মহিলা এবং তাঁর কিশোরী মেয়ের সঙ্গে অভব্য আচরণ করা হয়েছে— এই অভিযোগে দুই ফেরিওয়ালাকে গণধোলাই দিলেন গ্রামবাসীরা। রবিবার রাতে দেশপ্রাণ ব্লকের শ্যামচকের ওই ঘটনায় কোনও অভিযোগ দায়ের না হলেও দুই ফেরিওয়ালাকে আপাতত আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের খবর, আটক দুই ফেরিওয়ালার এক জনের বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনার ইন্দ্রনারায়ণপুর গ্রামে। অন্যজন নদীয়ার নবদ্বীপের বাসিন্দা। মাস দুয়েক আগে ওই দুই ফেরিওয়ালা কাঁথিতে আসেন। তাঁরা অটো রিকশায় করে বাসনপত্র, এবং রান্নার নানা সরঞ্জাম ফেরি করেন। রবিবার রাতে ওই দু’জন পেটুয়াঘাট এলাকায় জিনিসপত্র ফেরি করে কাঁথি-রসলপুর সড়ক ধরে কাঁথির দিকে ফিরছিলেন। সেই সময় তাঁদের অটোকে যাত্রীবাহী অটো ভেবে সিকদারচক বাজারের কাছে এক মহিলা এবং তাঁর কিশোরী মেয়ে তাতে ওঠেন। 

মহিলা এবং কিশোরীর মুকুন্দপুরে নামার কথা ছিল। কিন্তু মুকুন্দপুর আসার আগেই শ্যামচক বাজারের কাছে ওই মহিলা অটো রিকশা থেকে রাস্তায় পড়ে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয়েরা। কিছুক্ষণ পরেই তাঁর মেয়েও অটো রিকশা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং চিৎকার শুরু করে। তা শুনে এলাকাবাসীরা ছুটে আসেন।  তাঁরা অটো রিকশা এবং দুই ফেরিওয়ালাকে আটক করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই কিশোরী স্থানীয়দের জানায়, রুমালে কিছু মাখিয়ে ফেরিওয়ালারা তার মায়ের নাকে ধরেছিল। তাতেই জ্ঞান হারিয়ে তিনি রাস্তায় পড়ে যান বলে অভিযোগ। ওই কিশোরীকেও একই ভাবে রুমাল দিয়ে চেপে ধরে ফেরিওয়ালারা  গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে অভিযোগ। দাবি, কিশোরী সুযোগ বুঝে ফেরিওয়ালার হাতে কামড়ে দিয়ে অটো থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বিষয়টি শুনে স্থানীয়েরা দুই ফেরিওয়ালাকে গণপিটুনি দেন।  ভাঙচুর করা হয় অটো রিকশা। কাঁথি দেশপ্রাণ পঞ্চায়েত সমিতির সহ- সভাপতি তরুণ জানা বলেন, “ফেরিওয়ালাদের অসৎ উদ্দেশ্য ছিল বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তার জন্য তাঁরা ওঁদের মারধর করেছেন বলে শুনলাম।’’

পরে মারধরের খবর পেয়ে কাঁথি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তারা ওই দুই ফেরিওয়ালাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, এখনও ওই ঘটনায় কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি।