সাত-সকালে ঝাড়গ্রাম শহরের অদূরে ধবাধোবিন গ্রামে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল তিনটি নেকড়ে। তার মধ্যে একটি বাড়ি-বাড়ি হানা দিচ্ছিল। ধবাধোবিন গ্রামে একটি ঘরে রান্নাঘরে ঢুকে পড়ে ওই নেকড়ে। কামড়ে দেয় এক বৃদ্ধাকে।
 
এরপর গ্রামবাসীরা তাড়া করলে নেকড়ের দল নকাট গ্রামের দিকে পালায়। পরে ওই নকাট গ্রামেই একটি পুরুষ নেকড়েকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে বন দফতর। মৃত নেকড়েটির মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঝাড়গ্রামের ডিএফও বাসবরাজ হোলেইচ্চি বলেন, ‘‘নেকড়ের হামলায় এক মহিলা জখম হয়েছেন। নেকড়েটির মৃত্যু হয়েছে। দেহটি উদ্ধার করে আনা হয়েছে। বনকর্মীরা এলাকায় নজরদারি চালাচ্ছেন।’’
 
বুধবার এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, গ্রামবাসীরা তির, রামদা, টাঙি, বল্লম নিয়ে বাড়ির দরজা পাহারা দিচ্ছেন। কারণ, একটি নেকড়ে মারা গেলেও পালের আরও দু’টি নেকড়ে গ্রাম লাগোয়া জঙ্গলে রয়েছে বলে দাবি এলাকাবাসীর। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাত বিরেতে হাতি গ্রামে হানা দেয়। এখন দিনের বেলা হানা দিচ্ছে নেকড়ে। 
 
বন দফতর ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ছ’টা নাগাদ ধবাধোবিন গ্রামের বছর পঁচাত্তরের বৃদ্ধা প্রতিমা দাস বাড়ির উঠোন লাগোয়া রান্না ঘরে দাঁড়িয়েছিলেন। পাঁচিল ঘেরা উঠোনের পিছন দিকের দরজাটি খোলা ছিল। ওই দরজা দিয়ে একটি নেকড়ে ঢুকে পড়ে প্রতিমার রান্না ঘরে। নেকড়েটি প্রতিমার বাঁ পা কামড়ে ধরে। প্রতিমার ছেলে তারক দাস ও স্বপন দাস বলেন, ‘‘মায়ের চিৎকারে ছুটে গিয়ে দেখি নেকড়েটা মায়ের পায়ে কামড় বসিয়েছে।’’ তারক লাঠি নিয়ে তাড়া করায় নেকড়েটি পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যায়। এরপরই গ্রামে তাণ্ডব শুরু করে নেকড়েটি। জখম প্রতিমাকে ঝাড়গ্রাম জেলা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
 
গ্রামবাসীরা জানান, তিনটি নেকড়ের মধ্যে একটি পুরুষ নেকড়ে হিংস্রভাবে হানা দিচ্ছিল। ওই নেকড়েটি ধবাধোবিন গ্রামের বিশ্বজিৎ দাস ও শশধর মাহাতোর বাড়ির উঠোনে বাঁধা দু’টি গরু ও প্রশান্ত মাহাতোর দু’টি মোষকে কামড়ে দেয়। ফটিক মাহাতোর উঠোনে ঢুকে একটি হাঁসকে খেয়ে নেয়। তাড়া খেয়ে ‌নেকড়ের দল পালিয়ে যায় নকাট গ্রামের দিকে। কিন্তু দুপুরের দিকে হিংস্র নেকড়েটি নকাট গ্রামে হানা দিতে থাকে। স্থানীয় সূত্রের খবর, নেকড়েটিকে লক্ষ্য করে টাঙি ছোড়া হলে মাথায় আঘাত লেগে পড়ে যায় প্রাণিটি। এরপরে কিছু লোকজন বল্লম দিয়ে আঘাত করে নেকড়েটিকে মেরে ফেলেন বলে অভিযোগ। কয়েক মাস আগে ঝাড়গ্রামের ওই এলাকায় নেকড়ের হামলায় কয়েকজন জখম হন। পরে তিনজনের মৃত্যু হয়।
 
বন দফতরের অনুমান, খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে হানা দিয়েছিল নেকড়েগুলি। ওই নেকড়েটির হিংস্র আচরণের কারণ ময়নাতদন্তে জানা যাবে বলে জানিয়েছে বন দফতর।