কারও ফোন পেয়ে রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে গিয়েছিলেন এক যুবতী। অনেক্ষণ পরেও না ফেরায় শুরু হয় খোঁজ। সে সময়ই গলা কাটা অবস্থায় উদ্ধার হয় ওই যুবতীর দেহ। ডেবরার লোয়াদার কাঁকরা আত্মারাম গ্রামের ওই ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে যুবতীর জামাইবাবুকে। তদন্তে উঠে এসেছে ত্রিকোণ প্রেমের তত্ত্ব।  

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, নিহতের নাম আলোমণি মুর্মু (২৮)। পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের সংসারে আলো ছোট মেয়ে। দিদিদের বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। তাঁর এখনও বিয়ে হয়নি। পাশের  গ্রাম মনোহরপুরে একটি জমিতে চাষবাদ করতেন আলো। থাকতেন ওই গ্রামেই দিদির শ্বশুরবাড়িতে। দিন কয়েক আগে আলো কাঁকরা আত্মারাম গ্রামে নিজের বাড়িতে এসেছিলেন।

পরিজনেদের দাবি, মঙ্গলবার রাতে একটি ফোন আসলে কথা বলতে বাড়ির বাইরে যান আলো। দীর্ঘক্ষণ না ফেরায় খোঁজ শুরু করেন পরিজন। তখন বাড়ির অদূরে পুকুর পাড়ে কলাগাছের ঝোপে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। অভিযোগ, তাঁর গলায় ধারাল অস্ত্রের কোপ ছিল।  আলোর ভাই মঙ্গল মুর্মু ঘটনায় খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। তিনি বলেন, “বাড়ি থেকে ফোনে কথা বলতে-বলতে বেরিয়ে যায় দিদি। রাতে ফিরে না আসায় খোঁজ করতে গিয়ে দেখি এমন কাণ্ড।’’ তদন্তে পুলিশ মনোহরপুরের বাসিন্দা তথা আলোর জামাইবাবু রাজু হেমব্রমকে গ্রেফতার করে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে তারা জানতে পারে যে, মনোহরপুরে জামাইবাবুর বাড়িতে থাকার সময়ই আলোর প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিল রাজু। আলোর সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক যুবকের সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ বাড়ছিল বলেও জানতে পারে পুলিশ। 

পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক খুনের ঘটনায় যুক্ত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেয় রাজু। কিন্তু ওই যুবকের মোবাইলে ফোন করে ‘সুইচ অফ’ পাওয়া যাওয়ায় সন্দেহ বাড়ছিল পুলিশের। রাজুকেও সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ দেয়নি তারা। রাত থেকে রাজুকে নানা প্রশ্ন করতে থাকেন পুলিশ আধিকারিকেরা। জেরায় রাজু জানায়, আলোকে সে পছন্দ করত। কিন্তু আলোর সঙ্গে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার যুবকের যোগাযোগ বাড়তে থাকায় শ্যালিকা-জামাইবাবুর সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওই রাতে ফোনে আলোকে বাড়ির বাইরে ডেকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় রাজু। কিন্তু আলো প্রত্যাখ্যান করায় ধারাল ছুরি দিয়ে গলার নলি কেটে দেয় সে। আলোর ভাই মঙ্গল বলেন, “শুনলাম জামাইবাবু দিদির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে চাইছিল। দিদি প্রত্যাখ্যান করায় ওঁকে খুন করেছে।”  

খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজি সামসুদ্দিন আহমেদ বলেন, “প্রেমের প্রস্তাবে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ওই যুবতীকে গলার নলি কেটে খুন করেছে তাঁর জামাইবাবু। আমরা জামাইবাবু রাজু হেমব্রমকে গ্রেফতার করেছি। ধৃত জেরায় ঘটনার কথা স্বীকার করেছে।”