাপার।’’ তৃণমূল প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী সংগঠন পশ্চিমবঙ্গ সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের জেলা সম্পাদক অনুপকুমার মান্না বলেন, ‘‘একসঙ্গে অনেকজন এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টকে বদলি করা হয়েছে বলে শুনেছি। নিয়মমাফিকই এই বদলি হয়েছে।’’ সিপিএম প্রভাবিত সরকারি কর্মচারী সংগঠন রাজ্য কো- অর্ডিনেশন কমিটির জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য গঙ্গাধর বর্মন বলেন, ‘‘অনেক সময়ে এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্টদের বিলের চেকে সই করতে বাধ্য করানো হয়।’’ গঙ্গাধরের খোঁচা, ‘‘এ ভাবে কিছু হবে না। আসল রোগ ধরতে হবে।’’
পশ্চিম মেদিনীপুরে ২১১টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। নির্মাণ সহায়ক, এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট, সচিব ও সহায়ক- গ্রাম পঞ্চায়েতস্তরে প্রশাসনিকভাবে এই চারটি পদ গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের এক সূত্রে খবর, জেলায় ১৩৮ জন এগজিকিউটিভ অ্যাসিস্ট্যান্ট রয়েছেন। এরমধ্যে একসঙ্গে ৯৫ জনেরই বদলির নির্দেশ হয়েছে। বদলি করা হয়েছে অন্য ব্লকেই। প্রশাসন এক সূত্রের ব্যাখ্যা, একই এলাকায় কেউ তিন- চার বছর, কেউ চার- পাঁচ বছর, কেউ বা তারও বেশি সময়ে ধরে ছিলেন।
 
লোকসভা ভোট পরবর্তী পর্যালোচনার পরে তৃণমূলের একাংশ নেতাও মানছেন, পঞ্চায়েত স্তরে দুর্নীতিতে রাশ টানতেই হবে। না হলে উন্নয়ন ব্যাহত হবে। দেখা গিয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়স্তরে নজরদারিতে ঘাটতি থাকে। এই বদলির ফলে পঞ্চায়েতের দুর্নীতি আদৌ আটকানো যাবে কি না সে বিষয়ে সন্দিহান একাধিক মহল। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘কোনও দুর্নীতি বরদাস্ত করা হয় না। অভিযোগ এলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। নজরদারি আরও বাড়ানো হচ্ছে।’’ তাঁর মতে, ‘‘নজরদারি আরও পোক্ত হলে দুর্নীতিমুক্ত পঞ্চায়েত গড়ার দিকেও এগোনো যাবে।’’