এক মহিলাকে মারধরের অভিযোগ উঠল কাঁথির এক ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, ওই সেন্টারে রক্ত পরীক্ষা করাতে যাওয়া ওই মহিলার মাথার চুল উপড়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই মহিলা।

পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্রের খবর, কাঁথির মনোহরচকের বাসিন্দা রেখা পাণিগ্রাহী নামে ওই মহিলা বৃহস্পতিবার ব্লাডসুগার পরীক্ষার জন্য সকাল ১০টা নাগাদ স্কুল বাজার এলাকার ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যান। রেখার দাবি, তাড়া থাকায় তিনি রক্তের পরীক্ষা দ্রুত করার জন্য অনুরোধ করেছিলেন। অভিযোগ, এতেই চটে যান ওই সেন্টারের মালিক কমল মণ্ডল। এর পরেই মনোহরচকের এক বাসিন্দা বাচ্চু খান এবং কমল মিলিতভাবে রেখাকে মারধর করেন বলে অভিযোগ। কিল,  চড়,  ঘুষি মারার পাশাপাশি রেখার মাথার চুলও  উপড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। 

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন রেখার স্বামী অমলেন্দু পাণিগ্রাহী। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মী।  অভিযোগ, ঘটনার প্রতিবাদ করায় অভিযুক্তেরা অমলেন্দুকেও মারধর করেন। গলার মাফলার দিয়ে তাঁর শ্বাসরোধ করার চেষ্টা কর হয় বলে অভিযোগ। এর পরেই অমলেন্দু এ ব্যাপারে কাঁথি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। 

রেখা এ দিন বলন, “রক্তের রিপোর্ট আজই চিকিৎসককে দেখাব ভেবেছিলাম। তাই রিপোর্ট তাড়াতাড়ি দেওয়ার জন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনুরোধ করেছিলাম। তার বদলে এমন মারধর খাওয়া এবং মাথার চুল খোয়াতে হবে ভাবিনি। দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।’’ অমলেন্দুর অভিযোগ, “স্ত্রীকে ওরা বেদম মারধর করেছে। আমার স্ত্রী ঘটনাস্থলে পড়ে যান। মারের চোটে চিৎকার করেন। তা শুনে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আসা  এবং রাস্তা দিয়ে যাওয়া মানুষজন স্ত্রীকে উদ্ধার করেন।’’

ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক তথা অভিযুক্ত কমল অবশ্য পুরো ঘটনা অস্বীকার করেছে। তিনি বলেন, “এ দিন এমন কোনও ঘটনা আমার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘটেনি। তবে এক মহিলা আমাকে ফোনে জখম হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। এর বেশি কিছু জানি না।’’

কাঁথি থানার পুলিশ ওই ঘটনায় এক অভিযুক্তকে আটক করেছে। জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইন্দ্রজিৎ বসু বলেন, “ওই ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অবশ্যই পদক্ষেপ করা হবে।’’