• কিংশুক গুপ্ত
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

চাকরি পেতে ‘দিদিকে বলো’য় ফোন মৃত শিক্ষকের ছেলের

teacher
নাদিরা পরভিন। নিজস্ব চিত্র

Advertisement

কর্মরত অবস্থায় মৃত এক শিক্ষকের পরিবারকে চাকরি থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ। প্রায় দশ বছর হতে চলল চাকরির প্রত্যাশায় দিন গুনছে সংখ্যালঘু ওই পরিবার। কোনও মহল থেকে সাড়া না-পেয়ে ‘দিদিকে বলো’ নম্বরে ফোন করে নিজেদের দুর্দশার কথা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করেছেন মৃত শিক্ষকের বড় ছেলে। 

ঝাড়গ্রাম ব্লকের আগুইবনি গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত একতাল ডিএম উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহ-শিক্ষক ছিলেন নজলুর রহিম। কর্মরত অবস্থায় ২০১০ সালের ১৯ মার্চ প্রয়াত হন নজলুর। অগ্নাশয়ের সমস্যায় অসুস্থ নজলুরের চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের খরচ হয়ে গিয়েছিল কয়েক লক্ষ টাকা। ৫৬ বছর বয়সে কর্মরত অবস্থায় মৃত্যু হয় নজলুরের। স্বামীর মৃত্যুর পরে বেকার দুই ছেলেকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েন নজলুরের স্ত্রী নাদিরা পরভীন। কর্মরত অবস্থায় ওই শিক্ষকের মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের একজনের চাকরি পাওয়ার কথা ছিল। চাকরির জন্য স্কুলশিক্ষা দফতরে নিয়ম মাফিক আবেদন করেছিলেন নজলুরের বড় ছেলে রাসেল রহিম। ওই সময় রাসেল ছিলেন উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ। তবে তাঁর ভাই গালিব ছিলেন স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ। রাসেলকে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগের জন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়। নজলুরের বিধবা স্ত্রী নাদিরা পরভিন জানান, প্রক্রিয়া চলাকালীন শিক্ষা দফতর থেকে জানানো হয়, তিনি যে পরিমাণ ফ্যামিলি পেনশন পান, তাতে পরিবারের কাউকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয়। এই যুক্তি দেখিয়ে আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়।

২০১৪ সালে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন রাসেল। কিন্তু আদালতের সিঙ্গল বেঞ্চের রায় রাসেলের বিপক্ষে যায়। নাদিরা বলেন, ‘‘স্বামীর চিকিৎসায় বহু টাকা খরচ হয়ে গিয়েছিল। তাই ডিভিশন বেঞ্চে আর আপিল করা করা সম্ভব হয়নি।’’ নাদিরার অভিযোগ, শিক্ষা দফতর ইচ্ছে করলে স্নাতকোত্তর যোগ্যতা অনুযায়ী তাঁর ছোট ছেলে গালিব রহিমকেও চাকরি দিতে পারত। সেটাও হয়নি। 

ঝাড়গ্রাম শহরের রঘুনাথপুরের বাসিন্দা নাদিরা জানালেন, দুই বেকার ছেলে এখন বর্ধমানে মামার বাড়িতে ছোটখাটো ব্যবসা করছেন। নাদিরা তাঁর ভাইদের সাহায্যে সংসার চালাচ্ছেন। এরমধ্যে ২০১৭ সালে নাদিরার ফ্যামিলি পেনশন ৪০% কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা দফতরের যুক্তি, কর্মরত অবস্থায় কারও মৃত্যু হলে সাত বছর পুরো পেনশন দেওয়া হয়। তার পরে নিয়ম অনুযায়ী পেনসনের ৪০% কমে যায়। গত অক্টোবরে দিদিকে বলো নম্বরে ফোন করেছিলেন রাসেল। নাদিরা বলেন, ‘‘দিদিকে বলো থেকে সমস্যা মেটানোর জন্য আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাই আশায় আছি। এখন মুখ্যমন্ত্রীই একমাত্র ভরসা।’’ 

একতাল ডিএম উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষক জয়দীপ হোতা বলেন, ‘‘আমি সদ্য দায়িত্বে এসেছি। বিস্তারিত জানা নেই।’’ স্কুলশিক্ষা দফতরের বক্তব্য, আবেদনের ক্ষেত্রে পদ্ধতিগত কোনও ত্রুটি থাকার কারণে সমস্যা হতে পারে। কারণ, নাদিরার সম পরিমাণ পেনশন প্রাপকদের ক্ষেত্রে উত্তরাধিকার সূত্রে 

চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা থাকার কথা নয়। ঝাড়গ্রামে জেলাশাসক আয়েষা রানি বলেন, ‘‘ওই শিক্ষকের পরিবারকে কী ভাবে সাহায্য করা যায় সেটা আমরা দেখছি।’’

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন
বাছাই খবর

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন