রেলের অনুমোদিত এজেন্ট নয়। অভিযোগ, ব্যক্তিগত ভুয়ো অ্যাকাউন্টের মাধ্যমেই টিকিট কেটেই চলছিল কালোবাজারি। সাধারণ টিকিটের পাশাপাশি তৎকাল টিকিট কেটেও অতিরিক্ত দামে বিক্রির ফাঁদ পেতেছিল তারা। আর এমন অভিযোগেই দুই যুবককে গ্রেফতার করল রেলের অপরাধদমন শাখা।

 বৃহস্পতিবার বিকেলে খড়্গপুরের কলাইকুণ্ডা থেকে পেশায় ব্যবসায়ী রোহিত পাণ্ডে ও পৃথ্বীরাজ সিংহ নামে ওই দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পৃথক দু’টি সাইবার ক্যাফের আড়ালে ভুয়ো টিকিট বিক্রির ফাঁদ পেতেছিল ওই দুই যুবক। দূরপাল্লার ট্রেনের সংরক্ষিত আসনের টিকিটের কারবার চলছিলই। তবে বছর কয়েক ধরেই তাঁরা তৎকাল টিকিটের কালোবাজারির ফাঁদ পেতে বসে। রীতিমতো একাধিক ব্যক্তিগত ভুয়ো ইউজার আইডি দিয়ে তৎকাল টিকিট হাতিয়ে নিয়ে অতিরিক্ত দামে যাত্রীদের বিক্রি করত তারা। এমন অসাধু কারবার এত দিন নজরে পড়েনি রেলের।

গত ৪ অক্টোবর থেকে অভিযানে নেমে ‘রেড মির্চি’ নামে বেআইনি সফটওয়্যারের কথা জানতে পারে রেলের অপরাধদমন শাখা। অভিযোগ, ওই সফটওয়্যার দিয়েই স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে কয়েক সেকেন্ডেই ভুয়ো ব্যক্তিগত ইউজার আইডি ব্যবহার করে তৎকাল টিকিট হাতিয়ে নিচ্ছে এই ভুয়ো এজেন্টরা। ঘটনায় ইতিমধ্যেই খড়্গপুর ডিভিশনে ১৫টি মামলা রুজু করে ১৬জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ বার ফের দু’জন যুবককে গ্রেফতার করা হল।

রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন অপরাধদমন শাখার ইন্সপেক্টর সুরেশ কুমার ও সিজিং অফিসার গণেশচন্দ্র মল্লিকের নেতৃত্বে কলাইকুণ্ডায় হানা দেয় একটি দল। স্থানীয় দুই এজেন্টের খোঁজ পেয়ে অভিযান চলে। অভিযানে রোহিতের থেকে ২৮ হাজার ১৭৫ টাকা মূল্যের ১৪টি তৎকাল টিকিট, ১১টি ভুয়ো ইউজার আইডি, একটি কম্পিউটার, প্রিন্টার বাজেয়াপ্ত হয়। ধৃত পৃথ্বীরাজ সিংহের থেকে ৬ হাজার ৩৪৪ টাকা মূল্যের ৯টি তৎকাল টিকিট, ৩টি ভুয়ো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট, ১টি ল্যাপটপ, নগদ ১০ হাজার ৭০০ টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। এর পরে সকলকে নিয়ে যাওয়া হয় খড়্গপুরের অপরাধদমন শাখার প্রধান কার্যালয়ে। পরে টাটানগর শাখায় আরও এমন অভিযান চলবে বলে জানিয়েছেন অপরাধদমন শাখার আধিকারিকেরা।