যাত্রীদের সুবিধা ও নিরাপত্তার দিকে নজর রেখে রসলপুর নদীর উপর কাঁথি-বোগা ভেসেল পরিষেবা চালু হয়েছে। কিন্তু তার পরেও ঝুঁকি নিয়ে মান্ধাতার আমলের ভুটভুটিতে চেপে যাত্রী পারাপার চলছেই। মঙ্গলবার রাতে গেঁওখালিতে নৌকাডুবি কাণ্ডের পর নিরাপত্তার কথা ভেবে রসুলপুরে ভুটভুটিতে অতিরিক্ত যাত্রী ও বাইক পরিবহণ বন্ধের দাবি তুললেন যাত্রীরা। 

কাঁথি ও খেজুরির মধ্যে যাতায়াতের সহজ পথ রসলপুর নদীর উপর ভেসেল পরিষেবা। কারণ, কাঁথি থেকে সড়কপথে হেঁড়িয়া হয়ে খেজুরি যেতে হলে অনেকটা বেশি পথ ঘুরতে হয়। তাই রসলপুর ঘাটের ভেসেল পরিষেবার উপর বহু মানুষ নির্ভর করেন। যাত্রীদের সুবিধা ও নিরাপত্তায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নদীতে ভেসেল পরিষেবা চালু করা হয়। অথচ তারপরেও ভুটুভুটিতে কেন যাত্রী পরিবহণ হচ্ছে, স্বাভাবিক ভাবেই তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ঘাটে ভেসেল পরিষেবা অনেকদিন হল চালু হয়েছে। দিনে একটি মাত্র ভেসেল চলে। প্রতিদিন দুপুর সাড়ে বারোটা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ওই পরিষেবা বন্ধ থাকে। কারণ ওই সময় ভেসেলের চালক ও অন্য কর্মীরা দুপুরের খাওয়াদাওয়া সারেন। দিনের ব্যস্ত এই সময়ে এক ঘণ্টা ভেসেল বন্ধ থাকায় জন্য ভুটভুটিতে পারাপার করতে বাধ্য হন যাত্রীরা। প্রতিবারে ভুটভুটিতে চারটি মোটরবাইক ও অতিরিক্ত যাত্রী বহন করা হয় বলে অভিযোগ। যাত্রীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে প্রতিবাদ করলেও কোনও লাভ হয় না। ফলে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকেই। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে এ ভাবে ঝুঁকি নিয়ে ভুটুভুটিতে পারাপার বন্ধ হোক। সেই সঙ্গে তাঁদের দাবি, ভেসেলে অতিরিক্ত চালক ও প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ করা হোক। তা হলে দুপুর ১২ থেকে দেড়টা পর্যন্ত ভেসেল পরিষেবা বন্ধ রাখতে হবে না। এ ছাড়াও এই ঘাটে দু’দিকের পারাপারে সময়ের ব্যবধান অনেকটা বেশি। ফলে ভিড় বাড়ে। ওই ব্যবধান কমালে ভিড়ও কমবে। যাত্রীদের আরও অভিযোগ, পারাপারের সময় যাত্রীদের জন্য কিংবা নৌকার মাঝিদের জন্য কোনও লাইফ জ্যাকেট থাকে না।

খেজুরির একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক প্রতিদিন কাঁথি থেকে যাতায়াত করেন। তাঁরও দাবি, ‘‘সময়ের ব্যবধান কমানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত চালক নিয়োগ করা হোক। তা হলে ভেসেল বন্ধ রাখার কোনও প্রয়োজন হবে না। ঝুঁকি নিয়ে ভুটভুটিতেও পারাপার করতে হবে না।’’ খেজুরির জনকার বাসিন্দা  তপন সামন্ত ব্যবসার জন্য প্রতিদিন এই ঘাট দিয়ে কাঁথিতে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, ‘‘ভেসেল পরিষেবা বন্ধ না করে বরং ঝুঁকি নিয়ে ভুটভুটিতে পারাপার বন্ধ করা হোক।’’ 

রসুলপুর ঘাটে যাত্রী পরিবহণের জন্য টেন্ডার দেয় পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদ। জেলা সভাধিপতি দেবব্রত দাস বলেন, ‘‘এ বিষয়ে খোঁজ নিচ্ছি। কোনও ভাবেই যাত্রীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাহ্য করা যাবে না। প্রয়োজনে এখানে আরও একটি ভেসেল নামানো হবে।’’